এই ৭ কারণে বছরের যেকোনো সময়ই বেড়াতে যেতে পারেন বরিশাল অঞ্চলে

সমুদ্র, নদী-নালা, খাল-বিল আর বনবনানি নিয়ে বরিশাল। ইতিহাস–ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক অঞ্চল। এই শরতে তো বটেই বছরের যেকোনো সময়ই আপনার গন্তব্য হতে পারে দক্ষিণাঞ্চল। জানাচ্ছেন সজীব মিয়া

১. লঞ্চযাত্রা

ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল
ফাইল ছবি

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ভোলা ছাড়া বরিশাল বিভাগের অন্য জেলাগুলোতে সড়কপথেই দ্রুত যাওয়া যায়। তবে বরিশালের মতো নদীনির্ভর অঞ্চলে নৌপথে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটাই আলাদা। বর্ষা শেষে নদীও অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকে। সদরঘাট থেকে রাতের লঞ্চে চলে যেতে পারেন বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি বা বরগুনা। সকালে পৌঁছে দিনের শুরু থেকেই ঘোরাঘুরি করা যায়।

২. শাপলার বিল–ভাসমান বাজার

সাতলা বিলে ফুটেছে লাল শাপলা। চোখজুড়ানো সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকেরা। গত রোববার সকালে
ছবি: প্রথম আলো

বরিশালের উজিরপুরের সাতলা বিল শরতে হয়ে ওঠে লাল শাপলার অপূর্ব এক রাজ্য। এক দিনের ভ্রমণে ঘুরে আসতে পারেন হালের জনপ্রিয় এই জায়গা। ঝালকাঠির ভিমরুলি ও পিরোজপুরের আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারাবাগান ও বাজারের জন্য আলাদা খ্যাতি অর্জন করেছে। বর্ষায় পর্যটকের আনাগোনা বাড়লেও বছরজুড়েই বসে এসব ভাসমান বাজার। সরু খাল বেয়ে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য নৌকায় করে এনে বাজারে বিক্রি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু এই দুটি বাজার নয়, বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন জলপথেই মেলে এমন ভাসমান বাজারের দেখা। জলপথনির্ভর জনপদের জীবনযাত্রা দেখতে তাই যেকোনো সময় ঘুরে আসতে পারেন এসব অঞ্চল।

৩. ঐতিহ্য দর্শন

পুকুরের পানিতে চার্চের প্রতিবিম্ব
ছবি: মো. সাইয়ান

বরিশাল শহরের পুরোনো স্থাপত্যও দেখার মতো। শহরে অক্সফোর্ড মিশন এপিফ্যানি চার্চসহ ঔপনিবেশিক সময়ের বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। এর বাইরে বরিশালের লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি, কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ, মোগল ব্রিজ, ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়া জমিদারবাড়ি, কীর্তিপাশা জমিদারবাড়ি, নলছিটির সুজাবাদ কেল্লা, বেতাগীর বিবিচিনি মসজিদ ও পিরোজপুরের রায়েরকাঠি জমিদারবাড়ির মতো ঐতিহাসিক স্থাপনাও রয়েছে। বরিশালের দুর্গাসাগর, গজনীর দিঘিসহ পুরোনো অনেক দিঘি ও স্থাপনায় ছড়িয়ে আছে দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাসের নানা অধ্যায়।

৪. ভোলার দূর দ্বীপে

চর কুকরি-মুকরির ঘন জঙ্গল আর শ্বাসমূলীয় বৃক্ষরাজি দেখে মনে হবে সুন্দরবনের গভীরে ঢুকে পড়েছেন
ছবি: মনিরুল ইসলাম

ভোলার মনপুরা ও পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালির মতো পরিচিত জনপদের বাইরেও উপকূলজুড়ে রয়েছে অনেক চর ও দ্বীপ। এসব জায়গার কোথাও কোথাও এখনো জনবসতি সীমিত। বর্ষা শেষে সাগরও তুলনামূলক শান্ত থাকে। ফলে এ সময় কম পর্যটকের আনাগোনা থাকা উপকূলের চর ও দ্বীপ ঘুরে দেখা যায়।

ঢাকা থেকে ভোলা বা পটুয়াখালীগামী লঞ্চে রাতভর ভ্রমণ শেষে ভোরে রওনা হতে পারেন চরফ্যাশন, রাঙ্গাবালি বা চর মন্তাজের পথে। স্থানীয় নৌকা ভাড়া করে যেতে পারেন আশপাশের চর ও দ্বীপে। চর কুকরি–মুকরি, চর মন্তাজ, ঢালচর ও মনপুরায় থাকার কিছু ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে থাকার সুযোগ নেই, সেখানে দলবদ্ধভাবে তাঁবু নিয়ে ক্যাম্পিংও করা যায়।

আরও পড়ুন

৫. বরগুনায়ও বন আছে

ফাতরার বন আগে সুন্দরবনের অংশই ছিল
ছবি: আশরাফুল আলম

বরগুনার তালতলী থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত টেংরাগিরি বা ফাতরার বন। বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা এই শ্বাসমূলীয় বন একসময় সুন্দরবনের অংশ ছিল। বরগুনার পাথরঘাটায় আছে হরিণঘাটা সংরক্ষিত বন। এ ছাড়া ভোলার চর কুকরি–মুকরিসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে নানা ধরনের উপকূলীয় বন। সংরক্ষিত বনে নিয়ম মেনে ঘুরে দেখার পাশাপাশি নির্ধারিত জায়গায় ক্যাম্পিংয়ের সুযোগও রয়েছে।

৬. সমুদ্র দেখতে কুয়াকাটা

কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়
ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা দেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটনগন্তব্য। এই সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত—দুটিই দেখা যায়। তবে শুধু কুয়াকাটাই নয়, বরিশাল অঞ্চলে রয়েছে আরও কয়েকটি ছোট-বড় সৈকত। বরগুনার তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত, পাথরঘাটার লালদিয়া সমুদ্রসৈকত এবং ভোলার চরফ্যাশনের তারুয়া সমুদ্রসৈকতেও যেতে পারেন। তুলনামূলক নিরিবিলি পরিবেশে সাগর দেখার জন্য এসব জায়গা বেছে নিতে পারেন।

৭. উৎসবে-মেলায়

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে মার্বেল মেলা। এতে অংশ নেন আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ
ছবি: প্রথম আলো

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা স্থানীয় উৎসব ও মেলা। বিভিন্ন এলাকায় বছরের বিভিন্ন সময়ে বসে গ্রামীণ মেলা ও ধর্মীয়-সামাজিক উৎসব। ভ্রমণের আগে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে এসব আয়োজনের সময়সূচি জেনে নিতে পারেন। এতে শুধু দর্শনীয় স্থান নয়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ মিলবে।

আরও পড়ুন