ঈদের ছুটিতে উত্তরবঙ্গে যাবেন? রইল কিছু বেড়ানোর জায়গা আর রিসোর্টের খোঁজ

উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলাই ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। প্রাচীন নগরী, শত শত বছরের পুরোনো উপাসনালয়, আদি আমলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শাসকদের স্থাপনা—কী নেই এই অঞ্চলে।

নওগাঁর সোমপুর মহাবিহারের মতো উত্তরবঙ্গে প্রচীন অনেক স্থাপত্য নিদর্শন রয়েছেছবি: প্রথম আলো

ঐতিহ্য দর্শন

বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের এক সমৃদ্ধ ভান্ডার। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলার মাটির সঙ্গে যেন মিশে আছে ইতিহাস। দেশের প্রাচীনতম জাদুঘরগুলোর একটি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, যেখানে রয়েছে বাংলার নানা প্রত্নসম্পদের দুর্লভ সংগ্রহ। কাছেই পুঠিয়া রাজবাড়ি তার রাজকীয় স্থাপত্যে পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

দিনাজপুরের ঐতিহ্যের কথা উঠলেই সবার আগে মনে আসে কান্তজিউ মন্দির, যা বাংলার টেরাকোটা স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। একই জেলার রামসাগর দিঘি দেশের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট দিঘিগুলোর একটি। রংপুরের ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে দৃষ্টিনন্দন তাজহাট জমিদারবাড়ি এবং শতবর্ষী কারমাইকেল কলেজ।

নওগাঁয় আছে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পাওয়া সোমপুর মহাবিহার, যা পালযুগের বৌদ্ধ সভ্যতার অন্যতম স্মারক। বগুড়ার মহাস্থানগড় ধারণ করে আছে প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের ধ্বংসাবশেষ। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনামসজিদ সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য উদাহরণ।

৫০০ বছরের ঈদমেলা

বাঘার ঈদমেলায় নাগরদোলা, মৃত্যুকূপ, জাদুসহ নানা বিনোদনমূলক আয়োজন থাকে
ছবি: প্রথম আলো

রাজশাহীর বাঘার মানুষের কাছে পবিত্র ঈদুল ফিতরে আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করে ঈদমেলা। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে এ মেলা হয়ে ওঠে সব মানুষের মিলনমেলা। প্রায় ৫০০ বছর ধরে ঈদের দিন শুরু হয় এ মেলা। চলে সপ্তাহভর, কখনোবা মাসব্যাপী।

বাঘায় ইসলাম প্রচারক হজরত শাহ মোয়াজ্জেম দানিশমন্দ শাহ দৌলা (রহ.)-এর মাজার আছে। মাজার ওয়াক্ফ এস্টেটের উদ্যোগে মেলাটি চলে। পরিচালনা কমিটি ধর্মীয় আচার–অনুষ্ঠান ও তবারক বিতরণের আয়োজন করে থাকে। এতে প্রচুর লোক অংশ নেন।

মেলায় সার্কাস, নাগরদোলা, মৃত্যুকূপ খেলা, জাদু প্রদর্শনীসহ নানা বিনোদনমূলক আয়োজন থাকে। আর আসবাবসহ মেলায় হরেক রকম পসরা ও মিষ্টির দোকানে উপচে পড়া ভিড় লেগে থাকে।

শালবনের নৈঃশব্দ্য

এমন হাঁটা পথে চলে যাওয়া যায় সিংড়া শালবনের গভীরে
ছবি: প্রথম আলো

প্রকৃতির নৈঃশব্দ্য উপভোগ করতে চাইলে যেতে পারেন দিনাজপুর। বিরলের ধর্মপুরে পাবেন কালিয়াগঞ্জ শালবন, বীরগঞ্জে সিংড়া শালবন আর নবাবগঞ্জ উপজেলায় নবাবগঞ্জ শালবন। বেশির ভাগ মানুষ সিংড়া ফরেস্টে যান। স্থানীয়ভাবে সিংড়া শালবন নামে পরিচিত বনটি জেলা শহর থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে। ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়ক থেকে নেমে মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তরে পিচঢালা পথ আপনাকে নিয়ে যাবে সিংড়া বনের ভেতরে। বনে ঢোকার মুখেই সরকারি রেস্টহাউস। কিছুক্ষণ বিশ্রাম। তারপর শাল-সেগুনসহ নানা জাতের গাছের ছায়ায় হাঁটতে হাঁটতে শুনতে পাবেন ঝিঁঝির কোরাস।

বনের শেষ দিকটায় সাঁওতাল গ্রাম আছে। বর্তমানে ১৭০টির মতো সাঁওতাল পরিবার বাস করে। তাদের কেউ কেউ খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। একটি গির্জাও রয়েছে। সেই গ্রামের পথ ধরেও ঘুরে আসতে পারেন।

বসন্তেও শীতের আমেজ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনা মসজিদ
ছবি: উইকিপিডিয়া

শীতকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড প্রায়ই নিজের করে নেয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া! শুধু এ উপজেলাতেই নয়, উত্তরাঞ্চলজুড়েই হাঁড়কাপানো শীতে পড়ে। এই বসন্তেও এ অঞ্চলে সহনীয় আবহাওয়া বিরাজ করছে। তেঁতুলিয়ার চা-বাগান, সৈয়দপুরে বাংলাদেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা, নাটোরের উত্তরা গণভবন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আলপনা গ্রাম, আরও কত–কী দেখার আছে।

উত্তরবঙ্গের কিছু রিসোর্টের খোঁজ

মম ইন পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট, বগুড়া

উত্তরবঙ্গের একমাত্র পাঁচ তারকা রিসোর্ট। এটি বগুড়ার ঢাকা-রংপুর রোডের নওদাপাড়ায় অবস্থিত

যোগাযোগ: ০১৭৫৫ ৬৬৯৯০০

www.momoinn.com

রত্নদ্বীপ রিসোর্ট, পাবনা

পাবনা-ঈশ্বরদীতে বেড়াতে গেলে পাবনা সদরের জালালপুরে অবস্থিত রিসোর্টটিতে থাকতে পারেন। নির্ভার সময় কাটাতেও রত্নদ্বীপ হাতে পারে আপনার ঠিকানা।

যোগাযোগ: ০১৭৩০৩১৮৯৫৩

www.ratnodweepresort.com

রূপকথা ইকো রিসোর্ট, পাবনা

পাবনা সদর উপজেলার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুরে অবস্থিত রিসোর্টটিও রত্নদ্বীপ রিসোর্টের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়।

যোগাযোগ: ০১৭৩০৩৭৪৮১৭

www.rupkothaecoresort.com

গাইবান্ধার এসকেএস ইন রিসোর্ট
ছবি: এসকেএস ইন রিসোর্ট

এসকেএস ইন রিসোর্ট, গাইবন্ধা

গাইবান্ধা জেলা সদরের রাধাকৃষ্ণপুরে অবস্থিত চার তারকা মানের রিসোর্ট। থাকার জন্য আছে ডিলাক্স রুম, টুইন ও ফ্যামিলি রুম, ওয়াটার ভিলা, গার্ডেন ভিউ ভিলা, ফ্যামিলি ভিলা, লেক ফ্রন্ট ভিলা।

যোগাযোগ: ০১৭১৩৪৮৪৪১৭

www.sksinn.com

জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মহানন্দা নদীর পাড়েই জেলা পরিষদের এই ডাকবাংলো। সীমান্তের ওপারে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার মোক্ষম জায়গা। তবে এ সময় হয়তো দূরের সেই পর্বতের সাক্ষাৎ মিলবে না। তবে ডাকবাংলোর পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবে।

যোগাযোগ: ০১৭৩৭৩৫৯৪৫১

জাকস রিসোর্স সেন্টার, জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে শহরের সবুজনগর এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাকস ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছে ‘জাকস রিসোর্স সেন্টার’। আবাসনের ভালো ব্যবস্থা আছে। নওগাঁ ও জয়পুরহাটে ঘুরতে গেলে এই রিসোর্স সেন্টারের ডিলাক্স টুইন বেডরুম, ডিলাক্স রুমসহ ভিআইপি স্যুটে থাকতে পারেন।

যোগাযোগ: ০১৯৫৮২৬৬৪৩১

www.jrc-bd.com

দ্য গ্রান্ড দাদুবাড়ি রিসোর্ট, দিনাজপুর

দিনাজপুর শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বাঁশেরহাট (ব্র্যাক মোড়) এলাকায় অবস্থিত দ্য গ্রান্ড দাদুবাড়ি পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট। দিনাজপুর ঘুরতে গেলে আবাসনের জন্য বেছে নিতে পারেন এই রিসোর্ট।

যোগাযোগ: ০১৩২১২০৬৯৮৫

www.granddadubari.com

আরও পড়ুন