এআই হয়ে উঠছে ভ্রমণ পরিকল্পনার নতুন সহকারী, এই পরিবর্তনের প্রভাব কর্মসংস্থানে কতটা পড়তে পারে
কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন, কী দেখবেন—ভ্রমণের পরিকল্পনায় এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন শুধু গুগল সার্চ বা ট্রাভেল এজেন্সির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুতই হয়ে উঠছে ভ্রমণ পরিকল্পনার নতুন সহকারী। ভ্রমণকারীর পছন্দ, বাজেট ও প্রয়োজন বুঝে গন্তব্য নির্বাচন থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ কিংবা বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনাও করে দিতে পারছে এআই।
এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্যও এ পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করছে—‘ডিজিটাল এজেন্ডা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টু রিডিজাইন ট্যুরিজম’। অর্থাৎ প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহার করে পর্যটনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোই এবারের আলোচ্য।
সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বুকিং ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্লেন ফোগল বলেন, ভ্রমণের ক্ষেত্রে এআই বিপুল পরিমাণ তথ্যকে সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তুলছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে একজন ভ্রমণকারী এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে তৈরি করতে পারবেন পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা। বিমান টিকিট ও হোটেলের পাশাপাশি বুকিং দিতে পারবেন রেস্তোরাঁর টেবিল বা গলফ খেলার সময়।
এ ব্যবস্থাকে পুরোনো দিনের ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন ফোগল। তবে পার্থক্য হলো, একজন এজেন্ট যেখানে সীমিত তথ্যের ওপর নির্ভর করতেন, এআই সেখানে একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যক্তির পছন্দ অনুযায়ী বিকল্প সাজাবে। ভ্রমণের কোনো একটি অংশে সমস্যা হলে পুরো পরিকল্পনা নতুন করে সাজানোর সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
তবে এ পরিবর্তনের সঙ্গে নতুন কিছু প্রশ্নও সামনে আসছে। এআই যে গন্তব্যগুলোকে ভ্রমণকারীদের সামনে তুলে ধরবে, সেগুলোর মধ্যে কোনগুলো বেশি দৃশ্যমান হবে? অর্থের বিনিময়ে কোনো গন্তব্য বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কি বেশি প্রভাব বিস্তার করবে? ফলে পর্যটনের ডিজিটাল ভবিষ্যতে ভোক্তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারে ক্ষমতা কার হাতে থাকবে—এ প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
পরিবর্তনের প্রভাব কর্মসংস্থানেও পড়তে পারে। ফোগলের মতে, এআই গ্রাহকসেবা দ্রুত ও সহজ করলেও এর ফলে কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি, কল সেন্টার কর্মীর মতো ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা কিছু চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে। তাই প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও দক্ষতা তৈরির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
এআই তাই পর্যটনের ভবিষ্যৎ কীভাবে পরিচালিত হবে, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের পর্যটনের জন্যও এ পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। এআইয়ের মাধ্যমে দেশের পর্যটন গন্তব্যগুলোকে বিশ্বের ভ্রমণকারীদের কাছে আরও দৃশ্যমান করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই এআইয়ের তথ্যভান্ডারে বাংলাদেশের গন্তব্যগুলোর সঠিক ও পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।