২০২৬ সালে পর্যটকেরা যে ৭ ট্রাভেল ট্রেন্ড অনুসরণ করবে
২০২৬ সাল হতে যাচ্ছে শান্ত, নিরিবিলি ভ্রমণের বছর। যেখানে অ্যালগরিদমনির্ভর ভ্রমণসূচি, অতিমাত্রায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক অবকাশযাপন আর ধীর ভ্রমণে মশগুল থাকবেন পর্যটকেরা।
১. নীরবতাযাপন
স্মার্টফোন হাতে কতক্ষণই আর অফলাইনে থাকা সম্ভব! অনলাইনে থাকা মানেই নানা বৈশ্বিক ঘটনার চাপে ভোগা। দিনের পর দিন এমন চাপে ভোগা মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এখন সংযোগ ছিন্ন করে একটু শান্তি খুঁজছেন। তাই চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড হবে ‘কোয়ায়েটকেশন’ (কোয়ায়েট ও ভ্যাকেশন)। একে ‘হাশপিটালিটি’ও বলা হচ্ছে। এ প্রবণতার মূল ভাবনা আরাম, নীরবতা আর আধুনিক জীবনের ক্রমবর্ধমান চাপ থেকে নিজেকে কিছু সময়ের জন্য আলাদা করে নেওয়া।
২. জেনারেটিভ এআইয়ে আশ্রয়
২০২৬ সালে ভ্রমণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বাড়বে। ইতিমধ্যেই অনেক পর্যটক ভ্রমণের পরিকল্পনা ও বুকিংয়ের জন্য জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন। এক্সপিডিয়া, বুকিং ডটকমের মতো বড় প্ল্যাটফর্ম চ্যাটজিপিটির মতো টুল যুক্ত করেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রিয়েল-টাইম অনুবাদ, মোবাইল ডিজিটাল চেক-ইন। ফলে ভ্রমণের সঙ্গে জড়িত কাগজপত্র, হিসাব-নিকাশ ও ছোটখাটো ঝামেলা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। প্রযুক্তি নীরবে সেই প্রশাসনিক বোঝা সরিয়ে দিচ্ছে, যা একসময় ভ্রমণের বড় ঝক্কি ছিল। তবে এআইয়ের উত্থানের সঙ্গে কিছু জটিলতাও আছে। অ্যালগরিদমভিত্তিক সুপারিশ অনেক সময় একই গন্তব্যে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি করতে পারে, যাকে বলা হয় ওভারট্যুরিজম। পাশাপাশি ভ্রমণসংক্রান্ত প্রতারণাও বাড়ছে। তাই এসব টুল ব্যবহার করতে হবে বুঝেশুনে।
৩. পছন্দের চেয়ে ভরসা
এখন এমন ভ্রমণের চাহিদা বাড়ছে, যেখানে ভ্রমণকারীর কোনো সিদ্ধান্তই নিতে হয় না। এ ধরনের সাজানো–গোছানো ভ্রমণের জনপ্রিয়তা আসলে মানুষের ডিসিশন ফ্যাটিগ বা সিদ্ধান্ত নিতে বীতশ্রদ্ধার প্রতিফলন। ঘরে হোক বা বাইরে—নিত্যদিনের অসংখ্য ছোট সিদ্ধান্ত নিতে নিতে মানুষ মানসিকভাবে ক্লান্ত, আর সেখান থেকেই জন্ম নিচ্ছে ‘সব দায়িত্ব অন্য কারও হাতে ছেড়ে দেওয়া’র এ প্রবণতা।
৪. আকাশপথের চেয়ে সড়কপথ
আবারও রোড ট্রিপে ফিরছেন ভ্রমণপ্রেমীরা। সামাজিক মাধ্যমে #RoadTrip হ্যাশট্যাগটি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ৫৯ লাখের বেশি বার ব্যবহৃত হয়েছে। যা প্রমাণ করে, খোলা রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে ভ্রমণের আকর্ষণ নতুন করে ফিরছে। তবে এই রোড ট্রিপের রূপ সবার জন্য এক নয়। অনেক ভ্রমণকারীর কাছে গাড়িতে ভ্রমণের কারণ একেবারেই বাস্তবমুখী, খরচ বাঁচানো।
৫. অতিমাত্রায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা
একই ধরনের প্যাকেজ ট্যুরে যাওয়ার দিন শেষ। চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার দিকে ঝুঁকছে এখন ভ্রমণশিল্প। যেখানে প্রত্যেক মানুষের জীবনধারা, মানসিক অবস্থা ও অভিজ্ঞতার চাহিদা আলাদা করে বিবেচনা করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে দেখা গেছে, জীবনের ধাপ বা পরিস্থিতিকে ঘিরে বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ তৈরি হচ্ছে। যেমন ডিভোর্স বা বিচ্ছেদের পর মানসিক পুনরুদ্ধার ভ্রমণ, শোক বা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য ট্রিপ, মেনোপজ রিট্রিট, দাম্পত্য সম্পর্ক জোরদার করার ভ্রমণ, এমনকি পোকামাকড় নিয়ে আগ্রহীদের জন্যও আলাদা ট্যুর চালু হয়েছে।
৬. পরিচিত গন্তব্য ছেড়ে
‘অ্যান্টি-ইনস্টাগ্রাম’ মানসিকতার পর্যটকেরা এখন ভিড়ঠাসা জনপ্রিয় জায়গা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কারণ, এসব জায়গা অনলাইনে যতটা নিখুঁত ও ঝকঝকে দেখায়, বাস্তবে ততটা নয়। এর ফল হিসেবে এখন বাড়ছে অফ-গ্রিড গন্তব্যের প্রতি আগ্রহ। যেসব জায়গা এখনো তুলনামূলকভাবে অচেনা ও নিরিবিলি।
৭. অর্থবহ অভিজ্ঞতার খোঁজে
অনেকের মধ্যে #BookTok হ্যাশট্যাগটির প্রভাব বেশ ভালো ভাবেই পড়েছে। ২০২৬ সালে সাহিত্যভিত্তিক ভ্রমণ আরও জনপ্রিয় হওয়ার পেছনেও এর ভূমিকা কম নয়। এর পাশাপাশি বাড়ছে ‘সেট-জেটিং’ ট্রেন্ড, অর্থাৎ সিনেমা বা টিভি সিরিজে দেখা জায়গা ঘিরে ভ্রমণ। এ প্রবণতায় ভ্রমণ শুধু আনন্দ বা ভোগের জন্য নয়; বরং সংস্কৃতি, গল্প, বই ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যম হয়ে উঠছে।
বিবিসি অবলম্বনে