টাকা সঞ্চয়ে নতুন ট্রেন্ড ‘১০০ খাম চ্যালেঞ্জ’, নিয়ে দেখবেন নাকি?

এখন মাসের বেতন পাওয়ার পর মনে হয়, টাকা যেন কর্পূর! একটু হাওয়া পেলেই উবে যায়। বাড়িভাড়া, বাজার, যাতায়াত, বিদ্যুৎ বিল, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা নানা প্রয়োজনীয় খাতে। মাস শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা যায়, সঞ্চয়ের জন্য আর তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। অথচ নিয়মিত সঞ্চয় করা যে জরুরি, তা বলা বাহুল্য। এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে সহজ একটি পদ্ধতি—‘১০০ খাম চ্যালেঞ্জ’। কীভাবে পূরণ করবেন এই চ্যালেঞ্জ, কীভাবে সামলাবেন বড় অঙ্কের খাম, সব জেনে নেওয়া যাক

সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে সহজ একটি পদ্ধতি—‘১০০ খাম চ্যালেঞ্জ’ছবি: এআই/প্রথম আলো

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়া ‘১০০ এনভেলপস চ্যালেঞ্জ’-এর আদলে এই সঞ্চয়পদ্ধতি সাজানো যায়। এতে ১০০টি খামে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জমাতে হয়। অর্থাৎ ১ নম্বর খামে ১০ টাকা, ২ নম্বর খামে ২০ টাকা...এভাবে ১০০ নম্বর খামে জমবে ১ হাজার টাকা। চ্যালেঞ্জ পূরণ করতে পারলে জমবে সাড়ে ৫০ হাজার টাকা।

কীভাবে করবেন ১০০ খামের চ্যালেঞ্জ

এই সঞ্চয় চ্যালেঞ্জ শুরু করতে প্রথমে সংগ্রহ করুন ১০০টি খাম। প্রতিটি খামের গায়ে ১ থেকে ১০০ পর্যন্ত একটি করে সংখ্যা লিখুন। এরপর খামের নম্বরকে ১০ দিয়ে গুণ করে ঠিক করুন, ওই খামে কত টাকা জমাবেন। যেমন—

  • ১ নম্বর খামে ১০ টাকা

  • ২ নম্বর খামে ২০ টাকা

  • ১০ নম্বর খামে ১০০ টাকা

  • ২৫ নম্বর খামে ২৫০ টাকা

  • ৫০ নম্বর খামে ৫০০ টাকা

  • ১০০ নম্বর খামে জমবে ১ হাজার টাকা

এভাবে লিখে নিতে হবে খামের ওপর
ছবি: এআই/প্রথম আলো

এভাবে ১০০টি খাম পূরণ করতে পারলে ১০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্কের টাকা জমা হবে। সব খাম পূরণ শেষে আপনার সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে সাড়ে ৫০ হাজার টাকা।

তবে প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে ১, ২, ৩ নম্বর খাম পূরণ করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। বরং নিজের আয় ও হাতে থাকা টাকার পরিমাণ বিবেচনা করে যেকোনো খাম বেছে নিতে পারেন।

যেদিন হাতে টাকা বেশি থাকবে, সেদিন ৫০০ বা ১ হাজার টাকার খাম পূরণ করা যেতে পারে। আবার কোনো দিন হাতে টাকা কম থাকলে ১০, ২০ বা ৫০ টাকার খাম বেছে নেওয়া যাবে।

চাইলে প্রতিদিন একটি করে খাম পূরণ করতে পারেন। আবার সামর্থ্য অনুযায়ী এক দিনে একাধিক খামও পূরণ করা সম্ভব। মূল লক্ষ্য হলো ১০০টি খাম শেষ করা। তাই নিজের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেই হবে।

এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, সঞ্চয়ের অঙ্কটি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকলেও কোন দিন কত টাকা জমাবেন, সেই সিদ্ধান্ত আপনার হাতে।

আরও পড়ুন

১০০ দিনেই শেষ করতে হবে?

চ্যালেঞ্জটির নাম ‘১০০ খামের’ হলেও এটি ১০০ দিনের মধ্যেই শেষ করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যাঁদের নিয়মিত মাসিক আয় আছে, তাঁরা চাইলে ১০০ দিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোতে পারেন। আর অনিয়মিত আয় বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা চাইলে সময়সীমা আরও বাড়িয়ে ১০০ সপ্তাহের চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন।

আরেকটি সহজ পদ্ধতি হলো, প্রতি সপ্তাহে দুটি করে খাম পূরণ করা। যেমন প্রথম সপ্তাহে ১০ ও ২০ টাকার দুটি খাম, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৩০ ও ৪০ টাকার দুটি খাম...এভাবে প্রতি সপ্তাহে দুটি করে খাম পূরণ করলে ৫০ সপ্তাহেই ১০০টি খাম শেষ করা সম্ভব। এতে প্রতিদিন টাকা জমানোর চাপ থাকবে না, আবার ধীরে ধীরে সাড়ে ৫০ হাজার টাকা সঞ্চয়ের লক্ষ্যও পূরণ হবে।

যাঁদের নিয়মিত মাসিক আয় আছে, তাঁরা চাইলে ১০০ দিনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোতে পারেন
ছবি: এআই/প্রথম আলো

বড় অঙ্কের খাম সামলাবেন কীভাবে

চ্যালেঞ্জের শুরুটা বেশ সহজ। ১০, ২০, ৫০ কিংবা ১০০ টাকা জমাতে খুব একটা চাপ লাগে না। কিন্তু বড় অঙ্কের খাম হলে সঞ্চয়ের অঙ্কও বাড়ে। অনেক সময় ৭০০, ৮০০, ৯০০ কিংবা ১ হাজার টাকার খাম পূরণ করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে খামগুলো ধারাবাহিকভাবে পূরণ না করে দৈবচয়নভাবে বেছে নেওয়া সুবিধাজনক। মাসের শেষে হাতে অতিরিক্ত টাকা এলে বড় অঙ্কের কোনো খাম পূরণ করা যেতে পারে। আবার কোনো মাসে ব্যয়ের চাপ বেশি থাকলে ১০, ২০ বা ৫০ টাকার মতো ছোট অঙ্কের খাম বেছে নেওয়া যায়।

তবে বড় অঙ্কের খাম পূরণ করতে একবারেই পুরো টাকা জোগাড় করতে হবে, এমনও নয়। যেমন ১ হাজার টাকার খাম একবারে পূরণ করা কঠিন হলে ২৫০ টাকা করে চারবার জমিয়ে সেটি পূরণ করা যায়। মূল কথা হলো, খামের সংখ্যা নয়, সঞ্চয়ের অভ্যাসটাই গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

খাম লাগবে কেন?

একটি খাম পূর্ণ করে চোখের সামনে রাখলে সঞ্চয়ের অগ্রগতি দেখা যায়
ছবি: পেক্সেলস

ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) কিংবা ডিজিটাল সঞ্চয়ের এই সময়ে খামে করে টাকা রাখার প্রয়োজন কী, এ প্রশ্ন আসতেই পারে। এর উত্তর মূলত মানসিক শান্তি বা প্রেরণায়।

একটি খাম পূর্ণ করে চোখের সামনে রাখলে সঞ্চয়ের অগ্রগতি দেখা যায়। প্রতিটি খাম পূরণ তখন ছোট একটি অর্জনের মতো মনে হয়, যা পরের খাম পূরণে উৎসাহ জোগায়।

তবে দীর্ঘদিন ঘরে নগদ টাকা রাখা নিরাপদ নয়। তাই নির্দিষ্ট অঙ্ক জমলে তা নিরাপদ সঞ্চয়ব্যবস্থায় স্থানান্তর করা ভালো।

আরও পড়ুন

সঞ্চয় করতে গিয়ে খরচ নয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জে রঙিন খাম, বিশেষ বাক্স কিংবা নানা ধরনের নান্দনিক সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখা যায়। এসব সঞ্চয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে। তবে সঞ্চয়ের চেয়ে যদি এসব সামগ্রী কিনতেই বেশি টাকা খরচ হয়ে যায়, তাহলে চ্যালেঞ্জটির মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতে পারে।

তাই শুরুতেই এসবের পেছনে বাড়তি টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই। সাধারণ খাম দিয়েই শুরু করা যায়। সঞ্চয়ের মূল লক্ষ্য টাকা জমানো, সঞ্চয় করার উপকরণ কেনা নয়।

৫০ হাজার টাকা জমলে কী করবেন

চ্যালেঞ্জ শুরু করার আগেই ঠিক করে নেওয়া ভালো, জমা হওয়া টাকা কোথায় ব্যবহার করা হবে। এই অর্থ জরুরি তহবিল হিসেবে রাখা যেতে পারে। সন্তানের পড়াশোনা, ঈদের খরচ, ভ্রমণ, ছোট ব্যবসার মূলধন কিংবা প্রয়োজনীয় কোনো বড় কেনাকাটার জন্যও ব্যবহার করা যায়। উচ্চ সুদের ঋণ থাকলে, সেখানেও এই অর্থের একটি অংশ কাজে লাগানো যেতে পারে।

তবে এই চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু সাড়ে ৫০ হাজার টাকা সঞ্চয় করা নয়। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি হওয়া।

সূত্র: টাইম

আরও পড়ুন