প্রেমিকের চাকরি নেই, তাই প্রেমিকা বাড়িতে জানাতে পারছে না
পাঠকের কাছ থেকে মনোজগৎ, ব্যক্তিজীবন ও সন্তান পালনের মতো সমস্যা নিয়ে ‘পাঠকের প্রশ্ন’ বিভাগে নানা রকমের প্রশ্ন এসেছে। এবার তেমনই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন নাট্যজন সারা যাকের
প্রশ্ন: ২০২০ সাল থেকে আমি একটি সম্পর্কে আছি। আমাদের পাশেই মেয়েটির মামার বাড়ি। তাই ছোটবেলা থেকে আমরা পরিচিত। কিন্তু কখনো তেমন কথা হতো না। করোনার শুরুর দিকে ওর সঙ্গে আলাপ শুরু। করোনাকালে একাকিত্ব কাটাতে আমরা অনেকক্ষণ কথা বলতাম। ধীরে ধীরে তার প্রতি আমি আকৃষ্ট হই। ছয় মাসের চেষ্টায় মেয়েটিকে প্রেমের সম্পর্কে রাজি করাই।
আমি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছি, মেয়েটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছে। বর্তমানে আমরা খুবই সুন্দর সম্পর্কে আছি এবং বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু বাধা হচ্ছে আমার বেকারত্ব। মেয়েটির জন্য হন্যে হয়ে ছেলে খুঁজছে তার পরিবার। এদিকে আমার চাকরির কোনো খবর নেই।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, মেয়েটির পরিবার শিক্ষিত, সম্ভ্রান্ত ও ধনী। আর আমার পরিবার নিম্নবিত্ত। খেটে খাওয়া মা–বাবার আমি একমাত্র ভরসা। মেয়েটা আমাকেই বিয়ে করতে চায়। আমিও তা–ই চাই। কিন্তু আমার একটু সময় দরকার। যাতে করে কোনো একটা আয়ের পথ করে নিতে পারি। মেয়েটা বাড়িতে বলতে পারছে না, তাহলে বেকার বলে তারা আরও মানবে না। আমাদের সম্পর্কের সুন্দর পরিণতি দিতে কী করতে পারি এখন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, চট্টগ্রাম
উত্তর: কঠিন অবস্থা। আপনার চাকরি থাকলে তা–ও একটা কথা ছিল। আবার আপনি নিজেই জানিয়েছেন যে আপনাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবধান অনেক।
আমি যদি পেশাদার ঘটক হতাম, তাহলে বলতাম কখনোই এই বিয়ে হবে না। কিন্তু খাঁটি প্রেমের এক আশ্চর্য শক্তি আছে। সেই শক্তি অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। যুগে যুগে সেটাই হয়ে এসেছে।
আমরা বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি থেকে, লাইলি-মজনুর থেকেও প্রেরণা নিতে পারি। এ গল্পগুলো নিশ্চয়ই আপনার পড়া বা জানা আছে? না জানলে পড়তে পারেন দুজনেই।
সবচেয়ে বড় কথা আপনাদের বাস্তব জীবন সম্বন্ধে প্রাকটিক্যাল হতে হবে। শুধু আপনার চাকরি না, বরং দুজনকেই চাকরি করতে হবে। এখন আপনাদের যে অবস্থা, তাতে আপনাকে হারানোর ভয়েই মেয়েটি আপনার কথা বাড়িতে বলতে পারছে না।
তাই আপনাদের অনেক অনেক সাহসী হতে হবে, আর বাস্তবতাকে মাথায় রেখে নিজেদের আগামী রচনা করতে হবে। আমার শুভাশিস রইল।
পাঠকের প্রশ্ন, বিশেষজ্ঞের উত্তর
পাঠকের প্রশ্ন পাঠানো যাবে ই–মেইলে, ডাকে এবং প্র অধুনার ফেসবুক পেজের ইনবক্সে। ই–মেইল ঠিকানা: [email protected] (সাবজেক্ট হিসেবে লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’)
ডাক ঠিকানা
প্র অধুনা, প্রথম আলো, প্রগতি ইনস্যুরেন্স ভবন, ২০–২১ কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫। (খামের ওপর লিখুন ‘পাঠকের প্রশ্ন’) ফেসবুক পেজ: fb.com/Adhuna.PA