৬টি পিএইচডি, ২টি মাস্টার্স প্রোগ্রামের ডাক পেয়েছিলেন বুয়েটের মৃন্ময়
পিএইচডিকে বলা হয় সর্বোচ্চ একাডেমিক ডিগ্রি। শিক্ষার্থীরা সাধারণত অনার্স, মাস্টার্স শেষে পিএইচডির প্রস্তুতি নেন। তবে মাস্টার্সের আগেও কিন্তু চাইলে পিএইচডির ট্রেনে চড়ে বসা যায়। বাংলাদেশে অনেক শিক্ষার্থীই স্নাতক শেষে পিএইচডি শুরু করছেন। তাঁদের একজনের গল্প শোনাচ্ছেন ফুয়াদ পাবলো।
বুয়েটের প্রথম সেমিস্টারের রেজাল্ট মনমতো হয়নি। পরীক্ষায় ভালো ফল না পেলে শিক্ষার্থীরা সাধারণত মুষড়ে পড়েন। বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মৃন্ময় নন্দী সেদিক থেকে একটু ব্যতিক্রম। একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে নতুন কিছু শেখার, নতুন কিছু করার দিকে মনোযোগ দেন তিনি। এভাবেই গবেষণার প্রতি আগ্রহ।
ল্যাব প্রজেক্ট, ছোটখাটো বিশ্লেষণ—এসবের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে গবেষণায় থিতু হন এই তরুণ। ভাবতে শুরু করেন, মাস্টার্সে নজর না দিয়ে সরাসরি পিএইচডির দিকে পা বাড়ালে কেমন হয়। মৃন্ময় বলেন, ‘সব সময় নতুন কিছু শিখতে ভালোবাসি, বিশেষ করে যেটা প্র্যাকটিক্যাল। শুধু পড়ার জন্য পড়া আমাকে টানে না। এই আগ্রহ আমাকে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করেছে।’ বুয়েটে স্নাতকে পড়ার সময়ই ৮ টি অফার পান তিনি। এর মধ্যে ৬টি পিএইচডি প্রোগ্রাম, ২ টি মাস্টার্স প্রোগ্রাম। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টকেই বেছে নেন। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়েই মাইক্রোবায়োলজিতে পিএইচডি করছেন মৃন্ময়।
তবে সরাসরি পিএইচডির আবেদন করার পথটা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তুলনামূলক দুর্বল একাডেমিক রেজাল্ট ও জিআরইর স্কোর। ক্লাসের অনেকের তুলনায় মৃন্ময়ের সিজিপিএ ছিল কম। ফলে আত্মবিশ্বাস কমে গিয়েছিল। এ ছাড়া জিআরই পরীক্ষার মক টেস্টে ভারবাল রিজনিংয়ে ভালো স্কোর না আসায় প্রথমে একবার পরীক্ষা পিছিয়েও নেন। পরে সাহসের সঙ্গে সবকিছু সামলেও নেন তিনি। মৃন্ময় বলেন, ‘আমি নিজেকে বুঝিয়েছিলাম, যা হওয়ার হবে। খারাপ হলে খারাপই হবে, আর ভালো হলে ভালো। নিজেকে এই কথা বলে পরীক্ষার দিনে মাথা ঠান্ডা রাখতে চেষ্টা করেছি।’
ছোট ছোট রিসার্চ প্রোজেক্ট, ল্যাবের অভিজ্ঞতা, নতুন দক্ষতা রপ্ত করা—এসবই তাঁর পিএইচডির ভিত তৈরি করেছে, মনে করেন মৃন্ময়। পুরো যাত্রায় ভয়, ব্যর্থতা, চাপ—সবই এসেছে; কিন্তু হার মানেননি তিনি। তরুণ এই গবেষক বলেন, ‘গবেষণার প্রতি আগ্রহই আমার সবকিছুর ভিত্তি। ছোট ছোট প্রোজেক্ট ধীরে ধীরে বড় গবেষণার দিকে এগিয়ে নিয়েছে। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে করতে শেখার চেষ্টা করেছি। ছোট ছোট অভিজ্ঞতাকে আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করেছি।’
মৃন্ময় নন্দীর গবেষণার মূল বিষয় মাইক্রোবায়োলজি ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সংযোগ। স্নাতকজীবন থেকে এসব নিয়েই কাজ করে এসেছেন। মৃন্ময় মনে করেন, গবেষণার এই অভিজ্ঞতা তাঁর আবেদনকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যাপকের কাজের সঙ্গে নিজের গবেষণার কিছু মিল কিংবা প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকলেই ইন্টারভিউয়ে আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়। গবেষণা ও আত্মবিশ্বাসই আমার প্রোফাইলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বলে আমার মনে হয়। পিএইচডিতে যাওয়ার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আত্মবিশ্বাস এবং নিজের আগ্রহ অনুসরণ করা। যদি আপনি সত্যিই কিছু শিখতে এবং গবেষণা করতে চান, ছোটখাটো ব্যর্থতাকে ভয় পেলে চলবে না। সবকিছুর মধ্যেই কিছু না কিছু শেখার আছে।’