সে জন্যই এই ২০২২ সালে এসেও দেখা যায়, গ্রামে যদি কোনো নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে তাঁকে নির্যাতনকারী ব্যক্তির সঙ্গে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়, যাতে পরে সন্তানের অভিভাবক হিসেবে কোনো একজন পুরুষের নাম লেখা যায়। আমাদের প্রচলিত নিয়মে নারীকে কখনোই কোথাও অভিভাবকত্ব দেওয়া হয়নি, কেউ যদি সেটি প্রার্থনা করেন, সেই আরজি নিয়ে যেতে হয় পারিবারিক আদালতে। মায়ের পক্ষে অভিভাবকত্ব চাওয়ার মামলা যদিও কোর্টে ওঠে, তার রায় হতে হতে বাচ্চা সাবালক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চলে যায় অথবা মেয়ের বিয়ে দেওয়ার বয়স হয়ে যায়। আর মা নামের ‘সচল যন্ত্রটি’ তত দিনে অর্থ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন।

পৃথিবীর অনেক দেশে ও অনেক ধর্মে কোনো কারণে মা–বাবা আলাদা হয়ে গেলে দুজনকেই অভিভাবক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যেন একজনের অনুপস্থিতিতে অন্যজন দায়িত্ব পালন করতে পারেন। কেউ যদি স্বেচ্ছায় তা গ্রহণ না করতে চান, সেটি তার বিষয়; আর দুজন একসঙ্গে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে তা পারিবারিক বা সামাজিকভাবে আলোচনা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যায়, যিনি সন্তানের কোনো দায়িত্ব নিলেন না, শুধু কাগজে–কলমে মা অথবা বাবা হয়ে থাকলেন, সে ক্ষেত্রে সন্তান মহাবিপদে পড়ে যায়, উন্নত চিকিৎসা বা শিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যেতে চাইলে দুজনেরই সম্মতি প্রয়োজন হয়; আর যদি তাঁদের একজনকে না পাওয়া যায়, তাহলে দ্বারস্থ হতে হয় আদালতের।

অভিভাবক হওয়ার অধিকার যদি মা–বাবার সমান থাকত, তাহলে কোনো একজন অভিভাবক মারা গেলে বা পালিয়ে গেলে অন্য একজন সহজে দায়িত্ব নিতে পারতেন। তাই আমি মনে করি, আধুনিক সময়ের কথা বিবেচনা করে অভিভাবকত্বের এই প্রাচীন আইন বদলে ফেলার সময় এসেছে। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই অধিকার এখন মাকে দিচ্ছেন আদালত। তবে এটা নির্বিশেষে সব মাকেই দেওয়ার সময় মনে হয় এসেছে।