আশার চুল ৩৩ মিটার লম্বা, ওজন ১৯ কেজি
আশা ম্যান্ডেলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যিনি ব্ল্যাক রাপাঞ্জেল নামেই বেশি পরিচিত। দীর্ঘ ড্রেডলকের জন্য তিনি নাম লিখিয়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।
ড্রেডলক রাস্তাফারিয়ান হেয়ারস্টাইল। রাস্তাফারি হলো বিশেষ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী। ধর্মীয়ভাবে এটা প্রোটেস্ট্যান্ট ক্রিস্টিয়ানিটির একটি ধারা। ১৯৩০–এর দশকে জ্যামাইকাতে আন্দোলনের মাধ্যমে প্যান–আফ্রিকান রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফল এই ধারা। রাস্তাফারি ধর্মের অনুসারীরা একটা নির্দিষ্ট জীবনধারা মেনে চলেন। তার একটি হলো তাঁরা চুলকে প্রাকৃতিকভাবে বাড়তে দেন। কখনো কাটেন না, আঁচড়ান না, বাঁধেন না, গোসল করেন না, শ্যাম্পু করার তো প্রশ্নই আসে না। যদিও এখন অনেকেই ড্রেডলক একটা নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য পর্যন্ত বড় করেন। ড্রেডলক দিয়ে নানান স্টাইল করেন। মাঝেমধ্যে গোসল করেন, এমনকি শ্যাম্পুও করেন। তাঁরা মনে করেন, সৃষ্টিকর্তা চুলকে যেভাবে বাড়তে দিয়েছেন, প্রাকৃতিকভাবে সে রকমই রাখা উচিত। এতে করে চুলে জট ধরে যায়। এটিকেই বলা হয় ড্রেডলক।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাস করেন ৬০ বছর বয়সী আশা ম্যান্ডেলা। পৃথিবীর দীর্ঘ ড্রেডলকের জন্য সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন তিনি। ৪০ বছরের সাধনার ফল এটা। তাঁর রেকর্ড-ব্রেকিং ড্রেডলকগুলো ৩৩ মিটার দীর্ঘ। আর এগুলোর ওজন ১৯ কেজি। আশা ম্যান্ডেলার ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ঢুঁ মারলেই দেখা যাবে তাঁর বিশাল ড্রেডলকের ছবি। আশা মনে করেন, এখানে অস্বাস্থ্যকর কিছু নেই। এটাই প্রাকৃতিক। আর তিনি নিয়মিত চুলের পরিচর্যা করেন। এই চুল নিয়ে চলাফেরা করতেও তাঁর বিশেষ অসুবিধা হয় না। তিনি দিব্যি মানিয়ে নিয়েছেন।
আশা ম্যান্ডেলা তাঁর চুলকে সৌন্দর্য, শক্তি আর ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে দেখেন। বলেন, ‘আমি আমার নিজের চুলকে রাজকীয় মুকুট অথবা আমার নিজস্ব কোবরা হিসেবে মনে করি। যখন ঘুমাতে যাই, তখন এই কোবরাকে একটি ছোট কাপড়ের বস্তায় বেঁধে রাখি। আমরা একে অপরের সঙ্গে আলিঙ্গন করি। কথাও বলি। সেদিক থেকে আমার ড্রেডলক আমার সঙ্গী।’
আশার স্বামী, ইমানুয়েল চেগে পেশায় একজন হেয়ার স্টাইলিস্ট। স্ত্রীর দীর্ঘ চুলের পরিচর্যায় সাহায্য করেন তিনি। কৌতূহলী অনুরাগীরা প্রায়ই তাঁর চুলের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন করেন। আশা জানান, চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অবশ্যই চুল পরিষ্কার রাখতে হবে। আর চুলকে ভালোবাসতে হবে। সপ্তাহে একবার শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার তিনি। দীর্ঘ ড্রেডলক ধুতে ছয় বোতল শ্যাম্পুর প্রয়োজন হয় আশার। আর সেই চুল শুকাতে সময় লাগে দুই দিন।
চুল নিয়ে কোনো অসুবিধা নেই তাঁর; বরং এটিই আশার গর্ব। তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই চুল কাটা অবস্থায় নিজেকে দেখতে চাই না। এটা কখনোই সম্ভব না।’ প্রথমে চুল বড় করা নিয়ে একেবারেই কোনো ধারণা তাঁর ছিল না। কিন্তু এখন এই ড্রেডলকই আশার সবকিছু। চুলের বিশেষ যত্ন নিয়ে তিনি বলেন, চুলকে গাছের মতো যত্ন নিতে হয়। আপনি যদি এটিকে পানি বা সার না দেন, তাহলে এটি সঠিকভাবে বেড়ে উঠবে না। মারাও যেতে পারে।
মর্যাদাপূর্ণ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম উঠিয়ে আশা নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। দীর্ঘ চার দশক ধরে যত্নসহকারে তিল তিল করে বড় করে সেগুলোকে কেটে ফেলার কোনো ইচ্ছা নেই। কারণ ড্রেডলকগুলোকে তিনি তাঁর পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখেন।