পাকা আমনের গন্ধ গায়ে মেখে হেমন্ত বিদায় নেয় যখন, তখন গায়ে সোয়েটার জড়িয়ে আসে শীত। বাক্সবন্দী লেপ-কম্বলের সঙ্গে সগৌরবে বেরিয়ে আসে জ্যাকেট-সোয়েটার। শীতকালে সোয়েটার নেহাত শীতবস্ত্র নয়, যেন হিম তাড়ানো উষ্ণ আলিঙ্গন। পোশাকসচেতন লোকজনকে অবশ্য ফি বছর নতুন সোয়েটার কিনতে দেখা যায়।
সোয়েটার মানেই বাহারি রং ও নকশার কারুকাজ। লাল, নীল, সাদা, কালো, ছাই—সবার গায়ে থাকে রংধনুর নানা রং কিংবা মিশ্র রঙের শীতপোশাক। নকশাও যেন শেষ নেই। ভি নেক (ইংরেজি ভি অক্ষরের মতো কলার), টার্টল নেক (সেঁটে থাকা গলাবিশিষ্ট), হাই নেক (উঁচু গলা), ক্রু নেক (গোলাকার কলার), সামনে খোলা, গোল গলা, ফুল হাতা, খাটো হাতা, ম্যাগি হাতা—শীতজুড়ে দেখা যায় এমন নানা কাট ও ডিজাইনের সোয়েটার। এটি খুবই আরামদায়ক ও মানানসই একটি পোশাক। ক্যাজুয়াল কিংবা ফরমাল—যেকোনো পোশাকের সঙ্গেই দারুণভাবে মানিয়ে যায়।
আজ ৪ ফেব্রুয়ারি, সোয়েটার দিবস। ২০১০ সালে বিশ্ব বন্য প্রাণী তহবিল (দ্য ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড) আনুষ্ঠানিকভাবে দিনটি চালু করে। শীতের হাত থেকে বাঁচতে সোয়েটারের উষ্ণতা এবং শীতপোশাক হিসেবে সোয়েটারের নান্দনিকতার ব্যাপারটি এই দিবস চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেলেও আরেকটি অতি জরুরি বিষয় এতে ভূমিকা রেখেছে। তা হলো, পরিবেশ সচেতনতা। একদিকে সোয়েটার বানাতে ব্যবহৃত হচ্ছে ভেড়াজাতীয় প্রাণীর পশম, অন্যদিকে পরিবেশদূষণের ফলে ধ্বংস হচ্ছে প্রাণিকুল। আবার মাঘ মাসের মাঝামাঝিতেই যেন পালাই পালাই করছে শীত। কই গেল সেই বাঘ-কাঁপানো মাঘের শীত! মানে পরিবেশ-প্রকৃতির এক লেজেগোবরে অবস্থা। পশমের বদলে সুতি বা ভিসকস কাপড়ের সোয়েটার ব্যবহার ও পরিবেশের ব্যাপারে সচেতন করতে প্রতিবছর পালিত হয় এই ‘সোয়েটার দিবস’।
ন্যাশনাল টুডে ডটকম অবলম্বনে