চুয়েটে আন্তর্জাতিক কোলাবরেশন অফিস চালু করা হবে: উপাচার্য

২৮ জুলাই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। চুয়েট বিষয়ে তাঁর ভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন তানবির আহমেদ চৌধুরী ও ফাইয়াজ মুহাম্মদ কৌশিক

প্রথম আলো:

১ সেপ্টেম্বর ছিল চুয়েট দিবস। চুয়েটের ২৩ বছরের পথচলার মূল্যায়ন আপনি কীভাবে করেন?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা-গবেষণার নিমিত্তে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমাদের চুয়েটের যাত্রা শুরু। আমি চুয়েটের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। বিগত ২৩ বছরে চুয়েট মহিরুহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে দেশ এবং বহির্বিশ্বে চুয়েট একটি সমাদৃত নাম। চুয়েটের ১৮টি বিভাগ ও চারটি ইনস্টিটিউটে বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ ছাত্র–ছাত্রী গ্র্যাজুয়েট, পোস্ট–গ্র্যাজুয়েট করছে।

প্রথম আলো:

দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্বে। শিক্ষার্থীদের সরাসরি পড়ানো আর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন—কোনটিকে বেশি উপভোগ করছেন?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: শিক্ষকতার আনন্দ অপার্থিব। তরুণ প্রজন্মের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া যায়। পাশাপাশি নতুনভাবে চিন্তা করার আগ্রহ তৈরি করা, নতুন জ্ঞান তৈরি করা যায়। সর্বোপরি নতুন প্রজন্মের সান্নিধ্যে থাকতে পারাটা অত্যন্ত আনন্দের। যখন একটা ভালো লেকচার প্রদানের অনুভূতির সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। এটা পবিত্র একটা অনুভূতি। বর্তমানে প্রশাসনিক দায়িত্বে আছি। এতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা লেভেল বা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে, ২২ বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থেকে প্রশাসনের করণীয় সম্পর্কে যা ধারণা করতাম, তা বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের বৃহত্তর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। কাউকে হয়তো দেশের বৃহত্তর কল্যাণের নিমিত্তে তৈরি করেছি। আবার কাউকে কাউকে দেশের বাইরে তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। তাই প্রশাসনিক দিকটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অনেক বড় আনন্দের বিষয়। মাস দুই–তিনের মধ্যে কাজ গুছিয়ে নিয়ে ক্লাস নেওয়ার ইচ্ছা রাখি। এতে ছাত্র–ছাত্রীদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি তারা কী চিন্তাভাবনা করছে জানতে পারি।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

আপনি দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই চুয়েটের তিন শিক্ষার্থীর পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে কী কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে যায়। তারপরও যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। পুকুরে বেষ্টনী, সেচে পানি তুলে ফেলা, সতকর্তামূলক সাইনবোর্ড দেওয়া থেকে শুরু করে অনেক কিছু দ্রুত করেছি। নিজে দাঁড়িয়ে সবকিছু তদারকি করেছি। সময়ে সময়ে শিক্ষার্থীদেরও ব্রিফ করেছি। আশা করি, শিক্ষার্থীরাও আমার কার্যক্রমকে আস্থায় নিতে পেরেছে। আমরা আসলে সবাই মিলে একটি পরিবার। সবখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চাই; সব অফিস, শাখাকে ফাংশনাল করতে চাই। ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা রোধে করণীয় ঠিক করে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং প্রশিক্ষণের আয়োজন করছি।

প্রথম আলো:

উপাচার্য হিসেবে আপনার প্রধান লক্ষ্য কী? মেয়াদ শেষে চুয়েটকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: শিক্ষা-গবেষণার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। র‍্যাঙ্কিংয়ে সম্মানজনক স্থানে চুয়েটকে দেখতে চাই। প্রাথমিক লক্ষ্য এশিয়ার মধ্যে একটি সম্মানজনক স্থান। এই পথ কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। বিদেশি ছাত্র–ছাত্রীদের চুয়েটে ভর্তির উদ্যোগ নিতে চাই। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে গবেষণা, শিক্ষক, ছাত্র–ছাত্রী এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু করতে চাই। বিদেশি স্কলারশিপ আকৃষ্ট করতে চেষ্টা চালাচ্ছি। সর্বোপরি অত্যন্ত গতিময় এবং কার্যকর সিস্টেম তৈরি করা আমার লক্ষ্য।

প্রথম আলো:

সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আপনার অগ্রাধিকারের জায়গাগুলো কী কী?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: শিক্ষা-গবেষণা বিশ্বমানে নিয়ে যেতে কাজ শুরু করেছি। বিশ্বের সবখানে যাতে চুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা যথাযথ সম্মান, স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন পায় সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষা-গবেষণার জন্য একটা আদর্শ পরিবেশ রচনা করতে চাই। দ্রুত সময়ে চুয়েটে আন্তর্জাতিক কোলাবরেশন অফিস চালু করা হবে।

প্রথম আলো:

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী মনে হয়েছে?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: চুয়েটে আসলে অবকাঠামোগত বেশ কিছু সমস্যা বিদ্যমান। জনবলও কম। বিশেষভাবে বলতে হয় ক্লাসরুমের অপ্রতুলতার কথা। এ ছাড়া আছে ছাত্র হলের সংকট। পাশাপাশি প্রয়োজন নতুন বিভাগগুলোর মানসম্মত একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং চুয়েটের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নসহ উচ্চতর গবেষণার পরিবেশ তৈরি।

প্রথম আলো:

শিক্ষার্থীদের আরও বেশি গবেষণা ও উদ্ভাবনমুখী করতে বিশেষ কোনো উদ্যোগ আছে কি?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: চুয়েটের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী সবাই মেধাবী। নিয়মিতভাবে দেশ এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় চুয়েটের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাই। উন্নত বিশ্বে গবেষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান বৃদ্ধি ঘটে। আমরাও গবেষণা খাতে অধিকতর গুরুত্ব দিতে চাই। নবীন গবেষকদের জন্য সুযোগ–সুবিধা বাড়াতে চাই। ভালো গবেষণাকে পুরস্কৃত করতে চাই। চুয়েটে বহুমুখী গবেষণা হাব গড়ে তুলতে চাই। গবেষণায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনতে চাই।

প্রথম আলো:

গবেষণা তহবিল বাড়ানো, আধুনিক ল্যাবরেটরি তৈরি এবং সামগ্রিক গবেষণার পরিবেশ উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: শিক্ষার্থীদের বসবাসের পরিবেশ থেকে আধুনিক ক্লাসরুম—সবখানে অনেক পিছিয়ে আমরা। এ ক্ষেত্রে কেবল সরকারের বরাদ্দ কিংবা পদক্ষেপের দিকে চেয়ে থাকলে হবে না, নিজেদেরও উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে, অনেক দাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, গোষ্ঠী থাকে যারা এ বিষয়ে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক, অনুদান প্রদানে আগ্রহী, তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। দ্রুত সময়ে বিদেশি অধ্যাপক, গবেষকদের খণ্ডকালীন শিক্ষক, অতিথি গবেষক ইত্যাদি পদক্ষেপের মাধ্যমে র‌্যাঙ্কিংয়ের উন্নয়নে কাজ করা হবে।

প্রথম আলো:

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ একাডেমিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের সুযোগ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: চুয়েটের সঙ্গে এরই মধ্যে বিদেশের বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক আছে। এরই মধ্যে চুয়েটে যাতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে আসতে পারে সেই লক্ষ্যে একটি কমিটি করে দিয়েছি। দূতাবাসগুলোকেও এতে সম্পৃক্ত করতে চাচ্ছি। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের চুয়েটে আনার পরিকল্পনা করেছি। পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীরাও যাতে অধিক হারে বিদেশে শিক্ষা-গবেষণায় যেতে পারে, সে জন্য তাদের পথ সুগম করেছি, গাইডলাইন প্রদান করেছি।

আরও পড়ুন
প্রথম আলো:

শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনার সহযোগিতার বিষয়টি সুবিদিত। শিক্ষার্থীদের জন্য এসব সুযোগ কীভাবে খুঁজে বের করেন?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে পূর্ণ স্কলারশিপসহ বিদেশে উচ্চশিক্ষায় পাঠিয়েছি। আমি সব সময়ই নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্ব দিই। আমি মনে করি, পরিশ্রম এবং সুসম্পর্কের মাধ্যমে এই কোলাবরেশন বৃদ্ধি করা সম্ভব। বিদেশে উচ্চশিক্ষা–গবেষণার অবারিত সুযোগ আছে। আমরা অনেকেই বিষয়টি জানি না কিংবা অবহেলা করি।

প্রথম আলো:

প্রায় দুই যুগ ধরে চুয়েটে কার্যকর ছাত্র সংসদ নেই। শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও মতামত প্রকাশের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসেবে ছাত্র সংসদ চালুর বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: ছাত্র সংসদ থাকা ভালো বিষয়। নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়। নেতৃত্বের গুণাবলি বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে দেশের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।

প্রথম আলো:

চুয়েটকে র‍্যাগিং ও মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস করতে আপনার প্রশাসনের পরিকল্পনা কী?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: র‌্যাগিং ও মাদকের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। জড়িত ব্যক্তিদের কোনো ছাড় নেই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। শিক্ষার্থীরা যাতে এ ধরনের হীন কাজে জড়িত না হয়, সে জন্য ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। চুয়েট মেডিক্যাল সেন্টারে একজন মনোবিজ্ঞানী সেবা প্রদান করছে। হল প্রভোস্টদের তদারকি এবং ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ প্রদান আরও নিয়মিত করার জন্য গুরুত্বারোপ করছি।

প্রথম আলো:

চুয়েটে ক্লাসরুম, আবাসন ও পরিবহন সংকটের পাশাপাশি হলের খাবারের মান এবং ক্যানটিনের মূল্য নিয়েও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আমরা স্মার্ট ক্লাসরুম সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছি।

প্রথম আলো:

চুয়েটের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গবেষণা, ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেবেন কি?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: আমরা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নানাভাবে সম্পৃক্ত আছি। এই অঞ্চলে অনেক শিল্প ও বাণিজ্যিক কারখানা রয়েছে। সমুদ্রবন্দর, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং দেশের বৃহৎ তেল শোধনাগার রয়েছে। তাই এখানে শিল্প গবেষণা সেন্টার গড়ে তুলতে পরিকল্পনা করছি আমরা। চুয়েটের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গবেষণা, ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে আমরা আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেব।

প্রথম আলো:

চুয়েটের অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছেন। বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অ্যালামনাইদের যোগাযোগ তৈরির কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: অ্যালামনাইরা আমাদের চুয়েট পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পরপরই সব বিভাগকে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন করার আহ্বান জানিয়েছি। বিভিন্ন বিভাগ এ লক্ষ্যে কাজও শুরু করেছে। একটি ডেটাবেজও তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি টিএসসিতে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের জন্য একটি অফিস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলো:

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপনার বিশেষ কোনো বার্তা আছে কি?

আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম: শিক্ষার্থীদের সামনে উচ্চশিক্ষা-গবেষণার নতুন নতুন সুযোগ উন্মোচিত হচ্ছে। সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। মনে রাখতে হবে, সুযোগ বারবার আসবে না। তাই সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এক দিন আগে পাস করে বের হওয়া মানে এক দিন সিনিয়র হওয়া। কোনো ভুল সিদ্ধান্তে যাতে ক্যারিয়ার নষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সঙ্গে একাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে চলার মানসিকতা থাকলে বছরে প্রায় দুই মাস শিক্ষার্থীরা ফ্রি থাকতে পারে, শিক্ষকেরাও পরের বছরের পরিকল্পনা, গবেষণা এগিয়ে নিতে পারে। এসব বিষয় আমাদের চিন্তা করতে হবে।