জেনে নিন কেন অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করা ক্ষতিকর
আপনি কি অনেক সময় অজান্তে নিজের সঙ্গে অন্যের তুলনা করে হীনম্মন্যতায় ভোগেন? সে সময়ে হঠাৎই আপনার খেয়াল হয়, আপনি নিজেকে কম সুখী আর কম আত্মবিশাসী বলে মনে করছেন? আদতে সব সময় নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা মানুষকে বেশি পরিশ্রমী বা ভালো প্রতিযোগী করে না। বরং ধীরে ধীরে মস্তিষ্ককে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেয়, যাতে সে নিজের অর্জনগুলোকেও কম গুরুত্ব দিতে শুরু করে। জেনে নিন কেন অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করা ক্ষতিকর।
১. নিজের অগ্রগতি দেখা বন্ধ হয়ে যায়
গবেষণায় দেখা গেছে, যখন মানুষ বারবার অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে, তখন সে নিজের অগ্রগতি বা সাফল্য নয়, বরং অন্যের অবস্থানকে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। ফলে প্রশ্নটা আর ‘আমি কি এগোচ্ছি?’ বা ‘আমি কি গতকালের চেয়ে ভালো করছি?’ থাকে না। বরং ‘আমি কি অমুকের চেয়ে এগিয়ে? তমুকের চেয়ে সুখী?’—এটিই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।
২. অর্জনগুলো ছোট মনে হতে থাকে
এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজের চেয়ে বেশি সফল মানুষের সঙ্গে নিজের তুলনা করে, তারা নিজের বড় অর্জনও কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে শুরু করে। এটিকে গবেষকেরা বলছেন ‘একমপ্লিশমেন্ট নেগলেক্ট’, অর্থাৎ নিজের সাফল্যকে অবহেলা করা।
৩. লক্ষ্য বারবার বদলে যায়
ধরা যাক, আপনি একটি লক্ষ্য অর্জন করেছেন। আর তখন যদি অন্য কারও আরও বড় সাফল্য দেখে আপনার মনে হয়, নিজের অর্জন তেমন কিছুই নয়, তখন তা সমস্যা বটে। এতে সন্তুষ্টির অনুভূতি পাওয়ার আগেই লক্ষ্য আবার বদলে যায়। আর আপনি ক্রমশ সন্তুষ্ট হৃদয় থেকে দূরে সরতে সরতে ‘অতৃপ্ত আত্মা’য় পরিণত হতে থাকেন। সেই সঙ্গে সুখ আপনার হাতের নাগালের বাইরে চলে যেতে থাকে।
৪. ঈর্ষাকে উচ্চাকাঙ্ক্ষা মনে হয়
অনেক সময় ঈর্ষা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা একরকম মনে হয়। কিন্তু ঈর্ষা মানুষকে এমন কিছু লক্ষ্য তাড়া করতে বাধ্য করে, যা সে আদতে নিজে চায় না; শুধু অন্যদের দেখে চাইতে শুরু করে।
শেষ কথা
সব সময় অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করলে মানুষ সফল হয় না। বরং এতে নিজের অগ্রগতি ও অর্জনগুলো আড়ালে থেকে যায়, আত্মতুষ্টি কমে যায়। আর মনে হয়, আমিই জীবনে পিছিয়ে আছি, আর সবাই এগিয়ে গেল। তাই আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত—প্রতিনিয়ত কৃতজ্ঞতা জানানোর চেষ্টা করা, যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা। বর্তমানকে গুরুত্ব দেওয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা বাস্তবে কোনো কিছু দেখে বা শুনে মনে মনে তার সঙ্গে নিজের তুলনা না করা। পৃথিবীতে কারও সঙ্গে আপনার তুলনা হয় না। প্রত্যেক ব্যক্তিই স্বতন্ত্র।
আপনার লক্ষ্য হলো প্রতিনিয়ত নিজের সেরা সংস্করণ হয়ে ওঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। গতকালকের আপনি থেকে যেন আজকের আপনি অন্তত ১ শতাংশ ‘উন্নত’ হন।
যা কিছু আপনার নিয়ন্ত্রণে আছে, কেবল সেসবেই ফোকাস করুন। ছোট ছোট অর্জনে টিকচিহ্ন দিতে দিতে জীবনে এগিয়ে যান।
নিজেকে ভালোবাসুন। নিয়ম করে নিজের যত্ন নিন। নিজেকে সুখে রাখার দায়িত্ব নিন। আর মাঝেমধ্যে নিজেকে উদ্যাপন করতে ভুলবেন না।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে