অনলাইন কোর্স থেকে যা শিখলাম

মডেল: সেতু
ছবি: স্বপ্ন নিয়ে

বলা হয়, বর্তমান পৃথিবীতে সব সময় শেখা কিংবা প্রতিদিন নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার মানসিকতা খুব জরুরি। করোনাকালে অনেক পথ বন্ধ হয়ে গেলেও নিজেকে এগিয়ে রাখার কিছু অনবদ্য সুযোগ কিন্তু আমরা পেয়েছি। তার একটি হলো ম্যাসিভ ওপেন অনলাইন কোর্স, সংক্ষেপে যাকে বলা হয় এমওওসি।

বিভিন্ন অনলাইন কোর্সের প্ল্যাটফর্মে প্রিমিয়াম কোর্সের পাশাপাশি বিনা মূল্যেও অনেক কোর্স করার সুযোগ আছে। কিছু কোর্সে বিনা মূল্যে সনদও পাওয়া যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে সনদের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হয়। করোনার এই সময়টাতে আমি অনলাইন কোর্সের প্ল্যাটফর্ম কোর্সেরা থেকে তিনটি কোর্স সম্পন্ন করেছি—লার্নিং হাউ টু লার্ন, প্রফেশনাল ই-মেইল রাইটিং এবং একাডেমিক ইংলিশ রাইটিং: গ্রামার অ্যান্ড পাংচুয়েশন। তিনটি কোর্স থেকে কী শিখলাম, কী ভালো লাগল, কী মন্দ লাগল, সেটাই পাঠকের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেব। যদি আপনিও অনলাইনে কোর্স করতে চান, হয়তো এই দিকগুলো জানা থাকলে সুবিধা হবে।

প্রথম কোর্সটি কোর্সেরার সবচেয়ে জনপ্রিয় কোর্সগুলোর একটি, যার মাধ্যমে আমি শেখার নানা উপায় শিখতে পেরেছি। অর্থাৎ কীভাবে শিখলে সেটি আরও বেশি স্থায়ী ও কার্যকর হয়, কীভাবে সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করা যায় এবং ভালো করা যায় পরীক্ষায়। দ্বিতীয় কোর্স থেকে জানতে পারি—কীভাবে একটি পেশাদার ই-মেইল লিখতে হয়; কোন কোন বিষয়ের দিকে নজর দিতে হয় লেখার সময়, পেশাদার ই-মেইলের ভাষা ও গঠনশৈলী কেমন, ই-মেইল লেখার ক্ষেত্রে সংস্কৃতি কীভাবে ভূমিকা রাখে ইত্যাদি। তৃতীয় কোর্সটিতে শিখেছি ইংরেজি ব্যাকরণ ও বিরামচিহ্ন বিষয়ে। একাডেমিক ক্ষেত্রে বা চাকরির জন্য আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি লিখতে হয় হামেশাই। এই লেখার ক্ষেত্রে ব্যাকরণ ও বিরামচিহ্নের ব্যবহার খুবই জরুরি। কেননা, এগুলো শুধু লেখার সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, অর্থও বদলে দেয়।

তবে নানা সুবিধার পাশাপাশি অনলাইন কোর্সের কিছু সীমাবদ্ধতাও টের পেয়েছি। এখানে নিজের ইচ্ছেমতো কোর্স করা যায়। ফলে ক্লাসে না এলে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। অনলাইনে শিক্ষক বা সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি আলাপের মাধ্যমে শেখার সুযোগ নেই। ফলে দেখা যায় আমরা অনেকেই অনলাইন কোর্স শুরু করি, কিন্তু সেগুলো আর শেষ করা হয়ে ওঠে না। আমি নিজেও বেশ কিছু অনলাইন কোর্স শুরু করে সম্পন্ন করতে পারিনি।

কীভাবে অনলাইন কোর্স যথাযথভাবে পুরোটা সম্পন্ন করতে হয়, সে-সম্পর্কিত কিছু পরামর্শও পেলাম অনলাইনেই। অনলাইন কোর্সে নিয়মিত হওয়ার জন্য প্রথমেই নিজেকে জিজ্ঞেস করা দরকার, কেন আমি কোর্সটি করছি, এই কোর্সটি থেকে আমি কী শিখতে চাই। নিজের ভালো লাগা ও প্রয়োজনকে প্রাধান্য না দিলে সেই শেখা কার্যকর হয় না। নিজের ভালো লাগা বা প্যাশন বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। যে ওয়েবসাইট থেকে আমি কোর্সটি করছি, সেটির ইন্টারফেসের সঙ্গে পরিচিত হওয়া চাই। একবার অভ্যস্ত হয়ে গেলে শেখার প্রক্রিয়াটিতে খুব বেশি সময় ব্যয় হয় না। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে কিছুটা সময় অনলাইন কোর্সের জন্য বরাদ্দ রাখলে প্রতিবার ‘কখন শিখব’, তা নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না।

কোনো বিষয়ে শুধু অনলাইনে ভিডিও দেখে বা নিবন্ধ পড়ে গেলেই শেখা পূর্ণতা পায় না। শেখাকে কার্যকর করতে সেটি প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে মজার উপায় হলো কুইজ ও ‘পিয়ার গ্রেডেড অ্যাসাইনমেন্ট’। কুইজে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, একটি মডিউলের বিষয়বস্তু কতটুকু আয়ত্ত হলো। আর ‘পিয়ার গ্রেডেড অ্যাসাইনমেন্ট’ পদ্ধতিতে অনলাইনে আপনার সহপাঠীরাই মূল্যায়ন করবেন, আপনার কতটুকু শেখা হলো। পাশাপাশি এখানে অন্যদের কাজ ‘রিভিউ’ করতে গিয়ে নিজের শেখাটাও আরও পোক্ত হয়। অনেক ওয়েবসাইট বা অ্যাপে মন্তব্যের জায়গায় সহপাঠীদের সঙ্গে আলাপ সেরে নেওয়ার সুযোগও আছে। অনলাইন কোর্সে শেখা বিষয়গুলো বাস্তব জীবনে অনুশীলন করে বেশ ভালো ফল পেয়েছি।

সফলভাবে অনলাইনের একটি কোর্সগুলো সম্পন্ন করার মধ্যে একধরনের আনন্দ আছে, যেমনটা একটু সুন্দর বই পুরোটা পড়ে শেষ করলে পাওয়া যায়! কোর্সেরা, ইউডেমি বা আমাদের দেশের টেন মিনিট স্কুলের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে শুধু শেখাই যায় তা নয়, বরং নিজের জানাশোনাটাও পৌঁছে দেওয়া যায় অন্যের কাছে।

কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম:

edx.org/

coursera.org/

udemy.com/

khanacademy.org/

futurelearn.com/

10 minuteschool.com/

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়