অভিনয়জীবনের গল্পগাথা

আমার অভিনয়ের শুরু যেমন আকস্মিক, কিছু সাফল্য যদি সত্যিই পেয়ে থাকি তা অপ্রত্যাশিত, তার গল্পটাও তেমনি চমকপ্রদ। আজকে আমি যেখানে এসে পৌঁছেছি, সেখানে পৌঁছানোর পথ মসৃণ ছিল না। হাজারো প্রতিকূল ও বৈরী পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমাকে লম্বা পথ চলতে হয়েছে। অনেকটা হার্ডল রেইসের মতো। একেকটা বাধা পার হয়েছি, আর হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি। আমার এমন কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না যে আমি বিরাট অভিনেতা হব, আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করব, প্রচ্ছদে আমার ছবি থাকবে, মানুষের হৃদয়ে একটা জায়গা করে নেব। একেবারে নির্জলা ভালোবাসা ছিল অভিনয়ের প্রতি। দিনে দিনে সে ভালোবাসাটাই উন্মাদনায় পরিণত হয়েছে।
আমি কী করে জাঁদরেল বাঘের মতো অমন বাবার সুরক্ষিত খাঁচা থেকে বেরিয়ে এসেছি, ভাবলে এখনো অসম্ভব মনে হয়। কতখানি মনের জোর ছিল যে এমন রক্ষণশীল পরিবারের ব্যূহ ভেদ করে নাট্যাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। নানাজন নানা সময়ে আমার এ যুদ্ধে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিলে এত দূর আসা সম্ভবই হতো না।
আমি অভিনয় একেবারে শূন্য থেকে শুরু করেছি। বাড়ির পরিবেশও অমন নয় যে চতুর্দিকে নাটক-থিয়েটারের বাতাস বইছে। আমার মেজো বোন কণা আপাই এক-আধটু অভিনয় করতেন মঞ্চে। আর মুনীর ভাই নাটক লিখতেন, নাটক পড়তেন, নিজে নাটক লিখে আমাদের পড়ে শোনাতেন। তখন দেখতাম, তিনি কী উত্তেজিত, কী আমোদিত। আমার মনে হয় মুনীর ভাইয়ের সেই নাট্যপ্রীতি ও উচ্ছ্বাসটা আমার মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছিল।
পরিবারের সদস্যদের চালচলন, কথাবার্তা, কথা বলার ঢং, ভিন্ন ভিন্ন লোকের ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলে কাপড় পরা ইত্যাদি অত্যন্ত সুচারুভাবে আমি অভিনয় করে দেখাতাম। সে ব্যাপারে ভাইবোনদের ঢোলের বাড়িও পেয়েছি। বাবাকে পর্যন্ত আমি ছেড়ে দিইনি। বাড়ির হর্তাকর্তা বিধাতাকে নকল করার বুকের পাটা দেখে আমার বাবা সেদিন বিস্মিত হয়েছিলেন। আমি বেশ মনে করতে পারি, আমি ও আমার অন্য ভাইবোনদের বাবা কীভাবে পড়ান, বাবার কাছে পড়ার সময় আমরা কাঁদতে কাঁদতে মুখ বিকৃত করে বাবার প্রশ্নের উত্তর দিতাম, আর সেগুলো আব্বা ভেংচি কেটে ক্যারিক্যাচার করে আমাদের দেখাতেন, পুরো পদ্ধতিটা আমি করে দেখাতাম। ভাইবোন ও অন্যান্য দর্শক-শ্রোতা যে সেটা উপভোগ করত, সন্দেহ নেই। এক দুপুরে এভাবে বাবাকে নকল করে অভিনয় করে দেখানোর সময় বাবার হাতে বমাল গ্রেপ্তার হলাম। কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে বাবা যে আমার কান মলে দিয়েছিলেন, আমার দিকে চোখ রাঙিয়েছিলেন, সবটা রাগই যেন কপট ছিল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, পুরো ব্যাপারটা তিনিও বেশ উপভোগ করেছিলেন। তাঁর ভাষা ছিল, ‘তোর এত বড় সাহস, তুই আমারে নি নকল করছ? অসৎ! খাড়া আইজ তোরে শ্যাষ করি হালাইয়ুম।’ বুঝতেই পারছেন, শেষ আমি হইনি। বহাল তবিয়তেই আছি। কেবল বাবাকেই নয়, ভাইবোন, ভাবি, অতিথি-অভ্যাগত সবার স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতাম অভিনয়ের মাধ্যমে। তখনো কিন্তু ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি, অভিনয়ের সঙ্গে এভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যাব।
আমি তখন কলেজে পড়ি। সকাল গড়িয়ে বেশ খানিকটা সময় পার হয়েছে। খাবার ঘরের জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ আওয়াজ এল, ‘অভিনয় করবি?’ দেখি মুনীর ভাই আমার কাঁধে হাত রেখে আমাকে প্রশ্নটা করছেন। আমি তো হতবাক। অবাক বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আমি?’ বললেন, ‘হ্যাঁ, তুই। কেন নয়?’ বললাম, ‘আমি অভিনয় করতে পারি নাকি?’ মুনীর ভাই খুব হালকা করে বললেন, ‘পারবি, পারবি। তুই তো সবাইকে নকল করে বেড়াস। এটা তোর জন্যে কিছুই না। একটা রোবটের চরিত্র। যন্ত্রমানব। হাত টান করে পা শক্ত করে খটাস খটাস যন্ত্রের মতো হাঁটবি আর ঠাস ঠাস করে কথা বলবি। ব্যস, হয়ে গেল।’ নিমরাজি হলাম। কিন্তু আমার পরের প্রশ্ন, ‘আব্বা?’ মুনীর ভাই হেসে উড়িয়ে দিলেন। অভয় দিয়ে বললেন, ‘আব্বাকে আমি সামলাব।’ অভিনয়টা সেদিন কী করেছি নিজেও বুঝিনি। কিন্তু অভিনয় আর মঞ্চের স্বাদটা ঠিকই পেয়ে গেলাম। বীরদর্পে বাড়ি ফিরলাম। আমি খুশি, মুনীর ভাই খুশি, বাবাও টের পেলেন না। বাহ্, কী আনন্দ আমার! নাটকটা ছিল শওকত ওসমানের ডাক্তার আবদুল্লাহ্র কারখানা। এই আমার নাট্যযাত্রার শুরু।
অভিনয়ে তখন নারীশিল্পী বড়ই দুষ্প্রাপ্য। নাট্যকার ও নির্দেশকদের কাছে আমার চাহিদা বাড়তে থাকল। এরপর তৈরি হলো আমাদের কজনা—নাট্যকার আবদুল্লাহ আল মামুন, রামেন্দু মজুমদার, তবিবুল ইসলাম বাবু এবং আরও কয়েকজনকে নিয়ে ‘থিয়েটার’ নাট্যগোষ্ঠী। নারীশিল্পীর স্বল্পতা আমার জন্য যেন শাপেবর হলো। থিয়েটারের প্রাণপুরুষ, নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা আবদুল্লাহ আল মামুন উপায়ান্তর না দেখে এক নারীচরিত্রের নাটক লিখতে শুরু করলেন। পরে থিয়েটার দলে নারী সমাগম হলে নাটকে নারীচরিত্রও বাড়ল।
অভিনয়টাকে তখন একটা খারাপ কাজ বলেই মনে করা হতো। আমার বাবাও নাটক-থিয়েটারকে শরিয়তবিরোধী মনে করতেন। সে কারণে আমাকে থিয়েটারে যেতে দিতে তাঁর আপত্তি ছিল। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, তখন যে কজন মেয়ে থিয়েটারে যেত, তারা বেশিদিন টিকতে পারত না। বিয়ের আগে বাপের বাড়ির বাধা এবং বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির হাজারো বিধিনিষেধ দুহাতে ঠেলে অভিনয় চালিয়ে যাওয়া মেয়েদের পক্ষে অসম্ভব ছিল। সবচেয়ে দুঃখজনক ছিল, মঞ্চে অভিনয় দেখে একটি মেয়েকে হয়তো কোনো ছেলে পছন্দ করত। আমরাও খুশি হয়ে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতাম। কিন্তু কী আশ্চর্য! বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই দেখা গেল স্বামীপ্রবর স্ত্রীর অভিনয় চিরতরে বন্ধ করে দিলেন। একটা মেয়ের হবু বরকে আমরা শপথ করিয়ে নিয়েছিলাম যে সে বিয়ের পর মেয়েটির অভিনয় বন্ধ করে দেবে না। বর বাবাজি সে শর্তে রাজি হয়েছিলেন। সে শর্ত অনুযায়ী আজও তাঁরা সুখেই কালাতিপাত করছেন। নারীদের এ সমস্যা এখন ততটা প্রকট নেই, এটা একটা সুখের ব্যাপার।
অভিনয়জীবনের শুরুতে আমি বাধা যত পেয়েছি, ততই যেন আমার কপাল খুলে গেছে। সেগুলো চলার পথে সহায়ক হয়ে উঠেছে। বাধা জয় করার প্রবল প্রবণতা আমার মধ্যে জেগেছিল তখন।
পাণ্ডুলিপি জোরদার না হলে যত বড় অভিনেতাই হোক না কেন কারও পক্ষে মনে রাখার মতো কিছু করে ওঠা সম্ভব নয়। এদিক থেকে আমার সময়কার নাট্যকার সৈয়দ শামসুল হক ও আবদুল্লাহ আল মামুনের নাম করতেই হয়। এখন দুঃসময়, কোকিলারা, মেরাজ ফকিরের মা, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, ম্যাকবেথ—এসব চিত্তাকর্ষক নাটক না পেলে আমার অভিনয় দর্শকের কতটা মন জয় করতে পারত, সন্দেহ আছে।
১৪ ভাইবোন, কঠিন বাবা আর কোমলমতি মাকে নিয়ে বিরাট বাড়ি ‘দারুল আফিয়া’য় বিরাট এক পরিবার আমাদের। সেখানে অভিনয়ের উপাদান-উপকরণ চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। আমাদের বাড়িতে দেখতাম একেক লোক একেক রকম। নোয়াখালীর গ্রামের বাড়ি থেকে আমার দূরসম্পর্কের এক মামা এসেছিলেন। তিনি সদ্য স্ত্রী হারিয়েছেন। প্রায় সন্ধ্যায় তিনি গান গাইতেন আর প্রয়াত স্ত্রীর জন্য কাঁদতেন। গান গেয়ে কেউ শোক করে কাঁদতে পারে, সেই আমার প্রথম দেখা। তিনি পেছনে দুটো হাত দিয়ে পায়চারি করতেন আর গাইতেন, ‘জীবনে যারে দাওনি মালা মরণে যেন দিতে এলে পু...ল (ফুল)।’ আমি উঁকি মেরে দেখতাম আর অবাক হতাম। এটাই আবার আমি অন্য সময় সবাইকে অভিনয় করে দেখাতাম।
অনেক পরে বুঝেছি, বইয়ের ভাষায় একেই বলে পর্যবেক্ষণ। মঞ্চে উঠে কতভাবে কত জায়গায় কত চরিত্রে এ পর্যবেক্ষণ কাজে লাগিয়েছি। মঞ্চই তো অভিনয়ের বিদ্যাপীঠ। সেখানে আমার নিজ চোখে দেখা বস্তির মেয়েদের হাঁটা, চলাফেরা, অবলীলায় গালিগালাজ দেওয়া, উচ্চস্বরে কথা বলা—সবই আমার চরিত্রে ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি। জীবনঘেঁষা নাটকে অভিনয় করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছি সব সময়। তার মানে এই নয় যে উচ্চবিত্তের কাহিনি আমার ভালো লাগে না। আবার যা আমি নই, ম্যাকবেথ বা দুই বোন নাটকে সেসব চরিত্রে অভিনয়টা করেও আমার অপার আত্মতৃপ্তি হয়েছে।
টেলিভিশন বাদ দিলে আমার অভিনয়জীবনের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। ১৯৬৪ সালে ঢাকায় টেলিভিশনের জন্ম। সেই জন্মলগ্ন থেকেই আমি এর সঙ্গে যুক্ত। একটা ছোট্ট ইউনিভার্সিটি ফোরাম দিয়ে ছোটপর্দায় আমার কাজ শুরু। বিটিভির প্রথম নাটকে আমি অভিনয় করেছি। মুনীর চৌধুরীর লেখা একতলা দোতলায় আমি ছাড়া আরও ছিলেন লিলি চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদার, ডলি ইব্রাহীম, খোন্দকার রফিকুল হক, রবিউল—এঁরা। নাটকটির প্রযোজক ও নির্দেশক ছিলেন (প্রয়াত) মনিরুল আলম। যে মহড়া এখন একেবারেই উঠে গেছে, একতলা দোতলা নাটকে সেই মহড়াই হয়েছিল একনাগাড়ে এক মাস। এখন ভাবতে অবাক লাগে, হাসিও পায়। আমি বিশ্বাস করি, মহড়ার কোনো বিকল্প নেই। এত দিন না হলেও আমি দু-তিন দিন মহড়ার পক্ষে।
তখন রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা ছিল না। একটা মজার ঘটনা না বললেই নয়। রামেন্দু মজুমদার সে নাটকে আমার নায়ক ছিলেন। একটা দৃশ্য ছিল, এমন মুগুর দিয়ে কাপড় কাঁচতে গিয়ে আমার পায়ের বুড়ো আঙুল থেঁতলে যায়। প্রেমিকপ্রবর রামেন্দু প্রেমের আতিশয্যে আমার বুড়ো আঙুল একটু ধরে ম্যাসেজ করতে চান। এখন যতবার তিনি আমার আঙুল ছুঁতে যান, ততবার আমি নিচুস্বরে তাঁকে শাসাই, ‘খবরদার। আপনি আমার পা ছোঁবেন না।’ ওমনি উনি থেমে যেতেন। তখন ওদিক থেকে প্রযোজকের হুংকার আসত, ‘কী হলো রামেন্দু? থেমে আছেন কেন? আঙুলটা ছোঁন।’ কীভাবে ছোঁবেন? শেষ পর্যন্ত নামকাওয়াস্তে ছুঁয়েছিলেন বোধ হয়।
আরেকটা চমকপ্রদ ঘটনা। আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামের প্রযোজনা ছিল ঢেউয়ের পরে ঢেউ। নাটকটির নায়ক সৈয়দ আহসান আলী সিডনি। নাটকের শেষ দৃশ্যটা ছিল দূর থেকে আমি আর বিপরীত দিক থেকে সিডনি এগোতে থাকেন। তাঁর হাত প্রসারিত। আমার হাতও প্রসারিত। দুজন দুদিক থেকে দুজনার হাত ধরার চেষ্টা করছি। অবশেষে ভালোবাসার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে দুটো হাতের গভীর মিলনে। প্রযোজকের এটাই ছিল অভিলাষ। কিন্তু আমি বেঁকে বসলাম। আমি ওঁকে ছোঁব না। ছুঁলে তো আমার বিয়ে হবে না। এখন কী করা যায়? অনেক ভেবেচিন্তে বের করা গেল, হাতটা একজন পুরুষের হলে কেমন হয়—যার হাত একটু মেয়েলি, লোমহীন? পাওয়া গেল বাদল রহমানকে। সাবান দিয়ে তার হাতে আমার চুড়িগুলো পরানো হলো। সিডনি আর বাদল রহমান একটু একটু করে পরস্পরের হাত ধরল। আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। কেউ কিন্তু সেদিন বোঝেনি ওটা কার হাত ছিল।
বিটিভির আরেকটি উল্লেখযোগ্য নাটক আবদুল্লাহ আল মামুন প্রযোজিত সংশপ্তক। এই নাটকের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠেছিল। শহীদ শহীদুল্লা কায়সারের অনবদ্য রচনা। এই তেজস্বী নারীর ভূমিকায় অভিনয় করে আমি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলাম। আজও হুরমতি নামে আমার যতটা পরিচিতি, মনে হয় ফেরদৌসী নামে তত নই। আমি যখন বাজার-হাটে যেতাম, মাছওয়ালা, সবজিওয়ালার ডাক চতুর্দিক থেকে আমার কানে আসত, ‘হুরমতি বুয়া এদিকে আসেন।’ এখনো অনেক সাধারণ লোকের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, ‘আচ্ছা, সত্যি সত্যি কি পয়সা পুড়িয়ে আপনাকে ছেঁকা দিয়েছিল? তা না হলে, অমন গগনবিদারী চিৎকার আপনি কীভাবে দিলেন?’ সার্থক জন্ম আমার।
আমি কোনো নাটকের স্কুল-কলেজ থেকে শিক্ষা পাইনি। অভিনয়ে আমি স্বশিক্ষিত। কম বয়সে যখন অভিনয়ে নামিনি, তখন থেকেই দুপুরে যখন সবাই ঘুমাত, আমি আমাদের রান্নাঘরের বেড়ার ফুটো দিয়ে বস্তির অশ্রাব্য ঝগড়ার আদ্যোপান্ত গোগ্রাসে গিলেছি। শুনেছি, কীভাবে মা মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালি দিচ্ছে। দেখেছি, কীভাবে নির্যাতক স্বামীর হাত থেকে বাঁচার জন্য নিজ ঘরে ফিরে আসা মেয়েটিকে বস্তিবাসীরা ‘জিনে ধরা’ বলছে আর শুকনো লঙ্কা পুড়িয়ে অসহায় মেয়েটির নাকে দিচ্ছে, তার চুলের মুঠি ধরে গরম পানিতে চুবিয়ে তথাকথিত জিন বিতাড়িত করছে। এখন বুঝতে পারি, ওসব অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে আমার কত কাজে দিয়েছে।
আমার সৌভাগ্য, আবদুল্লাহ আল মামুনের মাধ্যমে আমি নাট্যজগতে চালিত হয়েছি। প্রতিপদে তিনি আমার ভুলত্রুটি শুধরে দিয়েছেন, সাহস ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন। আমার এ অবস্থানে আসার পেছনে তাঁর অবদান অপরিসীম ও অনস্বীকার্য। কৃতজ্ঞতা আমার নিজের পরিবারের প্রতি, স্বামী-সন্তানের প্রতি, আমার শ্বশুরকুলের প্রতি, আমার বাবার পরিবারের প্রতি। সবার ওপরে ওপরওয়ালার প্রতি আমার বিনম্র কৃতজ্ঞতা তো আছেই। অমোঘ গন্তব্যের দিকে সবাই যাবেন। আমিও যাচ্ছি, কিন্তু সে তো সবার ভালোবাসা নিয়েই।