অসুস্থ অবস্থায় বাসায় বসে কী করবেন?

বিপদ তো বলে–কয়ে আসে না। আপনি সুস্থ শরীর নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। হঠাৎ পড়লেন দুর্ঘটনায়। হাত বা পা মচকে গেল। ভেঙেও যেতে পারে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ঘরে বসে থাকতে হতে পারে অনেক দিন। এমন পরিস্থিতিতে পরলে কী করা উচিত?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যেকোনো নেতিবাচক চিন্তা মাথায় এলে সুস্থ হতে বেশি সময় লাগে। তাই অসুস্থ অবস্থায় মনে দুশ্চিন্তা বাসা বাঁধতে দেবেন না। ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করতে হবে।
এ জন্য সবার আগে দুর্ঘটনা মেনে নেওয়ার জন্য মনকে প্রবোধ দিন। তাহলে দেখবেন নেতিবাচক দিকগুলো মনে জায়গা করে নিতে পারবে না। কাজের ক্ষেত্রে এটি হয়তো আপনাকে পিছিয়ে ফেলবে। তবে এটিকেই অন্যভাবে দেখার চেষ্টা করুন। এই যেমন অনেক দিন ধরেই একটু অবসর চাইছিলেন। এ সময়টা সেভাবে কাজে লাগান। আপনার পছন্দের কাজগুলো করতে পারেন।
এ সময় পরিবারের বা কাছের মানুষের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। ব্যস্ত থাকলেও পালাক্রমে অসুস্থ ব্যক্তিকে সময় দিতে হবে। তা না হলে একাকিত্বে ভুগবেন। সুস্থ হতে সময় লাগবে। বাড়ির পরিবেশটা আনন্দময় করে তুলুন। দিনে সময় না পেলে রাতে খাবারের পর তাঁর সঙ্গে গল্প করুন। বাইরে থাকলে ফোন করে খোঁজখবর নিন। এতে করে সে নিজেকে বোঝা মনে করবে না। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে বাড়ির বাইরে কোথাও থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেন। তাই পরিবারকে সাহায্য করতে হবে এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য। তাঁকে মানসিক শক্তির জোগান দিতে হবে। কিন্তু যাঁরা দীর্ঘমেয়াদি এমন আহত অবস্থায় থাকেন, তাঁদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা যায়। তখন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
সাময়িক এ ছুটিতে আপনি পছন্দের কোনো বই পড়তে পারেন। যেহেতু এ সময়ে বিশ্রামের প্রয়োজন হয়, তাই এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যা শরীরকে আরও অসুস্থ করে তুলবে। চলাফেরা করতে অসুবিধা হলে বিছানায় বসেই অনেক দিন ধরে জমানো সিনেমা দেখতে পারেন। বাড়িতে না থাকলে কাউকে দিয়ে কিনেও আনতে পারেন। সব সময় যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ হয়ে ওঠে না, চাইলে তাঁদের সঙ্গেও মুঠোফোনে কথা বলতে পারেন। তাঁরাও খুশি হবে, আপনারও ভালো লাগবে। সময়ের অভাবে হয়তো পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা হয়ে ওঠে না। এ সময় বাড়িতে তাঁদের আসতে বলতে পারেন। সময়টাও ভালো কাটবে। মন ফুরফুরে হবে। ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করতে পারেন। দেখা যাবে প্রয়োজনের বাইরেও কত কিছু আপনি জানতে পারছেন; যা অন্য সময় দেখার সুযোগ থাকে না। যা-ই করেন না কেন, মনটা ভালো রাখতে হবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শমতো অবশ্যই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।