আমনের বাম্পার ফলনে খুশি টেকনাফের চাষিরা

মাঠজুড়ে পাকা ধান। কক্সবাজারের টেকনাফের কৃষকদের মুখে এখন তাই হাসি। চলতি মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা। মাঠে মাঠে চলছে ধান কাটার উৎসব। বাজারে চালের দাম চড়া থাকায় এবার লাভও বেশি হবে বলে আশা করছেন কৃষকেরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ জুড়ে সোনালি আমন ধান ফলেছে। আমন ধান কেটে বাড়ির আঙিনায় আনার কাজ চলছে পুরোদমে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ধান মাড়াই শেষ হলে কৃষকদের ঘরে ঘরে নবান্নের উৎসব শুরু হবে। এরপর রোদে শুকিয়ে ধান গোলায় তুলবেন কৃষকেরা।

কৃষি বিভাগ জানায়, এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও সময়মতো বীজ ও সার পাওয়ায় টেকনাফে আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ জমির ধান পেকে গেছে।

চলতি মৌসুমে উপজেলার ২৫ হাজার ৯৩৫ একর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে তিন হাজার ৭৬৫ একর লবণ মাঠে ধান চাষ হয়েছে। গত বছর ২২ হাজার ৪৮০ একর জমিতে ৩১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ৩৭ হাজার ২০০ মেট্রিক টন আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে উৎপাদন ৪০ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদেরা।

নোয়াখালীপাড়া গ্রামের কৃষক আমির হোসেন (৩২) বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। পোকার আক্রমণে কিছুটা ক্ষতি হলেও এত বেশি ফলন হবে সেটা কল্পনাও করতে পারিনি। পাকা ধান কাটা শুরু করতে খুব ভালো লাগছে।’ রঙ্গিখালী গ্রামের কৃষক নজির আহমদ (৪৮) বলেন, ‘লবণের মৌসুমে জমিতে পলিথিন বিছিয়ে লবণ উৎপাদন করেছিলাম। চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে ব্রি ৪০ ও ৪১ জাতের ধানে চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছি।’

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল লতিফ প্রথম আলোকে বলেন, চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে অনেক লবণ মাঠে ব্রি ৪০ ও ৪১ জাতের ধানে চাষ করায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন হাজার মেট্রিক টন ধান বেশি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।