ঈদের সাজের সাতসতেরো

অপেক্ষার পালা প্রায় শেষ। ঈদের দিনটি নিয়ে আমাদের পরিকল্পনারও সীমা নেই। খাওয়াদাওয়া, আপ্যায়ন, বেড়ানো, পোশাকপরিচ্ছদ এবং সবশেষে আসে সাজগোজের পালা। ঈদের দিনটিতে নতুন পোশাকের সঙ্গে একটু পরিপাটি হয়ে থাকা আর একটু বিশেষভাবে না সাজলেই নয়। আমাদের সবার ইচ্ছা নিশ্চয়ই একই রকম!
নিজেকে লাবণ্যময়ী করে উপস্থাপন করতে সুস্থ ত্বকের বিকল্প নেই। তাই ঈদের সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই ত্বকের ও খাবারের দিকে নজর রাখুন। ত্বকের যত্নের জন্য ঈদের দু-এক দিন আগে একবার বিউটি পারলারও হয়ে আসতে পারেন। কিছু বাড়তি কাজ যেমন মেহেদি পরা, নেইলপলিশ লাগানো ইত্যাদি ঈদের আগের রাতেই সেরে ফেলুন।
ঈদের সকালটা সাধারণত বেশ ব্যস্ততাতেই কাটে। তার মধ্যেও নিজেকে কিছুটা পরিপাটি রাখা কঠিন কিছু নয়। এবারের ঈদে আবহাওয়া যেহেতু গরম, তাই সকাল থেকেই সাজে স্নিগ্ধতার ছোঁয়া রাখুন। গরমের উপযোগী পোশাকের সঙ্গে সাজও মানানসই হওয়া চাই। এ সময়ে মেকআপ একেবারেই হালকা নিন। একটু বিবি ক্রিম, দাগ-ছোপ ঢাকতে কনসিলার আর পাউডারই যথেষ্ট বেজ মেকআপের জন্য। চোখের কোলে সকালেই কাজল না পরে শুধু ওপরের পাতায় পানিরোধক লাইনার ও মাসকারা পরুন। পরে যখন একটু ভারী মেকআপ করবেন, ততক্ষণে কাজল ছড়িয়ে সমস্যার সৃষ্টি করবে না। পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে হালকা কোনো লিপস্টিক বা লিপগ্লস লাগিয়ে নিন।
দুপুরের পর থেকে রাত অবধি ঈদের মূল আয়োজন। নিশ্চয়ই এ সময়ের মধ্যে পরবেন বিশেষভাবে নির্বাচিত পোশাকটি। পোশাকের সঙ্গে মানানসই সাজের ব্যাপারে আগে থেকেই ভেবে রাখুন। মেকআপ শুরুর আগে মুখে স্ক্রাবিং করে ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। এরপর ময়েশ্চারাইজার দিয়ে প্রাইমার ব্যবহার করুন, যাতে মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী হয়। পছন্দসই কভারেভেজের (হালকা, মাঝারি বা ভারী) ফাউন্ডেশন ও কনসিলার লাগিয়ে পাউডার দিয়ে তা ঠিক করে নিন। মুখের নিখুঁত আদল পেতে কন্টুর ও হাইলাইট করুন। চোখের মেকআপের ক্ষেত্রে কিছুটা বৈচিত্র্য আনতে পারেন বিভিন্ন রঙের শেড ও লাইনার ব্যবহার করে। বেছে নিতে পারেন নিজের পছন্দমতো স্বস্তিদায়ক ও ট্রেন্ডি কোনো মেকআপ স্টাইল। যদি দ্বিধান্বিত থাকেন চোখের সাজ নিয়ে, তবে কালো-বাদামি স্মোকি আই করে নিতে পারেন। এই মিশ্রণের চোখের সাজ যেকোনো রঙের, যেকোনো ধরনের পোশাকের সঙ্গে খুব সহজে মানিয়ে যায়। চাইলে এক জোড়া ফলস আইল্যাশও (চোখের পাপড়ি) পরে নিতে পারেন। ভারী চোখের সাজের সঙ্গে নুড লিপ অনিন্দ্যনীয়। তবে সাহস করে কড়া কোনো রং, যেমন: রুবি, ওয়াইন, কফি, হট পিংক, গাঢ় বেগুনিও পরে নিতে পারেন। বেশ জমকালো দেখাবে। তবে কড়া কোনো লিপস্টিক পরতে চাইলে খেয়াল রাখবেন, পোশাকের রঙের সঙ্গে তা মানানসই কি না।
চুল বাঁধবেন, নাকি ছেড়ে রাখবেন? একেবারে সোজাসাপটা ছেড়ে না রেখে স্টাইলার দিয়ে ব্লো ড্রাই করে নিন অথবা রোলার-স্টাইলার দিয়ে ঢেউ খেলিয়ে নিন। কারলিং টং দিয়ে পুরোটা চুল স্পাইরালও করে নিতে পারেন। চুলে স্টাইল করার আগে চুল হালকা ভিজিয়ে লিভ-অন কন্ডিশনার দিন। এরপর হিট-প্রটেক্টর স্প্রে করে নিন, যাতে স্টাইলারের উচ্চ তাপে চুলের ক্ষতি না হয়। সবশেষে সেটিং-স্প্রে দিয়ে চুল ঠিক করে নিন।
আর হ্যাঁ, ঘর থেকে বের হওয়ার আগে ব্যাগে লিপস্টিকটা সঙ্গে নিতে ভুলবেন না। ঈদের মজার খাওয়াদাওয়া শেষে লিপস্টিকটা আবার ঠিক করার প্রয়োজন তো পড়বেই!
ব্লগার: গ্রিনস্টোরি