অনলাইন কেনাকাটা
ঘর থেকে সারা দেশে
করোনার দুঃসময়েও বাংলাদেশের তরুণেরা মেলে ধরছেন নিজেদের। নতুন বাস্তবতায়, নতুন উদ্যমে এগিয়েৃ চলছেন। জানান দিচ্ছেন তারুণ্যের অমিত শক্তি। বাংলা নববর্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় তরুণ, যাঁরা এরই মধ্যে দেখিয়েছেন প্রতিভার স্বাক্ষর, তাঁদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে ‘ছুটির দিনে’। ১৪২৮ বঙ্গাব্দেও উজ্জ্বল এমন তরুণদের হাজির করেছে ‘ছুটির দিনে’। যার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আছেন হাবিবুল মোস্তফা আরমান
২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটে (আইবিএ) এমবিএর ছাত্র হাবিবুল মোস্তফা আরমান। পড়াশোনা শেষ করলেই তাঁর সামনে ভালো চাকরির হাতছানি। কিন্তু নিশ্চিন্ত সেই জীবন ছেড়ে হাবিবুল ঠিক করলেন অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা করবেন। ব্যবসার সঙ্গী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের বন্ধু তৌহিদুল ইসলাম। এমন সিদ্ধান্ত শোনার পর হাবিবুলের পরিবারের সবাই বেঁকে বসলেন। তবু ব্যবসায় নেমে পড়লেন হাবিবুল।
ওই বছরের এপ্রিল মাসে দুই বন্ধুর জমানো টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু করে তাঁদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান খাস ফুড। তৌহিদুলের বাসাই ছিল তাঁদের প্রথম অফিস। আর বাসার শোবার ঘরটি পণ্য রাখার গুদাম। খাস ফুডের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হাবিবুল মোস্তফা বলেন, ‘তখন আমাদের কোনো ডেলিভারিম্যানও ছিল না। অর্ডার পেলে আমি বা তৌহিদুল সাইকেল চালিয়ে ডেলিভারি দিয়ে আসতাম। আমরা দুজন মিলেই তখন সব কাজ করতাম।’
ছোট্ট সেই প্রতিষ্ঠানের কলেবর এখন বেড়েছে বহুগুণ। নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায় তাঁরা এখন সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন মানুষের দোরগোড়ায়। বর্তমানে ১৫০ জন মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে খাস ফুড। অন্যদিকে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের প্রায় এক হাজারের বেশি খামারির অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে তাঁরা ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষের কাছে অনলাইন ও অফলাইনে তাঁদের পণ্য পৌঁছে দিচ্ছেন।
শুরুতে ই-কমার্স ওয়েবসাইট হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও ২০১৮ সালে রাজধানীর একাধিক স্থানে খাস ফুডের বিক্রয়কেন্দ্র চালু করেন তাঁরা। এই শাখাগুলো সরাসরি পণ্য কেনাবেচার পাশাপাশি ওই এলাকার পণ্য সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট শহরে খাস ফুডের শাখা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে শাখা আরও বাড়বে। ।
চলমান করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে অন্যান্য সময়ের চেয়ে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে খাস ফুড। ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ এবং চলতি বছরে অনলাইনে পণ্য বেচাকেনার পরিমাণ কয়েক গুণ বেড়েছে।
খাস ফুডের ওয়েবসাইটে ঢুঁ মারলেই দেখা যায়, সব ধরনের মুদিসামগ্রী, ফলমূল, মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, আচার ও মধু রয়েছে তাঁদের পণ্য তালিকায়। হাবিবুলেরও মূল উদ্দেশ্য মানুষের দরজায় নিরাপদ ও টাটকা পণ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। তিনি চান পণ্যের সর্বোচ্চ গুণগত মান নিশ্চিত করতে, তাই তো নির্দিষ্ট কয়েকজন চাষি ও খামারির কাছ থেকেই নিয়মিত পণ্য সংগ্রহ করে থাকেন। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কেনার ফলে ক্রেতারা একদিকে যেমন ভালো মানের পণ্য পাচ্ছেন, অন্যদিকে খামারিরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে মনে করেন হাবিবুল। এ ছাড়া খামারিদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য তাঁরা অনেক সময় খামারিদের ব্যবসায় সরাসরি বিনিয়োগও করে থাকেন।
হাবিবুলের মতে, ভেজাল খাবারের ভিড়ে প্রতিনিয়ত নিরাপদ ও টাটকা খাদ্যের চাহিদা বেড়েই চলেছে। এই চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপদ পণ্যের সরবরাহ অনেকটা কম। তিনি মনে করেন, অনেকেই আছেন যাঁরা পণ্যের গুণগত মানের ব্যাপারে সন্তুষ্ট হলে দামের জন্য আপস করেন না। সার্বিকভাবে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে খাস ফুডের কলেবর আরও বড় হবে। হাবিবুলের চাওয়া, প্রতিটি বাড়িতে যেন পৌঁছে যায় তাঁদের নিরাপদ খাদ্যসামগ্রী।
অনুলিখন
লেখক: বিডিজবস ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা, বেসিসের সাবেক সভাপতি