ঢাকার ধানমন্ডিতে শৈশব কাটানো মুশফিকুল আলম বিমান ওড়ার শব্দ পেলেই বারান্দায় ছুটে যেতেন। আকাশে আতিপাতি করে খুঁজত তাঁর চোখ। প্রতিবারই মাকে প্রশ্ন করতেন, বিমান কীভাবে আকাশে ওড়ে! সেই বয়সেই পোকাটা ঢুকেছিল মাথায়—বড় হয়ে বিমান বানাবেন। ছোটবেলার এই সব ইচ্ছা, প্রত্যয় কখনো কখনো বড় হতে হতে হারিয়ে যায়। মুশফিকের বেলায় তা হয়নি। তিনি যে কেবল অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ালেখা করেছেন তা–ই নয়, ব্রিটিশ রয়্যাল অ্যারোনটিক্যাল সোসাইটির কাছ থেকে পেয়েছেন পুরস্কার।
অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার নেশায় উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ে। স্নাতকেই তাঁর উদ্ধাবনী ক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছিল। স্নাতকোত্তর পড়ার জন্য পেয়ে গেলেন ইরাসমাস-মুন্ডাস শিক্ষাবৃত্তি। সুইডেন আর চেক রিপাবলিকানে সেই পাঠ চুকানোর পরপরই চেক রিপাবলিকানে পিএইচডি করার বৃত্তি পেলেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বৈমানিক ছাড়াই কীভাবে ভবিষ্যতে যাত্রীবাহী বিমান চলতে পারে।
পিএইচডি শেষে যেন ঘরের ছেলেকে আবার ঘরে (পড়ুন লিভারপুল বিশ্ববিদালয়ে) ফিরিয়ে আনল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, দিল পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ। হেলিকপ্টারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলেও কীভাবে নিরাপদে নেমে আসা সম্ভব—এ নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন তিনি। সেই গবেষণার সফলতা এ বছর মুশফিকুল আলমকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ইংল্যান্ডের রয়্যাল অ্যারোনটিক্যাল সোসাইটির এ বছরের হার্বাট লে সুর অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মুশফিক। অচিরেই হয়তো তাঁর আবিষ্কার ছড়িয়ে পড়বে উড়োজাহাজ শিল্পের নানা ক্ষেত্রে।
মুশফিক বলেন, ‘এবার আমার লক্ষ্য একাডেমিক গবেষণাকে শিল্পায়নের ব্যবহারে প্রয়োগ করা।’ আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে গবেষণায় যুক্ত থাকতে চান তিনি। ইচ্ছা আছে দেশে ফিরে নিজের গবেষণা আর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন। তিনি বলেন, ‘লালমনিরহাটে প্রথমবারের মতো আমাদের দেশে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। ইচ্ছা আছে দেশে এসে সেখানকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করব।’ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও প্রকৌশল শিক্ষায় আন্তবিভাগীয় শিক্ষা চালু করতে চান তিনি, যা শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
মাত্র ৩০ বছর বয়সেই পড়ালেখা ও গবেষণার মধ্য দিয়ে তাঁর অর্জন নেহাত কম নয়। তিনি মনে করেন, ছোটবেলা থেকে মা–বাবা তাঁকে নিজের আগ্রহের বিষয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন বলেই তাঁর জন্য এত দূর যাওয়া সহজ হয়েছে।