এবার নিজের দিকে খেয়াল রাখুন

সন্তান ও নিজের যত্ন নেওয়া চাই। ছবি: অধুন​া
সন্তান ও নিজের যত্ন নেওয়া চাই। ছবি: অধুন​া

মায়ের নিজের আবার যত্ন কী। মা তো সব সময় সন্তানদের যত্নই নেবেন। এমন ধারণা এখনো অনেকের আছে। কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়। সন্তান ও পরিবারকে সুস্থ রাখার জন্য মায়ের সুস্থ থাকা ভালো থাকা খুব প্রয়োজন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাসরিন আক্তার বলেন, ‘বেশির ভাগ মায়েরা সন্তানের যত্ন সঠিকভাবে নেন। কিন্তু নিজের যত্ন নিতে ভুলে যান। এতে তাঁরা পুষ্টিহীনতায় ভোগেন। আবার যাঁরা সদ্য মা হয়েছেন তাঁরা রাতে ঘুমাতে না পারলে দিনে যখনই সময় পাবেন ঘুমিয়ে নেবেন। বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য মায়েদের পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন গর্ভাবস্থার থেকেও প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণে। কেউ কেউ সন্তানের সঙ্গে রাত জাগেন। সন্তান পড়ে তাঁরাও বসে থাকেন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে অকালে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ হতে পারে।’
মায়েরা সন্তানের অসুখ হলে যত বিচলিত হন, তাঁর নিজের অসুখের বিষয়ে অতটা গুরুত্ব দেন না। এটি ঠিক নয়। যেকোনো অসুস্থতায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলা উচিত। সন্তান জন্মের পরে মেয়েদের ওজন বেড়ে যায়। তখন অনেকে বিচলিত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ আবার বিষয়টি পাত্তা দেন না। এসব না করে নিয়মিত হাঁটতে হবে। অতিরিক্ত শর্করা, তেল, মসলাজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। হঠাৎ করে অতিরিক্ত ওজন কমানোটা অনুচিত।
কর্মজীবী মায়েদের যেন বাসায় ফিরে সঠিকভাবে বিশ্রাম হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দুই বেলার খাবারের মধ্যে যেন খুব বেশি বিরতি না থাকে।
মায়েরা অনেক সময় সন্তানের লেখাপড়া ও তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা থেকে তাঁর মানসিক চাপ হতে পারে।
এই বিষয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মোহিত কামাল বলেন, ‘কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে মনকে ফুরফুরে রাখতে হবে। মা হয়েছেন বলে নিজের শখ পূরণ করা যাবে না, এমন নয়। বই পড়া, বন্ধুদের সঙ্গে বেড়ানো, আড্ডা দেওয়া কিংবা অন্য কোনো শখ থাকলে তা করতে হবে। মা হলেও তিনি যে আলাদা সত্তা, তা ভুলে যাওয়া চলবে না।’
লেখক: চিকিৎসক
মডেল: রুনা খান ও তাঁর মেয়ে রাজেশ্বরী