ব্যস্ত জীবনের প্রয়োজন মেটাতে মুঠোফোন যেমন অনবদ্য, তেমনি আবার হুটহাট বেজে ওঠা মুঠোফোন নিয়ে অদ্ভুত পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়াটাও বিড়ম্বনার। গুরুত্বপূর্ণ সভার সময় হঠাৎ বেজে উঠল মুঠোফোন। কিংবা রাস্তার আওয়াজের মধ্যে মুঠোফোনের কল ধরে উচ্চ স্বরে কথা বলতে হচ্ছে আপনাকে। কোনোটিই সুখকর নয়। প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গটি যেন প্রাত্যহিক জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো পরিস্থিতির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে ব্যবহারকারীকেই।
মানবসম্পদবিষয়ক প্রতিষ্ঠান করপোরেট কোচের মুখ্য পরামর্শক যিশু তরফদার জানালেন, স্থান-কাল-পাত্র বিবেচনায় নিয়েই করতে হবে মুঠোফোনের ব্যবহার। ফোনকলটির গুরুত্ব বিবেচনা করুন পরিস্থিতি সাপেক্ষে। আর মুঠোফোনে কথা বলার সময় অবশ্যই কণ্ঠে উষ্ণতা রাখুন। কথা বলার সময় একজন আরেকজনকে দেখতে পাচ্ছেন না বলে শীতল কণ্ঠের ফোনালাপ অন্য প্রান্তে থাকা ব্যক্তিটির সঙ্গে ভুল–বোঝাবুঝির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কথা বলার মতো পরিস্থিতি না থাকলে ফোনকলটি কেটে দিয়ে কলদাতাকে একটি খুদেবার্তা পাঠিয়ে রাখতে পারেন। ‘দুঃখিত’ বা ‘আমি কি আপনার সঙ্গে পরে কথা বলতে পারি?’ এ–জাতীয় ভদ্রতামূলক বার্তা বেছে নিতে পারেন টেমপ্লেট বা তৈরি বার্তা থেকেও।
কাজের মধ্যে
কাজের জায়গায়, কাজের সময় ফোনকল আসতেই পারে। সভা চলাকালে তাই মুঠোফোন নীরব (সাইলেন্ট) রাখুন। সভার সময় সামনে মুঠোফোন থাকতে পারে, কিন্তু ফোনটি একটু পরপর দেখবেন না। ফোনের দিকে যেন মনোযোগ আটকে না থাকে। জরুরি ফোনকল এলে ‘এক্সকিউজ মি’ বলে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কথা সেরে ফিরে আসুন আবার। সভা ছাড়াও কাজের জায়গায় কাজের সময় কাজের প্রয়োজন ব্যতীত মুঠোফোন ব্যবহার (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচরণ কিংবা গেম খেলা প্রভৃতি) করা একেবারেই অনুচিত।
কথা বলার স্থান-সময়
ভিড়ের মধ্যে বা রাস্তায় থাকলে মুঠোফোনে আসা ফোনকলটি না ধরাই ভালো। প্রচণ্ড আওয়াজের কথা বলতে ও শুনতে বিস্তর সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তবে কাছের বন্ধুদের আড্ডায় থাকলে অবশ্য তাঁদের হাসিগল্প খানিকটা সময়ের জন্য থামিয়েই ফোনালাপ সেরে নেওয়া যেতে পারে, এটা মূলত নির্ভর করে সেই বন্ধুদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ, তার ওপর।
খুব জোর আওয়াজে মুঠোফোনে কথা বলবেন না। আশপাশে থাকা অন্যরা যাতে বিরক্ত না হন আপনার ফোনালাপে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। অশোভন আলাপ থেকে বিরত থাকুন।
ফোনে কথা বলতে বলতে লিফটে ওঠার প্রয়োজন পড়লে ওঠার আগেই অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিকে জানিয়ে রাখুন যে আপনি লিফটে উঠছেন এবং আপনি সুবিধাজনক সময়ে পুনরায় কল করতে চেষ্টা করবেন। এরপর কলটি কেটে দিন। লিফট থেকে নেমে সুবিধাজনক জায়গায় গিয়ে পুনরায় কল করে কথা সেরে নিন।
বাড়ি থেকে ফোনকল
বাড়ি থেকেও পেশাগত কথা সারতে হতে পারে অনেক সময়। করোনাকালে বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করতে হচ্ছে আরও বেশি। এমন ক্ষেত্রে করণীয়—
টেলিভিশন বা কোনো অডিও চালু থাকলে ফোন ধরার আগে সেটির আওয়াজ থামিয়ে দিন।
সম্ভব হলে বাড়ির আলাদা একটি ঘরের দরজা আটকে পেশাগত কথা সারুন। তাহলে বাচ্চার আওয়াজ, টেলিভিশনের আওয়াজ, রান্নাঘরের আওয়াজ প্রভৃতি ঘরোয়া আওয়াজ পৌঁছবে না মুঠোফোনের অপর প্রান্তে। নিদেনপক্ষে একটি আলাদা কোণে গিয়ে কথা বলতে চেষ্টা করুন।
পেশাগত ফোনকলের সময় ছোট্ট শিশুটি হঠাৎ চলে এল সামনে বা আচমকা কান্না শুরু করে দিল বিপজ্জনক কোনো কাজ। কী করবেন তখন? ‘এক্সকিউজ মি’ বলে সংক্ষেপে পরিস্থিতিটা বলুন ফোনের অপর প্রান্তে থাকা মানুষটিকে, আর একই সঙ্গে শিশুটিকে সামলে নিন।
আরও যা
মুঠোফোনে আলাপ শুরু করুন সৌজন্যমূলক বাক্য দিয়ে।
নিজের পরিচয় দেওয়াটাও সাধারণ ভদ্রতার অংশ।
পেশাগত কথা শুরুর আগে বক্তব্য গুছিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে প্রয়োজনীয় কথা বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে।