কাজলরেখার উপাখ্যান

সারা শরীরে সুইবিদ্ধ অভিশপ্ত রাজকুমারকে নিয়ে বনবাসে দিন কাটে সওদাগর–কন্যা কাজলরেখার। সুচরাজাকে বিয়ে করাই নিয়তি ছিল তার। দীর্ঘদিন বহু কষ্ট সহ্য করে স্বামীকে সারিয়ে তোলে সে। তবে সুস্থ হয়ে রাজা নিজ স্ত্রীকেই মনে করে দাসী। ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হায়দার স্টুডিও মিলনায়তনে এমন কাহিনি নিয়ে মঞ্চস্থ হয় কাজলরেখা নাটকটি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ প্রযোজিত এই নাটকের কাহিনি ময়মনসিংহ গীতিকা থেকে নেওয়া। বাংলার লোকজ গল্পগাথার নতুন আঙ্গিকে বিনির্মাণ দেখে মুগ্ধ হয়েছেন উপস্থিত দর্শক। নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামীম হাসানের নির্দেশনায় নাটকটিতে অভিনয় করেছেন বিভাগের তৃতীয়–চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। নাটকের নির্মাণ, মঞ্চসজ্জা, আলোক প্রক্ষেপণ সবকিছুতেই ছিল নতুনত্বের ছেঁায়া।
মধ্যযুগের আখ্যানকে ভেঙে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে নাটকে। নাটকে ভাগ্যবিড়ম্বিত কালজরেখার কাহিনি এ যুগের কোনো নারীর জীবনে প্রতিস্থাপন করা যায় অনায়াসে। রূপকথা আঙ্গিকে এগোয় নাটকের কাহিনি। ভাটিয়াল মুলুকের সওদাগর ধনেশ্বর জুয়া খেলে সর্বস্বান্ত হয়। দুই সন্তান রত্নেশ্বর এবং কাজলরেখার জীবনে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। আর্থিক অবস্থা পরিবর্তনের জন্য ধনেশ্বর শুকপাখির পরামর্শে হীরার আংটি বিক্রি করে বাণিজ্যে যায়। বাণিজ্যে গিয়ে কপাল খুলে যায় ধনেশ্বরের। এরপর সে তার মেয়ে কাজলরেখার বিয়ের জন্য শুকপাখির পরামর্শ চায়। শাপগ্রস্ত বনবাসী সুচরাজার সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেয় শুকপাখি। এই পরামর্শকে ভাগ্যের লেখন ভেবে মেয়েকে বনবাসে রেখে আসে ধনেশ্বর। বহু সেবাযত্ন করে কাজলরেখা সারিয়ে তোলে সুচরাজাকে। তবু নিয়তির কাছে আবারও হেরে যায় সে। দাসী হয়ে সুচরাজার সঙ্গে ফেরে তার রাজ্যে। এরপর বহু আবর্তে ঘুরপাক খেয়ে আবারও বনবাসী হতে হয় কাজলরেখাকে। নিয়তি যেন তাকে তাড়া করে ফেরে বারবার। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এম এম পারভেজ, শওকত আলী, সারাবান তহুরা, মাহমুদুল হক, লতিফা ইয়াসমিন প্রমুখ। বায়েন দলে ছিলেন সোহেল চাকমা, আবির মন্ডল ও রিপন পাল।