কীভাবে কমাব বিদ্যুৎ বিল

মনে রাখতে হবে, বিল নিজে দিলেও বিদ্যুৎ পুরো দেশের সম্পদ
সংগৃহীত

‘ছেলেবেলায় অন্ধকার ভয় পেতাম। বড় হয়ে বিদ্যুৎ বিল দেওয়া শুরু করার পর থেকে এখন আলো ভয় পাই!’ প্রচলিত এই কৌতুক হয়তো অনেকের কাছেই বেশ ‘জীবনঘনিষ্ঠ’ মনে হবে। ঘরে বাতি জ্বালাতে গিয়ে কিংবা প্রচণ্ড গরমে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্রের সুবিধা পেতে আপনারও কি বিদ্যুৎ বিলের চোখরাঙানির কথা মনে পড়ে যায়? মিতব্যয়ী হওয়ার চেষ্টায় কম কম বিদ্যুৎ খরচ করেও মাস শেষে অনেকে দেখেন, বিলের অঙ্কে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। উপায় কী?

সামস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সামসুজ্জোহা মনে করেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রথম ধাপ হলো সচেতন হওয়া। ঘরে যতই বাতি থাকুক না কেন, লেখাপড়ার প্রয়োজন ছাড়া ঘরে একটি বাতিই যথেষ্ট। লেখাপড়ার দরকারে বেশি ওয়াটের বাতি জ্বালিয়ে, অন্যান্য সময় কম ওয়াটের বাতি ব্যবহারের অভ্যাস খরচ কমাতে সাহায্য করবে। সেন্সর লাগানো বাতি ব্যবহার করলে প্রয়োজন ও সাশ্রয়—দুটোই যুগলবন্দী হবে দারুণভাবে। শুধু তাই নয়, রান্নাঘরের অ্যাডজাস্ট ফ্যান চালিয়ে না রেখে শুধু প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করার অভ্যাসের সুফলও আপনি পেতে পারেন। কাপড় শুকানোর জন্য অনেকে বৈদ্যুতিক পাখা চালিয়ে রাখেন, এটাও একটা অপচয়। যাদের বাসায় এসি আছে, বাড়তি বিলের বোঝা তাদের কাঁধেই বেশি পড়ে বলে প্রচলিত আছে। ঘরে শীতল আবহ আনতে এসির তাপমাত্রা ২৬–২৭–এর মধ্যে রাখলে আরামদায়ক তাপমাত্রা থাকবে, তবে কম্বল গায়ে দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিলের কাঁটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আবার ইনভার্টার এসির ব্যবহারে বিল কম আসে। পিক আওয়ারে (বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা) বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে অফ-পিক আওয়ারে যেকোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার বিল কমানোর একটি কার্যকর কৌশল।

সব সময় মনে রাখতে হবে, বিল নিজে দিলেও বিদ্যুৎ পুরো দেশের সম্পদ। আপনার কিছুটা সচেতন বিদ্যুৎ ব্যবহারই পারে অন্য কারও বাসায় বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে।

বিদ্যুতের খরচ কমাতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সামসাদ খোরশেদ:

  • বাসা তৈরির সময় পশ্চিম দিকে রান্নাঘর, আর দক্ষিণ দিকে শোবার ঘর রাখলে ঘরে আলো-বাতাস বেশি ঢোকে, ফলে বাতি ও পাখার সীমিত ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

  • বাসার প্রতিটি জানালায় রঙিন কাচের ব্যবহার না করে স্বচ্ছ কাচ লাগালে ঘর প্রাকৃতিকভাবে আলোকিত হবে।

  • সোলার লাইটের (সৌরবাতি) ব্যবহার করা যেতে পারে। যাদের বাসায় সোলার আছে, তাদের সেটি ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি।

  • দিনের আলোর ব্যবহার বাড়াতে হবে। যত ভোরে সম্ভব ঘুম থেকে ওঠা ও রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে যাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

  • রান্নাঘর ও বাথরুমে পর্যাপ্ত আলো থাকা সত্ত্বেও দিনের বেলা বাতি জ্বালানোর বাজে অভ্যাস বর্জন করা উচিত।

  • কাপড় অল্প ময়লা হলেই ওয়াশিং মেশিনে না দিয়ে বেশ কিছু কাপড় জমিয়ে একত্রে ধুয়ে ফেলা যায়।

  • বিদ্যুৎ–চালিত যন্ত্র ব্যবহার না করে কিছু পণ্যের ম্যানুয়াল ডিভাইস ব্যবহার করলে বা রান্নাঘরে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করলে বিল কম আসবে। যেমন ব্লেন্ডার, এগ বিটার, ফুড প্রসেসর, টোস্টার, স্যান্ডুইচ মেশিন, জুসার ইত্যাদি।