ক্রিকেট যদি বাংলা সিনেমা হতো

ছবি: এএফপি ও ক্রিকইনফো
ছবি: এএফপি ও ক্রিকইনফো


ইনিংসের শুরুতেই চরম আঘাত! সৎ, নীতিমান এক ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে মাঠ থেকে বের করে দেয় ভিলেন বোলার।
মু হা হা হা হা হা হা হা!
সানডে মানডে ক্লোজ কইরা দিছ, মামা! মু হা হা হা হা হা হা হা!

ছবি: এএফপি ও ক্রিকইনফো
ছবি: এএফপি ও ক্রিকইনফো


ব্যাটসম্যানদের পরিবারের তখন অসহায় অবস্থা। ব্যাটসম্যান পরিবারের বাকি সদস্যদের খুন করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে বোলাররা। দুটি বল কোনোভাবে পার করলেও শেষ রক্ষা হয় না পরিবারের আরেক সদস্যের। তেড়ে আসা বল ব্যাটের কোনা লেগে সোজা স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে!
আমি জানতাম, তুই পারবি! আরেকটা ফালায়া দে!

ছবি: এএফপি ও ক্রিকইনফো
ছবি: এএফপি ও ক্রিকইনফো


অসহায় পরিবার কষ্ট করে বাঁচার চেষ্টা করে। কিন্তু ভিলেনরা অনেক শক্তিশালী। ইনসুইং, আউটসুইং, ইয়র্কারের মতো ভয়ানক অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করে তারা। ব্যাটসম্যান পরিবারের ঘাড়ত্যাড়া ব্যাটসম্যানকেও রানআউটের জালে ফেলে শেষমেশ। এভাবে একে একে আউট করা হয় পরিবারের সাত সদস্যকে। গরিব ও ছোট দল বলে আম্পায়ারের চোখে পড়ে না ব্যাটসম্যানদের কান্না। আম্পায়ারও ভিলেনদের পক্ষে।

ছবি: এএফপি ও ক্রিকইনফো
ছবি: এএফপি ও ক্রিকইনফো


ঠিক তখন ক্রিজে আসে ব্যাটসম্যান পরিবারের কনিষ্ঠতম সদস্য। বেশ রগচটা ও তেজি সে। প্রথম বলেই ছক্কা মেরে বোলারের সামনে গিয়ে বলে—
তুই আমার পরিবারের অনেককে হত্যা করেছিস, তোকে আমি ছাড়ব না! ছয় মেরে বিকাশ করে দেশে পাঠিয়ে দেব, শয়তান!
মু হা হা হা হা! যত বড় মুখ নয়, তত বড় কথা!

ছবি: এএফপি ও ক্রিকইনফো
ছবি: এএফপি ও ক্রিকইনফো


পরের বলেও কনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান ছক্কা হাঁকায়। পরের বলে চার। এভাবে সে তার কাছের মানুষদের হত্যার প্রতিশোধের অভিযানে এগিয়ে যায় দ্রুত বেগে।
ভিলেন দলের উইকেটকিপার শুরু করে স্লেজিং—
আরে বুদ্ধু, আমি একাই যা বেতন পাই, তা তোর দেশের সবাই মিলেও ইনকাম করতে পারে না!
খামোশ, চৌধুরী সাহেব! আমরা ছোটলোক হতে পারি, তবে ম্যাচ ফিক্সিং করি না!

প্রতিশোধের আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলছে ক্রিকেট মাঠ। ধারাভাষ্যকাররা উত্তেজিত, ভয়ে কাঁপছে আম্পায়ার। গ্যালারিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ব্যাটসম্যানের মা। প্ল্যাকার্ডে লেখা—
তোর ভাইয়ের খুনিদের ছাড়িস না, বাবা!