চৈত্রসংক্রান্তি আর ভাই ছাতু

রান্নার শখ দুজনেরই আছে—চন্দনা মজুমদার ও কিরণ চন্দ্র রায়
রান্নার শখ দুজনেরই আছে—চন্দনা মজুমদার ও কিরণ চন্দ্র রায়

চৈত্রসংক্রান্তির দিন নানা ধরনের আয়োজন থাকে সংগীতশিল্পী চন্দনা মজুমদারের বাড়িতে। এদিন সকাল থেকেই শুরু হয় রান্নাবান্না। মেয়ে যখন দেশে থাকত, তখন সে নিজের হাতেই চৈত্রসংক্রান্তির আয়োজন করত—এমনটাই জানালেন চন্দনা মজুমদার। শিল্পী দম্পতি কিরণ চন্দ্র রায় ও চন্দনা মজুমদারের মেয়ে পিংকি এখন দেশের বাইরে পড়াশোনা করছেন। এবার নিজের হাতেই সব করতে হবে চন্দনা মজুমদারকে। জানালেন, টক, তেতো, মিষ্টি—এসব খাবারের আয়োজন তো থাকেই। পাশাপাশি আরও থাকে বিন্নি ধানের খই, চিনির ও গুড়ের বাতাসা আর যবের ছাতু। কিরণ চন্দ্র রায় জানালেন, গরমে বাড়ে ছোঁয়াচে রোগের প্রকোপ। আর এ কারণেই চৈত্রসংক্রান্তিতে উচ্ছে, শজনে, পাটশাক, কাঁচা আম শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। গ্রামগঞ্জে চৈত্রসংক্রান্তির দিন মাটি বা কাঁসার বাসনে খাবার পরিবেশনের একটা ঐতিহ্য রয়েছে। এখনো সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা। এ ছাড়া চৈত্রসংক্রান্তির দিন ভাই ছাতু নামে আরেকটি উৎসব পালন করার রীতি রয়েছে কিরণ চন্দ্র রায়ের পরিবারে। চন্দনা মজুমদার বললেন, চৈত্রসংক্রান্তির রাতে ভাইয়েরা নতুন কাপড় আর মিষ্টি নিয়ে বোনের বাড়ি বেড়াতে যান। আর বোনেরা গুড় দিয়ে মাখা ছাতু খাইয়ে ভাইয়ের জন্য শুভ কামনা করে থাকেন। এ ছাড়া আরও থাকে চৈত্রসংক্রান্তির নানা পদের খাবারের আয়োজন। কয়েকটি রেসিপি দিয়েছেন চন্দনা মজুমদার

ভাজার থালি
ভাজার থালি

ভাজার থালি
উপকরণ: উচ্ছে গোল করে কাটা, লম্বা করে কাটা পটল, চাক করে কাটা বেগুন, আলু পাতলা গোল করে কাটা, ভাজার জন্য সরিষার তেল।
প্রণালি: উচ্ছে, পটল, বেগুন আর আলু আলাদা করে অল্প হলুদ ও লবণ দিয়ে মেখে রাখুন। এরপর কড়াইতে সরিষার তেল গরম করে নিন। এবার আলাদা করে উচ্ছে, পটল, বেগুন, আলু ভেজে তুলে নিন।

শজনের চচ্চড়ি
শজনের চচ্চড়ি

শজনের চচ্চড়ি
উপকরণ: শজনে ডাঁটা আধা কেজি, সরিষাবাটা চার চা-চামচ (এর মধ্যে দুটি কাঁচা মরিচ দিতে হবে), গোটা সরিষা আধা চা-চামচ, তেজপাতা ও শুকনো মরিচ ২টি, সরিষার তেল পরিমাণমতো।
প্রণালি: কড়াইতে তেল গরম করে শুকনা মরিচ, তেজপাতা ও আস্ত সরিষার ফোড়ন দিন। এবার শজনে আর পরিমাণমতো লবণ দিয়ে কষিয়ে নিন। দুই কাপ পানি দিয়ে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর সরিষাবাটা দিয়ে ভালো করে নেড়ে নামিয়ে নিন শজনে চচ্চড়ি।

.
.

টক ডাল
উপকরণ: মসুর ডাল ২৫০ গ্রাম, গুটি আম পরিমাণমতো, কাঁচা মরিচ, সরিষার তেল ও লবণ পরিমাণমতো।
প্রণালি: আমগুলো ছিলে টুকরা করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ডাল ভালো করে ধুয়ে কাঁচা মরিচ, লবণ ও সরিষার তেল দিয়ে সেদ্ধ বসিয়ে দিন। এবার পানিতে ভেজানো আমগুলোর কষ ছাড়াতে হালকা গরম পানিতে ভাপ দিয়ে নিন। সেদ্ধ ডালটুকু ভালো করে ঘুঁটে নিয়ে তাতে আমগুলো দিয়ে দিন। এবার কড়াইতে তেল গরম করে শুকনা মরিচ, তেজপাতা, সরিষা দিয়ে ডালটা সম্ভার দিয়ে নামিয়ে নিন।
শজনে ডাঁটার ঝালি
উপকরণ: শজনে ডাঁটা আধা কেজি, টমেটো ২টি, আলু ২টি, মাষকলাই ডালের বড়ি পরিমাণমতো। গোটা জিরা সামান্য। কাঁচা মরিচ ও তেজপাতা ৫-৬টি করে। সরিষার তেল, হলুদ, লবণ ও চিনি পরিমাণমতো। 
প্রণালি: টমেটো আর আলু পাতলা করে কেটে নিন। কড়াইয়ে তেল গরম দিয়ে বড়িগুলো হালকা লাল করে ভেজে নামিয়ে নিন। কড়াইতে আবারও তেল দিয়ে গরম জিরা, তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে সবজিগুলো ঢেলে দিন। হলুদ, লবণ, চিনি ও কাঁচা মরিচ দিয়ে কষিয়ে নিন। এবার বড়িগুলো আধা ভাঙা করে তরকারিতে দিয়ে আবারও কষিয়ে নিতে হবে। এরপর পানি দিয়ে নেড়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঢেকে রাখুন। ঝোল ঝোল হয়ে এলে ভাজা জিরার গুঁড়া দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।
পাটশাক ঝোল
উপকরণ: খেসারি ডাল ২০০ গ্রাম, পাটশাক ছয় আঁটি, কাঁচা মরিচ চারটি, হলুদ, লবণ, সরিষার তেল ও পানি পরিমাণমতো।

প্রণালি: প্রথমে ১ লিটার পানিতে খেসারি ডাল সেদ্ধ করে নিন। এবার ১ চা-চামচ সরিষার তেল, লবণ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ডালটা ভালো করে নেড়ে নামিয়ে রাখুন। পাটপাতা কুচিয়ে নিন। কড়াইতে তেল গরম করে কালিজিরা ফোড়ন দিন। পাটপাতা আর পরিমাণমতো লবণ দিয়ে ভালো করে নাড়তে থাকুন। শাক হালকা ভাজা হলে এর মধ্যে ডালটুকু ঢেলে ১০ মিনিট রেখে নামিয়ে নিন।

কাঁচা আমের টক
উপকরণ: মাঝারি আকৃতির কাঁচা আম ৬টি, আখের গুড় পরিমাণমতো, আস্ত সরিষা ও শুকনা মরিচ পরিমাণমতো।
প্রণালি: চুলায় পানিতে লবণ দিয়ে আমগুলো সেদ্ধ করে নিন। এবার তাতে আখের গুড় ঢেলে ভালো করে চামচ দিয়ে নাড়তে থাকুন। আরেকটি পাত্রে সরিষার তেল, শুকনা মরিচ, আস্ত সরিষা ফোড়ন দিন। এবার আমের টকটুকু এই পাত্রে ঢেলে কিছুক্ষণ জ্বাল দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।