ছয় দশকের চলচ্চিত্রের 'স্বরূপ সন্ধান'

নিরীক্ষাধর্মী প্রামাণ্যচিত্র ‘স্বরূপ সন্ধান’-এ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ভাষা-সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী নির্মাতাদের কয়েকজন।
নিরীক্ষাধর্মী প্রামাণ্যচিত্র ‘স্বরূপ সন্ধান’-এ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ভাষা-সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী নির্মাতাদের কয়েকজন।

বাংলাদেশে প্রায় ছয় দশকের চলচ্চিত্রের ইতিহাস এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্রের ভাষা ও সংস্কৃতির পরিবর্তন নিয়ে নির্মিত হয়েছে নিরীক্ষাধর্মী চলচ্চিত্র ‘স্বরূপ সন্ধান’। পরিচালক মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন ও আরাফাতুল কবির রিজভী। জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে আগামী ২ এপ্রিল বুধবার বিকেল চারটায় জাতীয় চিত্রশালায় ‘স্বরূপ সন্ধান’-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। 

১৯৫৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দেশের চলচ্চিত্রের দীর্ঘ পথপরিক্রমার বিষয়ে নির্মাতারা নিজস্ব গবেষণার সঙ্গে তুলে ধরেছেন চলচ্চিত্র অঙ্গনের কয়েক দশকের প্রতিনিধিত্বমূলক নির্মাতাদের বক্তব্য। চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও ভাষা-সংস্কৃতির নানা দিক নিয়ে ১৯ জন চলচ্চিত্র নির্মাতার সাক্ষাত্কার স্থান পেয়েছে পর্যবেক্ষণমূলক এই প্রামাণ্যচিত্রে।

‘স্বরূপ সন্ধান’-এর অন্যতম নির্মাতা মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘চলচ্চিত্রের ইতিহাস এবং এর নানা গতি-প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আমরা দেখেছি, মূলত সামরিক শাসন ও গণতান্ত্রিক শাসনামলসহ নানা রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পালটে গেছে চলচ্চিত্রের ভাষা ও সংস্কৃতির ধারা।’ তিনি জানান, পাকিস্তান আমল এবং স্বাধীন বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের গতি-প্রকৃতিকে কয়েকটি পর্বে ভাগ করে এই সেই পর্বের চলচ্চিত্র ভাষা ও ধারাকে তুলে ধরা হয়েছে ‘স্বরূপ সন্ধান’-এ। বিভিন্ন সময়ে দেশের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন, সংগ্রাম এবং বিভিন্ন শাসনামলের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সেই সময়ের চলচ্চিত্রে।

নিরীক্ষাধর্মী প্রামাণ্যচিত্র ‘স্বরূপ সন্ধান’-এর পোস্টার।
নিরীক্ষাধর্মী প্রামাণ্যচিত্র ‘স্বরূপ সন্ধান’-এর পোস্টার।

সাজ্জাদ আরও জানান, ‘স্বরূপ সন্ধান’ চলচ্চিত্রটিতে ইতিহাসক্রম অনুযায়ী উপস্থাপিত এই পর্বগুলো হলো— প্রতিবাদ পর্ব (১৯৫৬-৭০), প্রতিরোধ পর্ব (১৯৭১), আবেগ পর্ব (১৯৭২-৭৫), সম্ভাবনা পর্ব (১৯৭৬-৯৮), স্বপ্নভঙ্গ পর্ব (১৯৯৩-২০০৭) এবং বিনির্মাণ পর্ব (১৯৯৯-২০১১)।

চলচ্চিত্রের নানা দিক নিয়ে পরিচালক সুভাষ দত্তসহ (সম্প্রতি প্রয়াত) আজিজুর রহমান, আমজাদ হোসেন, মশিউদ্দিন শাকের, চাষী নজরুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, তানভীর মোকাম্মেল, মোরশেদুল ইসলাম, নারগিস আক্তার, কাজী হায়াত্, আবু সায়ীদ, গিয়াস উদ্দিন সেলিম, শামীম আখতার, সৈয়দ ওহিদুজ্জামান ডায়মন্ড ও ফৌজিয়া খানসহ চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আলোচনা আছে এই চলচ্চিত্রে।

‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বরূপ সন্ধান’ বা সংক্ষেপে ‘স্বরূপ সন্ধান’ নামের নিরীক্ষাধর্মী এই প্রামাণ্যচিত্রটির দৈর্ঘ্য ২৪৭ মিনিট। চলচ্চিত্রটি সম্পাদনা করেছেন আবু সুফিয়ান। এতে সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন কামরুজ্জামান ফিরোজ ও মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। প্রযোজনা সংস্থা ‘অন্বেষা’র ব্যানারে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রটির সংগীত পরিচালনা করেছেন দিদারুল করিম ও রবিন্স চৌধুরী এবং গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ভাগীরথ মালো।

প্রামাণ্যচিত্রটির অন্যতম পরিচালক মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই চলচ্চিত্রসহ দৃশ্যশিল্পের নানা মাধ্যম নিয়ে গবেষণা ও পাঠদান করেছেন। পেশাদার সাংবাদিকতায় কর্মরত ছিলেন একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রধান আলোকচিত্রী হিসেবে। বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজমের ফ্যাকাল্টি সদস্য। অপর পরিচালক আরাফাতুল কবির রিজভী চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে কাজ করছেন। 

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসের আগের দিন ২ এপ্রিল বুধবার বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত জাতীয় চিত্রশালায় ‘স্বরূপ সন্ধান’-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে শিগগিরই সারা দেশে ‘স্বরূপ সন্ধান’-এর প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছেন নির্মাতারা।
প্রামাণ্যচিত্রটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন ওয়েবসাইট www.onwesha.com/qfs ঠিকানায়। এ ছাড়া ফেসবুকে www.facebook.com/events/1418491831732789 ঠিকানায় পাওয়া যাবে ‘স্বরূপ সন্ধান’-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনীর বিস্তারিত।