টিকিটে ভুল বানান
>১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচের যে টিকিট ছাপা হয়েছিল, তাতে ‘বাংলাদেশ’ লেখা হয়েছে ভুল বানানে! বিসিবি অবশ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে। যদি সেটাই সত্যি হয়, তাহলে অচিরেই হয়তো আমরা বিসিবির কাছ থেকে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পাব। বিসিবির হয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি এবং তার একটি আবেদনপত্রের নমুনা আগাম ভেবেছেন আসফিদুল হক

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নমুনা
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
পদের নাম: প্রুফ রিডার।
পদের সংখ্যা: পরে দেখা যাবে।
আবেদনের যোগ্যতা:
১. প্রার্থীকে অবশ্যই প্রশ্ন ফাঁস ডালভাত হওয়ার আগের কোনো এক বছরের স্নাতক/স্নাতকোত্তর হতে হবে।
২. ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি ইংরেজিতে নির্ভুলভাবে লেখার যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি নির্ভুলভাবে লিখতে পারা অতিরিক্ত যোগ্যতা বলে বিবেচিত হবে।
৩. ইদানীংকালের ‘জনপ্রিয়’ একটি পরীক্ষায় যাঁরা অংশ নিয়েছেন বা ভবিষ্যতে নেবেন, তাঁদের আবেদন করার দরকার নেই। কারণ তাঁরা হয়তো যুগোস্লাভিয়া, লিখটেনস্টাইন, মাসাচুসেটস ইত্যাদি ভয়ংকর সব নাম মুখস্থ করার তালে বাংলাদেশের নামটাতেই ভুল করে ফেলবেন।
৪. প্রার্থীকে অবশ্যই উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন হতে হবে এবং চোখ-কান খোলা রেখে চলতে হবে। কারণ বিসিবির কর্তারা ভীষণ ব্যস্ততায় দিন কাটান, ফলে অনেক ছোটখাটো উপলক্ষ তাঁদের মাথার আশপাশে ঘোরে কিন্তু ভেতরে ঢোকে না। এ কারণেই মিরপুরে ১০০তম ম্যাচে বাংলাদেশ না খেলে অংশ নিয়েছে দুটি ভিন্ন দেশ। এসব ছোটখাটো ব্যাপার কর্তাদের মাথায় না হোক, অন্তত কানে ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো কর্মস্পৃহা থাকতে হবে।
বেতন এবং অন্যান্য সুবিধা: বেতন নিয়ে টেনশনের কিছু নেই।
আবেদনের নিয়ম: প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়ে একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। সেখানে যিনি ম্যান অব দ্য সিরিজ হবেন, তাঁকেই চূড়ান্তভাবে ‘প্রুফ রিডার’ পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
আবেদনপত্রের নমুনা
বরাবর
যথাযথ কর্তৃপক্ষ,
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড
বিষয়: ‘প্রুফ রিডার’ পদে চাকরি প্রসঙ্গে।
জনাব,
যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে আজকের ‘রস+আলো’তে আপনাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি আমার চোখে পড়েছে, ঠিক যেন ঝুমুরের চোখে প্রথমবারের মতো চোখ পড়ার মতো। ঝুমুর আমার সাবেক প্রেমিকা। জীবনে প্রথমবারের মতো যেদিন ঝুমুরকে দেখি, সেদিনই আমার মনে হয়েছিল, ‘বাহ্, একেই তো আমার চাই।’ আজ আপনার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি দেখে আমার বেদনাসিক্ত বুকে সেই একই রকম অনুভূতি জেগে উঠেছে। ঝুমুরকে আমি পাইনি, কিন্তু আপনাদের এই চাকরিটা আমার চাই-ই চাই।
মহোদয়ের কাছে সংক্ষেপে, বিনীতভাবে জানাতে চাই কেন আমি এই পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। আজকে আমি যে ঝরঝরে, শুদ্ধ বানানে বাংলা লিখছি, এর পেছনে আছে ঝুমুরের অবদান। সম্পর্কের শুরুর দিকে আমি ঝুমুরের সঙ্গে চ্যাট করতাম বাংলিশ ভাষায়। মানে ইংরেজি অক্ষর দিয়ে বাংলা। শুরুতে সেগুলো ঝুমুরের কাছে ‘এত্তগুলা কিউট’ লাগত। কিন্তু আস্তে আস্তে সে বিরক্ত হতে শুরু করল। আমাকে বারবার ঠিকভাবে লিখতে বলত, কিন্তু পারতাম না শেষ পর্যন্ত। তাই একদিন ঝুমুর আমাকে ‘খ্যাত’ বলে তার জীবন থেকে ব্লক করে দিল। সেই আঘাত সইতে না পেরে আমি সঠিক বানানে লেখার প্র্যাকটিস শুরু করি। আর আপনারা তো জানেনই, প্র্যাকটিস মেকস অ্যান ইডিয়ট পারফেক্ট। আমি এখন বাংলা ও ইংরেজি—দুটোতেই সমান দক্ষ।
অতএব, উপরিউক্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাকে চাকরিটা দিয়ে বাধিত করবেন।
বিনীত
..................