দুই বাংলার শ্রুতি উৎসব

মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদ আয়োজিত আবৃত্তি অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন এক শিল্পী
মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদ আয়োজিত আবৃত্তি অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন এক শিল্পী

‘ওপার পদ্মা/ এপার গঙ্গা/ মধ্যে করতল/ সেতু বাঁধো/ মৈত্রী সেতু/ প্রেমের শতদল’—ত্রিপুরার কবি অনিল সরকারের এ কবিতার মতোই সংস্কৃতির সেতুবন্ধ তৈরি করছেন দুই বাংলার শিল্পীরা। কখনো এপার বাংলায়, আবার কখনো ওপার বাংলায় সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন দুই দেশের শিল্পীরা। ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে হয়ে গেল দুই বাংলার আবৃত্তিশিল্পীদের এমনই একটি আয়োজন। ‘দুই বাংলার শ্রুতি উৎসব-২০১৫’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদ।
বিকেল চারটায় অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। এ সময় তিনি বলেন, একটি স্বতন্ত্র শিল্প হিসেবে বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় আবৃত্তি। এই শিল্পটি অত্যাচারের বিরুদ্ধে দৃপ্ত আদর্শ হয়ে আজ তার নিজস্ব অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদের সভাপতি মোহাম্মদ মছরুর হোসেন।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে শুরু হয় দুই বাংলার আবৃত্তিশিল্পীদের পরিবেশনা। শুরুতে আবৃত্তি নিয়ে মঞ্চে আসেন ভারতের সংগঠন ‘শৃন্বন্তু’। তাদের দলীয় পরিবেশনা ‘পাগলা ঝোড়া’ মুগ্ধ করে দর্শকদের। এরপর মঞ্চে আসেন এই বাংলার আবৃত্তি সংগঠন উচ্চারক আবৃত্তি কুঞ্জের শিল্পীরা। তাঁরা পরিবেশন করেন ‘সীমান্ত’। উচ্চারকের পর ভারতের আত্রা ক্রিয়েটিভ শ্রুতি নাট্যদল পরিবেশন করে ‘উড়ান’। বৃন্দ আবৃত্তি করে কলকাতার সারথি আবৃত্তি দল, চট্টগ্রামের আবৃত্তি সংগঠন তারুণ্যের উচ্ছ্ব্াস ও শব্দনোঙর।
বায়েজিদ সাগরের সঞ্চালনায় কবিতার পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে ছিল কথামালা। বক্তব্য দেন জিনবোধি ভিক্ষু, মজহারুল হক শাহ, রণজিৎ রক্ষিত ও ফরিদ মাহমুদ। বক্তারা বলেন, ‘শিল্প সব সময় সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম করে। সেখানে ভাষা ভিন্নতা ক্ষীণ হয়ে যায়। সংস্কৃতির স্রোেতাধারা মঞ্চায়নের মাধ্যমে শিল্পসত্তা তৈরি করে। যার সীমারেখা সীমাবদ্ধ নয়।’ সবশেষে মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদের ‘তপস্বী ও তরঙ্গিনী’ বৃন্দ পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় আয়োজন।