দেখব দেখাব জানাব

ভ্রমণপিপাসু মানুষের বেড়ানোকে আরও সুন্দর করে তোলার জন্য পর্যটন সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটকদের স্থানগুলো সম্পর্কে ধারণা দিতে তারা খণ্ডকালীন টুরিস্ট গাইড নিয়োগ করে। এ সময় টুর গাইডের চাহিদা বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা এই কাজে যুক্ত হতে পারেন। 
বিস্তারিত জানাচ্ছেন তারিকুর রহমান খান

পর্যটনের এই মৌসুমে আপনিও পেতে পারেন টুরিস্টদের গাইডের খণ্ডকালীন চাকরি
পর্যটনের এই মৌসুমে আপনিও পেতে পারেন টুরিস্টদের গাইডের খণ্ডকালীন চাকরি

পেশা হিসেবে কেমন
ঢাকা ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরের ব্যবসা উন্নয়ন ব্যবস্থাপক নিশাদ আহমেদ জানান, শুধু খণ্ডকালীন হিসেবেই নয়, বর্তমানে অনেকেই পুরোপুরি চাকরি হিসেবে এই পেশা বেছে নিচ্ছেন। এ কাজে কাজের ধরন, বেতন, সারা দেশে ঘুরে দেখার সুযোগ, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়াসহ অনান্য সুযোগ-সুবিধা বেশ ভালো।
কাজের ধরন ও দক্ষতা
খণ্ডকালীন চাকরি হিসেবে টুর গাইড সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ করতে হয়। গ্রিন বাংলাদেশ টুরের পরিচালক মোরশেদুল মুকুল জানান, ঘোরার সময় পুরোটাই কাজের মধ্যেই থাকতে হয়। পর্যটকদের ঘুরিয়ে দেখানো, পরামর্শ দেওয়া, সাবধান করা, সচেতন করা, তাঁদের ছবি তোলাসহ নানা ধরনের কাজ করতে হয়।
জার্নি প্লাসের প্রধান নির্বাহী তৌফিক রহমান জানান, এ পেশায় যেকোনো পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার দক্ষতা থাকতে হবে। থাকতে হবে একাধিক ভাষার ওপর দখল। যাঁরা টুর গাইড হিসেবে কাজ করতে চান, তাঁদের প্রধানত ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় দক্ষ হতে হবে। এ কাজে বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁদের সবকিছু সুন্দরভাবে বোঝানোর দক্ষতা থাকতে হবে। স্মার্ট ও শিক্ষিত তরুণেরা এই পেশায় ভালো করেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটনস্থল সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে।
রথ দেখা ও কলা বেচা
বাংলা সাহিত্যে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে, রথ দেখা হলো, কলা বেচা হলো। প্রতিবছর শীত মৌসুমে টুর গাইড হিসেবে খণ্ডকালীন কাজ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ এই কাজে ঘোরার সেই শখ পূরণ হয়, আবার কিছু আয়ও হয়।’
কীভাবে আবেদন করবেন
সেপ্টেম্বর থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় বাংলাদেশে পর্যটনের মৌসুম। এ সময় লোক নিয়োগের জন্য সংবাদপত্র ও অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এ ছাড়া টুর কোম্পানিগুলোর ওয়েবসাইটে খণ্ডকালীন নিয়োগ বিজ্ঞাপন
দেওয়া থাকে।
বেতন ও সুযোগ-সুবিধা
দ্য টাইগার ট্র্যাভেলের ব্যবস্থাপনা সহকারী আবদুল্লাহ আল কাফী জানান, এ কাজে নিয়োগ হয় দিন ও মাস হিসাবে। খণ্ডকালীন চাকরির ক্ষেত্রে দিন হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিজ্ঞ হলে প্রতিদিন দুই হাজার থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা। নতুন লোকের ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার মতো দেওয়া হয়ে থাকে। আর মাস হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হলে ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। দুই ক্ষেত্রেই থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য সুবিধা তো রয়েছে।