নাচ, গান, আবৃত্তি কিংবা অভিনয়—সবকিছুতেই আছেন নীলাঞ্জনা
‘বাসন্তী রঙের মুকুটটা যখন মাথায় পরলাম, পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন মা। আড়চোখে মার দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, ইশ, সময়টা যদি কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে দিতে পারতাম,’ বলছিলেন নীলাঞ্জনা রহমান। দেশীয় ফ্যাশন হাউস ‘বিশ্বরঙ’ আয়োজিত ‘বাসন্তী সুন্দরী ২০২২’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এই ছাত্রী।
নাচ, গান, আবৃত্তি কিংবা অভিনয়—সবকিছুতেই আছেন নীলাঞ্জনা। নাচের হাতেখড়ি হয়েছে অল্প বয়সে। শিল্পকলার শামিমা দিনার কাছে শিখেছেন মণিপুরি নাচ আর নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদের কাছে কত্থক। অন্যদিকে রবীন্দ্রসংগীতের চর্চার জন্য গেছেন ছায়ানটে। ছবি আঁকা শিখেছেন। আর মায়ের সঙ্গে বসে আবৃত্তির অনুশীলন করতেন নিয়মিত। কিছুটা বিস্ময় নিয়েই জানতে চাইলাম, ‘এত কিছু সামলাতেন কীভাবে? হাঁপিয়ে উঠতেন না?’
প্রশ্ন শুনে নীলাঞ্জনা হাসলেন, ‘শিখতে চাইলে একটু কষ্ট তো করতেই হয়। তবে আমি শিখতে ভালোবাসি। মা-বাবা চাইতেন নানা রকম দক্ষতা অর্জন করি। আমিও সুযোগগুলো লুফে নিয়েছি। শুধু শিখে গেছি তা নয়, অংশগ্রহণ করেছি নানা ধরনের প্রতিযোগিতায়। সবগুলোতে জিততে পারিনি হয়তো, তবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বেড়েছে অভিজ্ঞতা।’
সারা দেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার সাত শ প্রতিযোগী ‘বিশ্বরঙ বাসন্তী সুন্দরী ২০২২’–এ অংশগ্রহণ করেন। যাচাই–বাছাইয়ের পর সাত দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণে সুযোগ পান ১০০ জন। শেখানো হয় নানা ধরনের কৌশল। এরপর সেরা ২০ থেকে পরের ধাপে যান ১০ জন। সেই ১০ জনের মধ্য থেকেই সেরা হয়ে মুকুট মাথায় পরেছেন নীলাঞ্জনা। এই পুরো যাত্রাটা কেমন ছিল? ‘বাসন্তী সুন্দরী’ বললেন, ‘একদিন টিভিতে এ প্রতিযোগিতার বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। বিজ্ঞাপনের একটি বাক্য আমাকে বিশেষভাবে টেনেছিল। বাক্যটি ছিল, “এখানে শিল্পীর জন্ম হয়।” আমি যেহেতু শিল্পী হতে চাই, তাই আমার কাছে মনে হয়েছে, আমার জন্য এটাই হয়তো সঠিক প্ল্যাটফর্ম। এরপরে গ্রুমিংয়ের দিনগুলো বেশ আনন্দের ছিল। অনেকেই বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। নানা বয়সের প্রতিযোগীদের সঙ্গে সাত দিনব্যাপী গ্রুমিংয়ে অনেক কিছু শিখেছি। এরপর তো ফাইনালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এটাকে আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্টও বলা যায়। সবার কাছ থেকে এত সাড়া পাব ভাবিনি।’
জীবনের একটা বড় সময় সংস্কৃতির নানা শাখার পেছনে বিনিয়োগ করেছেন। তাই সৃষ্টিশীল যেকোনো কাজে অনেকের থেকে এগিয়ে থাকেন নানা দিক দিয়ে। ক্যাম্পাসের সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকেন সব সময়। স্কুলে ছিলেন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি। ‘গার্লস অব দ্য ইয়ার’–এর মনোনয়নও পেয়েছিলেন। এ ছাড়া কাজ করেছেন বেশ কিছু টিভি বিজ্ঞাপনে। নীলাঞ্জনা বলছিলেন, ‘আমি ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলাম। লেখাপড়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই ক্লাব করতাম। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় যখন অংশ নিয়েছি, শিক্ষকেরা অনেক সাহায্য করেছেন। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক বা সহশিক্ষা কার্যক্রমে জড়িত থাকলে জড়তা কেটে যায়। ফলে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা রপ্ত করতে সুবিধা হয়। আমার ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। তবে আমার এত দূর আসার পেছনে আমার সংস্কৃতিমনা পরিবারের অবদান অনেক। তাঁরা সব সময় পাশে থেকে সাহস দিয়েছেন।’
বাসন্তী সুন্দরী হওয়ার পর থেকে আরও নানা ধরনের কাজের প্রস্তাব পাচ্ছেন নীলাঞ্জনা রহমান। ইতিমধ্যে বিশ্বরঙের সঙ্গে কাজ করছেন মডেল হিসেবে। মডেলিং, অভিনয় নাকি নাচ—কোন ক্ষেত্রে এগোতে চান? নীলাঞ্জনার কৌশলী উত্তর, ‘এটা আসলে বলা কঠিন। নাচের প্রতি আমার দুর্বলতা আছে, আবার গান গাইতেও ভালো লাগে। মডেলিংয়ের কাজও উপভোগ করছি। দেখা যাক, ভবিষ্যতে কী হয়।’
নীলাঞ্জনার পড়ার বিষয়টাও সহজ নয়। অণুজীববিজ্ঞান। সবে তো প্রথম বর্ষে পড়ছেন। সামনের দিনগুলোতে পড়ালেখার চাপ নিশ্চয়ই আরও বাড়বে। লেখাপড়া সামলে তিনি কোন ক্ষেত্রটিতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন, দেখার অপেক্ষায় থাকলাম আমরাও।