নিজের আঁকা মাস্ক নিয়ে সুরখাব
একজন স্বভাব আঁকিয়ে সুরখাব আম্বার (২৬)। রংপুরের কারমাইকেল কলেজে স্নাতকোত্তর পড়ছেন তিনি। করোনাকালের ঘরবন্দী সময়ে নিজেই খুঁজে নিয়েছেন আয়ের পথ। তিনি মাস্ক তৈরি করেন, মাস্কে নিজ হাতে কারুকাজ করেন। শৈল্পিক সেই মাস্ক বিক্রি করেন।
শুরুটা গত বছর। করোনাকালে কলেজ বন্ধ হলো। বাড়িতে বসে থেকে অস্থির হয়ে পড়েছিলেন সুরখাব। কয়েক দিন আগে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের বাঁশবাড়ি মহল্লায় তাঁদের বাড়িতে বসে এসব কথা শুনি। সুরখাব জানান, ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি ঝোঁক ছিল। মনের কল্পনায় যা ভাবেন, তা-ই আঁকেন। এসব মেলে ধরেন মাস্কের সীমিত ক্যানভাসে।
সুরখাব বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে নিজের সেলাই করা ও নকশা করা মাস্ক এক স্বজনকে উপহার দিয়েছিলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি দেখে অর্ডার পেতে থাকি।’
সৈয়দপুর শহরের বেশ কিছু দোকানে সুরখাবের তৈরি মাস্ক বিক্রি হচ্ছে এখন। প্রথমে একাই সেলাই করে দৃশ্যচিত্র আঁকতেন। তখন ২০ থেকে ৩০টি মাস্ক তৈরি করা সম্ভব হতো। বর্তমানে সুরখাবকে সহযোগিতা করছেন তাঁর মা, ছোট বোন ও ভাবি। সেলাইয়ের কাজে দুজন কর্মীও নিয়েছেন তিনি। প্রতিদিন ৩০০টি নান্দনিক মাস্ক তৈরি হয় তাঁর বাসায়। প্রতিটি মাস্ক ৩০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করেন।
সুরখাব জানান, ২০১৭ সালে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। মনোমালিন্যের কারণে শ্বশুরবাড়ি থেকে ২০১৯ সালে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর কিছু করার চেষ্টা থেকে বাবার বাড়িতে ‘কালার ওশেন’ নামে একটি ছবি আঁকা শেখানোর স্কুল চালু করেন। করোনা মহামারি শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর স্কুল। যখন ভাবছিলেন, দুর্দিনে কী করবেন, তখন থেকেই শুরু হলো নকশা করা মাস্ক তৈরি।
করোনাকালে এ কাজের সন্ধান পেয়ে খুশি সুরখাব ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।