পেনাল্টি মিসের নানা ব্যাখ্যা

নানা কারণে পেনাল্টি মিস করে বসেন খেলোয়াড়েরা। আর পেনাল্টি মিসের পর নানা মুনি দেন নানা মত। সেসবই শোনাচ্ছেন আসফিদুল হক


পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেওয়া দলের সমর্থক মুনি

পক্ষপাতদুষ্ট রেফারির চাপিয়ে দেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে আমরা তাঁর মুখের ওপর জবাব দিয়েছি। শুরু থেকেই এই রেফারি আমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছিলেন, যার সর্বশেষ উদাহরণ ছিল ওই পেনাল্টি। আরে ভাই, ডি-বক্সের মাঝখানে গিয়ে প্লেয়াররা ডিগবাজি খেলেই আপনি পেনাল্টি দিয়ে দেবেন! কখনো সিনেমা-টিনেমা দেখেন না আপনি? ওই টিমের কিছু প্লেয়ার যে তালপাতার সেপাই না হওয়া সত্ত্বেও বাতাস লাগলেই ডিগবাজি খেয়ে পড়ে যায়—এই তথ্য জানার জন্য তো বিসিএসের প্রস্তুতি নিতে হয় না। তাদের রেকর্ড ঘাঁটলেই জানা যায়। কিন্তু আসল ব্যাপার হচ্ছে, যেনতেন উপায়ে রেফারি একটি বিশেষ দলকে জিতিয়ে দিতে চান। কিন্তু সত্যের জয় হয় সব সময়, যা আমাদের গোলকিপারের হাতে প্রমাণ হয়ে গেল।

পেনাল্টি মিস করা দলের সমর্থক মুনি

এটা কী করলে তুমি? এত সহজ একটা পেনাল্টি মিস করে ফেললে! নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না। এত দিন ধরে এই তোমার প্র্যাকটিস! গোলপোস্টের এত সামনে থেকে কিক নিয়েও গোল করতে পারলে না? এখন আর কিছু ভাবতে পারছি না... (মিনিট পাঁচেক পর) নাহ্, ভেবে দেখলাম, আসলে পেনাল্টি মিস করা আমাদের জন্য শাপেবর হয়েছে। কারণ, প্রতিটি পেনাল্টি নিয়েই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। নিষ্পাপ পেনাল্টি এই পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া ভার। তাই পেনাল্টি থেকে গোল করে খেলায় এগিয়ে গেলে মনের ভেতর খুঁতখুঁতানি থাকত। তার চেয়ে আমরা বরং কষ্ট করে খেলি। পরিশ্রম করে গোল দেওয়ার মধ্যে আনন্দ আছে, সৃজনশীলতা আছে। অন্যদিকে পেনাল্টির গোল হচ্ছে গোলাপের কাঁটার মতো, গোলাপ শুকিয়ে যায় কিন্তু বুকের মাঝে কাঁটা বিঁধে থাকে। তাই পেনাল্টি ছাড়াই আমরা দৃঢ়প্রত্যয়ে ডি-বক্সের দিকে এগিয়ে যাব। গিয়ে এক হালি গোল দেব—এটাই এখনকার প্রত্যাশা।

গোল ঠেকানো দেশের সরকারি বাণী

প্রিয় জনগণ, আপনারা দেখলেন, এইমাত্র সাফল্যের সঙ্গে বিশ্ব এবং গোলপোস্ট কাঁপানো খেলোয়াড় রোনালদোর পেনাল্টি শুট ঠেকিয়ে দিলেন অখ্যাত এক গোলকিপার। অবিস্মরণীয়, অভূতপূর্ব এই সাফল্য একমাত্র আমাদের সরকারের আমলেই সম্ভব। আপনারা জানেন, আগের সরকারের আমলে এসব অখ্যাত গোলরক্ষকেরা পেনাল্টির আগে ভয়ে কাঁপত। তারা ঠিকমতো খাবার পেত না, লো প্রেশার ও পুষ্টিহীনতায় ভুগত। ফলে বিচ্ছিন্ন দু-একটা পেনাল্টি আটকালেও বেশির ভাগ পেনাল্টিতে গোল হয়ে যেত। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় আসার পর গোলকিপারদের বুকে দুর্বার সাহস, শরীরজুড়ে পুষ্টি ওভারলোডেড। তারা জানে, দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। আমরা তাদের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি, তারা ওয়াই-ফাই রাউটার লাগিয়ে নিয়েছে। এখন তাদের দিয়ে যেকোনো কিছু করা সম্ভব। জনগণের বুকে এই সাহস এনে দেওয়ার দাবিদার একমাত্র বর্তমান সরকার। জনগণ এবং গোলকিপাররা আমাদের সঙ্গে আছে, তাই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে ফোর-জি গতিতে। সামনের নির্বাচনে উন্নয়নের ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য মানুষ আবার আমাদেরই বিজয়ী করবে—এ ব্যাপারে আমরা দৃঢ়প্রত্যয়ী।

পেনাল্টি মিস করা দেশের বিরোধীদলীয় বাণী

প্রিয় জনগণ, আপনারা দেখলেন, কত সহজ একটা পেনাল্টি মিস করে বসল আমাদের সবার নয়নের মণি লিওনেল মেসি। মেসির মতো খেলোয়াড় সহজ সহজ পেনাল্টি মিস করছে—এই অবিশ্বাস্য দৃশ্যও আজকাল দেখতে হচ্ছে। এর পেছনে বর্তমান সরকারের হাত আছে। মানুষ যেখানে ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছে না, সেখানে পেনাল্টি তো অনেক বিশাল ব্যাপার। পেনাল্টিতে গোল করার জন্য দরকার ঠান্ডা মাথার পরিকল্পনা। কিন্তু এই ফ্যাসিবাদী সরকারের অত্যাচারে জনগণের মাথা লাটিমের মতো দিন-রাত ঘুরছে। বিরোধী দলের কর্মীদের ওপর একের পর এক ন্যক্কারজনক হামলায় জনগণ আজ দিশেহারা, গতিহারা। দেশের জনগণের এই দিশেহারা হাহাকার টেলিপ্যাথির মাধ্যমে পৌঁছে গেছে মেসিদের মতো বিখ্যাত খেলোয়াড়দের মাথায়। তাঁরা রাতের পর রাত গোপনে কান্নাকাটি করছেন। বিরোধী দলের ওপর সরকারের অত্যাচার, জুলুম-নির্যাতনের দৃশ্য দেখে তাঁরা আজ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই পেনাল্টি পেয়েও তাঁরা গোল করতে পারছেন না। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আমরা অবিলম্বে একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন দাবি করছি। আমরা ক্ষমতায় গেলে আর কেউ পেনাল্টি মিস করবে না—এটাই আমাদের এখন নির্বাচনী ওয়াদা।