পোষা প্রাণী নিয়ে এমন ঝামেলায় পড়লে কী করবেন

খরগোশ পালেন অভিনেত্রী শেহতাজ
ছবি: সংগৃহীত

পোষা প্রাণী নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় অনেককে। কোথাও বেড়াতে গেলে পোষ্য কোথায় থাকবে, এটা নিয়েও চিন্তায় পড়ে যান কেউ কেউ। কারও চিন্তা আবার অতিথিদের নিয়ে। কারণ, অনেকে কুকুর, বিড়াল বা খরগোশ দেখলে ভয় পান। তাই যে বাড়িতে এমন পোষা প্রাণী থাকে, সেখানে অতিথি যেতে চান না। কী করা এমন পরিস্থিতিতে!

মানুষ বনাম প্রাণী

প্রাণীদের নিয়ে কারও কারও মধ্যে নেতিবাচকতা কাজ করে। কেউ ভয় পান, কেউ আবার নাক সিটকান। কেউ কেউ স্বাস্থ্যগত কারণে প্রাণীদের ঘরে রাখা অপছন্দ করেন। তাই পোষ্য থাকলে কিছু বিষয় খেয়াল রাখুন—

  • প্রাণীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এবং টিকা দিলে ওরাও যেমন সুস্থ থাকে, তেমনি বাসার মানুষও থাকে নিরাপদ।

পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে পোষা প্রাণীকে
ছবি: অভিনেত্রী তানহা তাসনিয়ার ফেসবুক থেকে নেওয়া
  • পরিবারের সবাই ওদের মেনে নিলেও সব অতিথি হয়তো তেমন সহজভাবে ওদের মেনে না-ও নিতে পারেন। তেমন অতিথি এলে অতিথিকে আলাদা একটি কক্ষে বসাতে পারেন, যাতে প্রাণীরা সেই ঘরে ঢুকতে না পারে। প্রাণীদের আলাদাকক্ষে বন্দী করে রাখতে যাবেন না। হঠাৎ বন্দী করে ফেললে ওরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। কুকুর হলে তো চিৎকার করে, ঘরের দরজা–জানালা ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইবে। তাই এটা না করাই ভালো।

  • দরজা খোলা পেলে ফ্ল্যাট বাসার বাইরে চলে যেতে পারে আপনার পোষা প্রাণী। অবশ্যই এদিকে লক্ষ রাখুন, কেউ ওদের তাড়া করতে পারে কিংবা ওদের দেখে ভয় পেতে পারে। ছাদে বা বাইরে নিয়ে গেলে সব সময় সঙ্গে থাকুন। হাতের কবজির ওপর ওদের হারনেস (বিশেষভাবে প্রাণীর গলা ও শরীরে আটকে রাখা রশি) পেঁচিয়ে রাখুন। নইলে হঠাৎ ভয়ে ছুটে পালানোর চেষ্টা করবে আপনার পোষ্য।

যেদিন বাসা থাকবে খালি

পরিবারের সবাই হয়তো শহরের বাইরে যাচ্ছেন। প্রাণীটিকে সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকলে তাকে বহন করার জন্য বিশেষ (পেট ক্যারিয়ার) ব্যাগে করে নিয়ে যেতে পারেন। তবে যেখানে যাচ্ছেন, সেখানে তার দেখাশোনা করার সুযোগ থাকবে কি না, সেটিও নিশ্চিত হয়ে নিন। সেই সুযোগ না থাকলে এবং প্রতিবেশী বা বন্ধুদের দিয়ে প্রাণীটির দেখভালের সুযোগও না পেলে, রেখে যেতে পারেন পেশাদার কারও কাছে।

কুকুর–বিড়ালদের জন্য বেশ কয়েকটি বোর্ডিং চালু আছে ঢাকায়
ছবি: অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার ইনস্টাগ্রাম থেকে নেওয়া

পাঁচ তারকা হোটেলের মতো বিশ্বমানের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোডে বিড়াল ও কুকুরের জন্য চালু হয়েছে একটি বোর্ডিং হাউস—‘ফারিঘর’। এখানে আপনার পোষ্য থাকবে নিরাপদ। যে খাবারে আপনার পোষা প্রাণীটি অভ্যস্ত, তাকে সেখানে রাখার সময় সেই খাবারটি সঙ্গে দিয়ে দিতে উৎসাহিত করেন তাঁরা (হতে পারে সেটা প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্যাকেট বা কাঁচা মাছ–মাংস, যা ওখান থেকে সেদ্ধ করে দেওয়া হবে)। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে খাবারের ব্যবস্থাও তাঁরা করে দেবেন। আপনার অনুপস্থিতিতে প্রাণীটি অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার ব্যবস্থাও সেখান থেকে করানো সম্ভব। এমনটাই জানালেন প্রাণী অধিকারকর্মী স্থপতি রাকিবুল হক।

রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় শুধু বিড়ালের জন্য ফস্টার হোম পরিচালনা করেন এন্তিনা চাকমা। ফেসবুকে তাঁর আইডিতে যোগাযোগ করে তাঁর কাছেও বিড়াল রেখে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বেইলি রোড ও পুরান ঢাকায় পোষ্যকে কয়েক দিন রাখার জন্য আছে বোর্ডিং। ফেসবুকেও বেশ কয়েকটি গ্রুপ আছে, সেখানে যুক্ত থাকলেও প্রাণীর নানা সমস্যার সমাধান পাবেন। আপনার আদরের পোষা প্রাণীটিকে যেখানেই রাখুন, সেখানকার সেবা, পরিবেশ এবং পারিপার্শ্বিকতা অবশ্যই বিবেচনা করে এরপর সিদ্ধান্ত নিনআর আপনার পোষা প্রাণী আপনাকে ছাড়া কেমন থাকবে, সেটাও ভেবে দেখুন।

নতুন সদস্য আনার আগে

নতুন সদস্যের বিষয়ে পরিবারের সবাইকে রাজি করিয়ে নিন। যে প্রাণীকে আপনি পছন্দ করেন এবং যার যত্নআত্তি করতে আপনি সক্ষম, তাকেই নিয়ে আসুন। তবে পরিবারের কারও প্রাণীর লোমে অ্যালার্জি থাকলে প্রাণী পালনের ইচ্ছেটা হয়তো অপূর্ণই রাখতে হবে। তবে মনে রাখবেন, হাঁপানি বা অন্য ধরনের অ্যালার্জি থাকলেই যে সেই ব্যক্তির প্রাণীর লোমে অ্যালার্জি থাকবে, তা কিন্তু নয়। আর অনেক বাড়িতেই গর্ভবতী মা, নবজাতক আর পোষা প্রাণী সহাবস্থান করে নিরাপদে। তাই প্রাণীকে গ্রহণ করুন ইতিবাচকতার সঙ্গে।