প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিফলক উন্মোচনের দুই বছর পরও নির্মিত হলো না ভবন

২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিত্তিফলক উন্মোচন করেছিলেন পটিয়া পৌর মিলনায়তন ভবনের। তবে জায়গা বরাদ্দ না পাওয়ায় ভবন আর নির্মাণ করা হয়নি। কবে হবে বা আদৌ হবে িক না, সেটা বলতে পারছে না কেউ। অথচ উপজেলা পরিষদ এলাকায় ওই ভবনের নির্ধারিত স্থান হয়েছে একটি ফলকও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পটিয়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, সরকার দেশের সব পৌরসভায় একই নকশায় ৫০০ আসনবিশিষ্ট মিলনায়তন নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়। সে লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব রেহানা ইয়াছমিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পায় পটিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এতে পটিয়া পৌর মিলনায়তন নির্মাণের জন্য ৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়। বরাদ্দ পেতে হলে পৌরসভার নিজস্ব কিংবা অধিগ্রহণ করা বা কেনা জায়গা থাকতে হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। নির্ধারিত জায়গার পরিমাণ ৬৫ শতক। তবে পটিয়া পৌরসভার ওই পরিমাণ নিজস্ব জায়গা নেই। এই অবস্থায় পৌর কর্তৃপক্ষ উপজেলা পরিষদের কাছে জায়গা বরাদ্দ চায়। উপজেলা পরিষদ যৌথভাবে ভবন নির্মাণের শর্তে জায়গা দিতে রাজি হয়। দুটি সংস্থার মধ্যে এ ব্যাপারে ২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর চুক্তিও হয়। এরপর ওই নির্ধারিত জায়গায় ভবনের ভিত্তিফলক স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ভবন নির্মাণের অনুমতি না দেওয়ায় পৌর ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
পৌরসভার সচিব মো. মহসিন বলেন, পৌরসভার নিজস্ব জায়গা না থাকায় তৎকালীন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিচ মিয়ার কাছে পৌর মেয়র হারুনুর রশিদ জায়গা বরাদ্দ চেয়ে একটি চিঠি দেন ২০১৩ সালের ২৭ আগস্ট। দুই সংস্থা মিলে যৌথভাবে মিলনায়তন করার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে উপজেলা চেয়ারম্যান অনুমতি চেয়ে একটি চিঠি পাঠান ওই বছরই। কিন্তু এরপর দুই বছর কেটে গেলেও এ ব্যাপারে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
পৌরসভার মেয়র হারুন রসিদ বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে যৌথ উদ্যোগে ভবন নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। এতে পৌর মিলনায়তন নির্মাণ হবে িক না, সন্দেহ আছে। পটিয়ায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য পৌরসভায় একটি মিলনায়তন খুবই জরুরি।