
বছরের এই সময়টায় অসংখ্য বিয়ের নিমন্ত্রণ, ঘুরে বেড়ানো বা নানা উৎসব লেগেই থাকে। এসব অনুষ্ঠানে কিংবা ভ্রমণে একটু বেশি খেয়ে ফেললে সেটি নিয়ে তৈরি হয় অস্বস্তি। একে তো ঘন ঘন খাওয়া হচ্ছে, তার ওপর বাড়তি খাওয়া শরীরের জন্য তৈরি করছে নানা সমস্যা।
এসব অনুষ্ঠান বা বাড়তি খাওয়া যেহেতু এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই, তাই পুরোটা সময় ধরেই চাই কিছু সচেতনতা। যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি তৈরি করবে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এ ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার আলো।

পানির চাহিদা পূরণ করুন
আগের রাতে বেশি খাওয়া হয়ে গেলে পরের দিন ঘুম থেকে উঠেই লম্বা এক গ্লাস লেবু পানি বা শসা কুচি ভেজানো পানি খেয়ে নিন। শুধু লেবু বা শসা ভেজানো পানি খেতে ভালো না লাগলে এতে দিতে পারেন স্বাদমতো লেবুর রস, কুচানো শসা, ছেঁচে নেওয়া আদা আর অল্প একটু মধুও। গরম পানি খেতে ভালো না লাগলে সাধারণ তাপমাত্রার পানিতেও তৈরি করে নিতে পারেন এই ডিটক্স, যা শরীরে থাকা বিষ বা ক্ষতিকর উপাদান কমাবে। তাতে একদিকে যেমন পানির ঘাটতি পূরণ হবে, অন্যদিকে তা বাড়তি ওজন কমাতেও সহায়তা পাবেন। যতটা পারা যায়, ফলের রস খেতে চেষ্টা করুন। তবে অবশ্যই চিনি ছাড়া। প্রয়োজনে মধু খেতে পারেন।
সকালের স্বাস্থ্যকর খাবার
সকালে দুই টেবিল চামচ দইয়ের সঙ্গে কালিজিরা আর আধা চা-চামচ আঙুর কুচি মিশিয়ে খেয়ে শুরু করুন দিনের খাবারের পর্ব। নাশতায় খেতে পারেন ওটস, ছাতু বা রায়তা। রাতে যদি বাড়ি ফিরে সময় পান, তবে সকালে খাওয়ার জন্য এক কাপ ওটস, এক কাপ দুধ আর এক কাপ কাজু, কিশমিশ, আঙুরের সঙ্গে মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন; সকালে তা-ও খেয়ে নিতে পারেন। এটি খেতে যেমন পুডিংয়ের মতো লাগবে, অন্যদিকে সকালের তাড়াহুড়ায় খাবার ভুলে যাওয়ার সুযোগও থাকছে না। শরীর চাঙা রাখতে এর সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন দুই চা-চামচ তিল।
ব্যায়াম
প্রতিদিন যে পরিশ্রমটি করছেন, তা একটু নাহয় বাড়িয়ে দিন সে দিনটিতে। রাতের ব্যায়ামটি সময় পেলে সকালেও করে নিন। নইলে কিছুটা হাঁটুন। না পারলে লিফট থেকে অন্তত এক দিনের জন্য দূরে থাকুন। ভাবছেন, এত খেয়ে এরপর আর এই পরিশ্রম করি কী করে? আগের রাতে বেশি শর্করা খেলে পরের দিন একটু বেশি পরিশ্রম করা যেতেই পারে।
সূর্যাস্তের পর ভারী খাবার নয়
যেকোনো অনুষ্ঠানের পরের দিন চেষ্টা করুন একটু তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খেয়ে ফেলতে। এরপর খিদে পেলে সূর্যাস্তের পর আর কোনোভাবেই ভারী কিছু না খেয়ে চেষ্টা করুন স্যুপ, ফল, সালাদ বা হালকা কিছু খাওয়ার চেষ্টা করুন। সঙ্গে থাকতে পারে টকদই।