ব্যথা অনুভব করছেন?

অনেক মেয়ের ঋতুচক্রের এক থেকে চার দিন স্তনে অল্প কিছু কিছু ব্যথা হয়। এটা স্বাভাবিক। ফাইব্রোসিস্টিক ব্রেস্ট বলে একটা অবস্থা আছে, যখন স্তনে ব্যথার পাশাপাশি চাকাও অনুভূত হয়। ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীরা এই সমস্যায় বেশি ভোগেন।

কারণ, স্তনের টিস্যুগুলো সাধারণত কিছু কিছু হরমোন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন, যেগুলো সাধারণত ওভারি থেকে আসে এবং থাইরয়েড হরমোন, যা থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে আসে। গ্রোথ হরমোন, প্রোলাকটিন, ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবও আছে স্তনের ওপর। যারা ফাইব্রোসিস্টিক ব্রেস্ট সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের স্তনের টিস্যুগুলো এসব হরমোনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। স্তনের ওপর হরমোনের প্রভাব বেড়ে এবং টক্সিন খুব বেশি জমে গেলেও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।

উপসর্গ

l স্তনে ব্যথা হওয়া, সামান্য স্পর্শে ব্যথা হওয়া বা অস্বস্তি লাগা।

l স্তনে বিভিন্ন আকারের চাকা অনুভূত হওয়া, যেগুলো স্তনের স্বাভাবিক টিস্যুর সঙ্গে লাগানো।

l স্তনের বোঁটা বা নিপল থেকে তরলজাতীয় কিছু বের হওয়া (রক্তবিহীন)

l বগলে ব্যথা অনুভূত হওয়া, যা নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্য বা সারা দিন হতে পারে।

চিকিৎসা

কিছু কিছু প্রাকৃতিক চিকিৎসা এই সমস্যার সমাধান আনতে পারে।

l টাইট ও আনফিট অন্তর্বাস না পরা। স্তনের মধ্যে জমা টক্সিক সাধারণত লিম্ফেটিক চ্যানেল দিয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যাবে। খুব টাইট অন্তর্বাস পরলে টক্সিক (ক্ষতিকারক পদার্থ) স্তনে জমে যায়। এতে ব্যথা হয়। তাই বাসায় থাকলে বা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় অন্তর্বাস ব্যবহার না করাই ভালো।

l প্রিমরোজ তেল: ইভিনিং প্রিমরোজ তেলে কিছু প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। যেটা অটোইমিউন ইনফ্লেমেশন কমাতে সাহায্য করে। ফলে ব্যথা কমে যায়। এটা মুখে খাওয়া যায় বা ব্যবহারও করা যায়।

l তিসির তেল: তিসির তেল শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের লেভেল কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ফ্লাইবেসিস্টিক ব্রেস্টের প্রভাব (ব্যথা) কমে যায়।

l ভিটামিন ই: যেসব নারী ভিটামিন ই খান, তাঁদের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশেরই সিস্টের আকার কমে ব্যথা কমে যায়।

l খাবারে চর্বি বা ফ্যাট কমানো: চর্বি বা ফ্যাট স্তনের টিস্যুগুলোর ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিনের যে পরিমাণ ক্যালরি দরকার, তাতে চর্বির পরিমাণ ২০ শতাংশে থাকা উচিত।

lধূমপান স্তনের ব্যথার একটি কারণ। তাই ধূমপান একেবারেই করা যাবে না।

lচিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে ও পরামর্শ নিয়ে এই সমস্যার চিকিৎসা করানো এবং ওষুধ সেবন করা উচিত।

ডা. রুশদানা রহমান, সহকারী অধ্যাপক (গাইনি ও অবস) ,ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল