ভাইবোনে ঝগড়া-বিবাদ!

জমিজমা নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যে বিরোধ হলে আলোচনা করে সমাধানে আসতে পারেন। ছবি: অধুনা
জমিজমা নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যে বিরোধ হলে আলোচনা করে সমাধানে আসতে পারেন। ছবি: অধুনা

বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেন একটি চিরচেনা দৃশ্য। বিশেষ করে, ভাইয়েরা যখন বোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে চান, তখন বিরোধ মাঝেমধ্যে আদালত পর্যন্ত গড়াতেও দেখা যায়। অনেক ভাইয়েরই যুক্তি, বোনেরা তো শ্বশুরবাড়ি চলে গেছেন। তাঁদের আবার সম্পত্তি কী? আবার দেখা যায়, বোনদের সম্পত্তির ভাগ করে দলিল করেছেন ঠিকই কিন্তু সম্পত্তি বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। জমিজমা নিয়ে ভাইবোনের বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ালে এ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলতে থাকে দিনের পর দিন।

প্রাপ্য সম্পত্তি দিতে হবে

বাবা বা মায়ের নামে সম্পত্তি থাকলে বাবা-মায়ের অবর্তমানে ভাইদের যেমন সম্পত্তির হক রয়েছে, তেমনি হক বোনদেরও। বোনের বিয়ে হোক বা না হোক, বোনের সম্পত্তির ভাগ বোনকে বুঝিয়ে দিতে হবে। বোন যদি নাবালক হয়, তাহলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে তার সম্পত্তির অংশ বুঝিয়ে দিতে হবে। ভাইদের দখলে কোনোভাবেই সম্পত্তি রাখা যাবে না। আবার বোনেরাও ভাইদের সম্পত্তি দখলে রাখলে চলবে না। আইন অনুযায়ী যাঁর যাঁর প্রাপ্য অংশের মালিক তিনিই। এই সম্পত্তি কাউকে দান করা, বিক্রয় করা বা যেকোনো কাজে লাগানোর একচ্ছত্র অধিকার সম্পত্তির মালিকের। তবে সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যদি অন্য ভাই বা বোনের সম্পত্তি পাশাপাশি থাকে, তাহলে তাঁদের অগ্রক্রয়ের অধিকার রয়েছে আইন অনুযায়ী। মানে, ভাইবোনদের কাছে বিক্রয়ের কথা না জানিয়ে অন্য কোথাও বিক্রয় করা যাবে না। মনে রাখা দরকার, মুসলিম আইনে বাবা বা মা মারা গেলে মৃত ব্যক্তির যদি ছেলে এবং মেয়ে উভয়ই থাকেন, তাহলে রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে ছেলেরা যা পাবেন, মেয়ে বা মেয়েরা তার অর্ধেক পাবেন।

যদি বঞ্চিত করা হয়

জমিজমা নিয়ে যদি ভাইবোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তাহলে ভাইবোনেরা আলোচনা করে নিজেদের মধ্যে আপস করে বণ্টননামা সম্পন্ন করে নিতে পারেন। এই বণ্টননামা নিবন্ধন (রেজিস্ট্রি) করে নিতে হবে। যদি আপসের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে না আসা যায়, তাহলে দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় নেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে বঞ্চিত ব্যক্তিরা বাঁটোয়ারা বা বণ্টনের মোকদ্দমা করতে পারেন। মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির ভাগ-বণ্টন নিয়ে উত্তরাধিকারীদের নিজেদের মধ্যে বনিবনা না হলে আদালতের মাধ্যমে এই ভাগ-বণ্টন দাবি করা যায়। কোনো যৌথ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলেও কে কতটুকু অংশ পাবেন, তা আদালতের মাধ্যমে নির্ধারণের জন্য বাঁটোয়ারা মামলা করতে হয়। সাধারণত বিরোধ দেখা দেওয়ার ছয় বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়। এই মোকদ্দমা চলাকালে কেউ মারা গেলে তাঁদের উত্তরাধিকারীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন এবং অংশ চাইতে পারেন। ভাই বা বোনকে বণ্টনের দলিল করে দিলেও সে অনুযায়ী দখল না দিলে, কিংবা দখল থেকে বিতাড়িত করলে দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করা যায়। যদি ভুয়া দলিল বা জাল দলিল কেউ তৈরি করেন, তাহলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলা করা যায়।

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।