
বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে ভালোবাসেন অনেকেই। ছুটির দিনগুলোতে তাই পর্যটনকেন্দ্রে থাকে বেশ ভিড়। বেড়াতে যাওয়ার আগে সবার আগে যে বিষয়টা দরকার, সেটা হলো ব্যাগ। ঘুরতে গেলে প্রয়োজনীয় জিনিস তো গুছিয়ে নেওয়া চাই। এর জন্যই দরকার পড়ে ব্যাগ। নানা আকার ও নকশার ব্যাগ বাজারে আছে ঘোরাঘুরির জন্য। একা গেলে যেমন ব্যাগ দরকার, দুজনের জন্য আবার আরেকটু বড়। কম সময়ের জন্য বা একা ঘুরতে বের হলে সব বয়সীরাই কাঁধে ঝুলিয়ে নেন ব্যাকপ্যাক বা ট্র্যাভেল ব্যাগ। আর পরিবার নিয়ে বের হলে বা একটু বেশি দিনের পরিকল্পনা থাকলে ট্রলিব্যাগ দেবে সমাধান। ভ্রমণের সময় কতজন মিলে ঘুরতে যাচ্ছেন বা কোথায় যাচ্ছেন, সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কেমন হবে আপনার ভ্রমণ ব্যাগ। বাজার ঘুরলেই চোখে পড়ে রং-বেরঙের, নানা আকারের, নানা ব্র্যান্ডের, নানা দামের ট্র্যাভেল ব্যাগ।

রাজধানীর ব্যাগ প্যাকার্সের প্রতিষ্ঠাতা রিয়াজ আহমেদ জানালেন, বাজারে বেশি চলে ব্যাকপ্যাক। তরুণেরা তো বটেই, সব বয়সীরাই ঘুরতে গেলে ব্যাকপ্যাক সঙ্গে নিতে পছন্দ করেন। এই সময়ে নানা ধরনের হাতে ঝোলানো ব্যাগ দেখা যাচ্ছে ভ্রমণে।
রাজধানীর আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেটের দোকান ফোর ডাইমেনশনের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ব্যাগও ফ্যাশনের একটি অনুষঙ্গ। তাই ভ্রমণ ব্যাগ কিনতে হলেও সবাই ফ্যাশনেবল ও সুন্দর নকশার ব্যাগ কিনতে চান। তরুণেরা চান নতুন কিছু। নানা ধরনের কথা বা নকশা করা ব্যাগের চাহিদা তাই বেশি।
ব্যাকপ্যাক
ব্যাকপ্যাকে বইখাতা, ল্যাপটপ কম্পিউটার নিয়ে যেমন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কাজে যাওয়া যায়, তেমনি কাপড়-চোপড়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়া যায়। ফ্যাশনের চাহিদা মেটানো চমৎকার ডিজাইনের এই ব্যাগগুলোতে আছে নানা আকার ও নানা রং। বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করে ও অনেক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বর্তমানে বাজারে পানিরোধক ব্যাকপ্যাকের জনপ্রিয়তা বেশি।
ট্র্যাভেল ব্যাগ
সাইকেল প্যানিয়ার (বাইসাইকেলের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা), কোরিয়ার কাপড়ের স্টাইলিশ ট্র্যাভেল ব্যাগ, চেম্বার ছাড়া ট্র্যাভেল ব্যাগ, চামড়ার এক্সক্লুসিভ ট্র্যাভেল ব্যাগ, মাল্টিপারপাস ট্র্যাভেল ব্যাগসহ বাজারে আসছে নতুন আঙ্গিকের ব্যাগ। নিউমার্কেটের সাদিয়া ট্র্যাভেল কিটের স্বত্বাধিকারী এমদাদুল হক জানালেন, কিছু কিছু ট্র্যাভেল ব্যাগ কাঁধে, পিঠে, হাতে—সবভাবেই নেওয়া যায়। পাটের তৈরি ব্যাকপ্যাক ও ট্র্যাভেল ব্যাগও পাওয়া যাচ্ছে বাজারে। পাট, চামড়া ও সুতা দিয়ে তৈরি বাহারি এই ব্যাগগুলো যেমন হালকা তেমনি ফ্যাশনেবল। পাটের ব্যাগ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জুটেক্সকোর কর্মকর্তা মহিউদ্দীন বললেন, পাটের আঁশ এবং চামড়ার এসব ব্যাগ দেশের বাইরেও রপ্তানি হচ্ছে।

নানা ব্র্যান্ডের ব্যাগ
দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ব্যাগপ্যাকার্স ও ফোর ডাইমেনশনসের ব্যাগ রয়েছে বাজারে। বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে প্রেসিডেন্ট, টি ট্রাভেলস, ক্যামেল মাউন্টেইন, ব্ল্যাক ডায়মন্ড, উইলসন, পাওয়ার, অরনেট, পিয়ারি গার্ডেন, ফ্যান্টাসিয়া, লিভস কিং, মিনিস্টার, ম্যাক্স, ন্যাক্স, টার্গেট, টিডল ব্র্যান্ডের ব্যাগ রয়েছে ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারগুলোতে।
কোথায় পাবেন?
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স, যমুনা ফিউচার পার্ক, আজিজ মার্কেটের গ্রাউন্ড ফ্লোর, নিউমার্কেট ও বঙ্গবাজারে ব্যাগ তে পাবেনই। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকানও রয়েছে বিভিন্ন শহরে।
দামদর
ফোর ডাইমেনশনের নানা আকারের ব্যাকপ্যাকগুলোর দাম ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকা। ট্র্যাভেল ব্যাগগুলোর দাম পড়বে ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা। ছাত্রছাত্রীদের জন্য ব্যাগপ্যাকার্স ব্যাকপ্যাকের ওপর ১০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা রেখেছে। মডেল ভেদে ব্যাগপ্যাকার্সের সাতটি ব্যাকপ্যাকের দাম ১৬৫০ থেকে ২৮০০ টাকার মধ্যে।
ট্রলির দাম পড়বে ৪২০০ থেকে ৬৬০০ টাকা। বাজারে ক্যামেল মাউন্টেন, উইলসন ও পাওয়ারের ব্যাকপ্যাকের দাম ১০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে আর ট্র্যাভেল ট্রলি ও ব্যাকপ্যাক একসঙ্গে ২৮০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মধ্যে। স্পেশাল ব্ল্যাক ডায়মন্ডের ব্যাগের দাম ৯০০০ থেকে ২০০০০ টাকা পর্যন্ত। প্রেসিডেন্টের হ্যাপার ব্যাগগুলোর দাম ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকা। ট্র্যাভেল ব্যাগ ১৫০০ থেকে ২২০০ টাকা। ট্র্যাভেল ট্রলি ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা। ট্রলির দাম ২৫০০ থেকে ৬৬০০ টাকা। চামড়ার ব্যাগগুলো ৩৫০০ থেকে ৬০০০ টাকার মধ্যে। টি ট্র্যাভেলসসহ অন্য ব্র্যান্ডগুলোর ব্যাকপ্যাক ৮০০ থেকে শুরু হয়ে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। ট্র্যাভেল ব্যাগ ১০০০ থেকে শুরু করে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত। ট্র্যাভেল ট্রলির দাম ১৫০০ থেকে শুরু করে ৫৫০০ পর্যন্ত। আর ট্রলি বা চেইন স্যুটকেসের দাম ২০০০ থেকে শুরু করে ১২০০০ বা তার বেশিও আছে। পাটের তৈরি ব্যাকপ্যাকগুলোর দাম ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা এবং ট্র্যাভেল ব্যাগগুলোর দাম ১১০০ থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে।