মনের আলোয় গান

১২ বছরের কিশোরী আলো ব্যানার্জি। নামে আলো থাকলেও তার পৃথিবী ডুবে আছে অন্ধকারে। সে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তবে মনের আলোয় পৃথিবীকে দেখছে আলো। গান গেয়ে জয় করছে দর্শকদের মন। ১১ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার সাংস্কৃতিককেন্দ্রে আলোর গাওয়া ‘এ আঁধার কখনো যাবে না মুছে/ আমার পৃথিবী থেকে’ গানটি হৃদয় কেড়ে নেয়।
কে এই আলো? শ্রীমঙ্গলের সিন্ধরখান গ্রামের চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা সে। ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়ে আলোর ঠাঁই হয় নানির বাড়িতে। সেখানে অনাদরে-অবহেলায় তার বেড়ে ওঠা। অবেশষে ব্র্যাক স্কুলের সন্ধান পায় আলো। ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করার সুযোগ দেওয়া হয় তাকে। এরপর থেকেই আলোর এগিয়ে যাওয়া শুরু।
আলো জানায়, ‘চোখের আলো না থাকলে কী হবে, শিক্ষার আলোয় আমরা মানুষ হব। মনের শক্তি দিয়ে এগিয়ে যাব।’
‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা’ বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্র্যাক স্কুলে অধ্যয়নরত প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিন দিনের এই কর্মসূচি চলে ১১ থেকে ১৩ নভেম্বর। ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির একীভূত শিক্ষা কার্যক্রম এর আয়োজন করে। কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান।
শুরুতে ‘অধিকারবঞ্চিত আমরা যারা ভালোবাসা চাই, চাই না অনুগ্রহ। বাঁচাটা কেন বলো এত দুর্বিষহ’ থিম সং পরিবেশন করে প্রতিবন্ধী শিশুরা। শেষে পরিবেশিত হয় সমবেত গান ‘আমরা সবাই রাজা।’
চোখে কালো চশমা পরে চেয়ারে বসে অতিথিদের বক্তব্য শুনছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছোট্ট বেলাল। মায়াবী চেহারা। করাইল বস্তিতে তাকে সবাই ‘পাগল বেলাল’ বলে ডাকত। ব্র্যাক স্কুলে পড়ে বেলাল জীবন থেকে ‘পাগল’ শব্দটি মুছে ফেলেছে। এখন সে শারীরিক কসরত দেখিয়ে মানুষের মন জয় করছে। বেলাল বলে, ‘আমরা মেধা ও বুদ্ধি দিয়ে বিশ্বজয় করতে চাই।’
তার পাশে বসা বগুড়ার আদমদীঘি ব্র্যাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জিসান (১২)। সে ভালো গান গায়। ভবিষ্যতে কী হবে? জানতে চাইলে জিসান বলে, ‘প্রতিবন্ধী বলে চাই না কারও করুণা ও ভিক্ষা, মানুষ হওয়ার সুযোগ চাই—দাও মোরে শিক্ষা।’
খাগড়াছড়ির রামগড় ব্র্যাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শারীরিক প্রতিবন্ধী বিবি মরিয়ম বলে, ‘এখন সারা বিশ্বে দিন বদলের হাওয়া বইছে। আমরাও এর থেকে পিছিয়ে নেই। শিক্ষাই এখন আমাদের প্রথম চাওয়া।’