মহেশখালীতে কোমেনে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে সাত শ পরিবার পায়নি ঢেউটিন

তিন মাস অতিবাহিত হলেও কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের ঘূর্ণিঝড় কোমেনে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে সাত শ গৃহহারা পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়নি। ফলে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৩০ জুলাই ঘূর্ণিঝড় কোমেনের কবলে পড়ে মাতারবাডড়ী ইউনিয়নের প্রায় এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে জোয়ারের কবলে পড়ে মাইজাপাড়া, দক্ষিণ রাজঘাট, মগডেইল, সাইরার ডেইল, নয়াপাড়া, লাইল্যাঘোনাসহ ১২টি গ্রামের অন্তত এক হাজার পরিবারের কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে যায়। এর মধ্যে কেবল আড়াই শ পরিবার ঢেউটিন এবং চাল ত্রাণ হিসেবে সহায়তা পেয়েছে। বাকি সাড়ে সাত শ গৃহহারা পরিবার ঘর তৈরির জন্য ঢেউটিন পায়নি। ফলে এসব পরিবারের লোকজন ভাঙা ঘরে এবং খোলা আকাশের নিচে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
গত শনিবার সাইরার ডেইল, মগডেইল, ফুলজানমোরা, পূর্ব মাইজপাড়া ও দক্ষিণ রাজঘাটে গিয়ে প্রায় তিন শ গৃহহারা পরিবারকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে দেখা গেছে। এলাকার অনেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে পার্শ্ববর্তী আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
দক্ষিণ মগডেইল এলাকার বাসিন্দা শের উল্লাহ বলেন, ‘এক লাখ টাকা খরচ করে এক বছর আগে মাটির ঘর করেছিলাম। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় কোমেনের কবলে পড়ে সেই কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। এখন পরিবার–পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করলেও পুনর্বাসন করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’
স্থানীয় মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ঘূর্ণিঝড় কোমেনের কবলে পড়ে দেড় হাজার পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তার মধ্যে এক হাজার পরিবারের কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহারা পরিবারকে পুনর্বাসন করার জন্য ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করা হয়েছে।
জানতে চাইলে মহেশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শফিউল আলম বলেন, ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আড়াই শ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে। আর ১ হাজার ৪৫০ পরিবারের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, গৃহহারা পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আর বরাদ্দ পেলেই পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহারা পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।