মা-মেয়ের একান্তর

মায়ের মতো আমি। প্রদর্শনীতে আসা দর্শক এভাবে পোজ দিলেন। ছবি: মেয়ে নেটওয়ার্ক
মায়ের মতো আমি। প্রদর্শনীতে আসা দর্শক এভাবে পোজ দিলেন। ছবি: মেয়ে নেটওয়ার্ক

আচ্ছা, আপনি এখন দেখতে যেমন আপনার মা-ও কি আপনার বয়সে তেমন ছিলেন? আপনি আপনার মায়ের মতো করে কথা বলেন, শোনেন কিংবা ভাবেন? প্রশ্নগুলো ছুড়ে দিলে খুব কম মানুষই এর উত্তর দিতে পারবে। অনেকের মাথায় এমন ভাবনাই আসে না। পড়াশোনা, চাকরি, ব্যক্তিগত জীবন সব কিছুর চাপে মায়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দূরত্ব। প্রজন্মের মধ্যে এই ব্যবধান কমাতে ভিন্ন রকমের এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু মা-মেয়ের ছবি তো নয়, নানি, মা, মেয়ে—এই তিন প্রজন্মের একই ভঙ্গির ছবি নিয়ে ফেসবুকভিত্তিক ‘মেয়ে’ নেটওয়ার্ক আয়োজন করেছে ‘একান্তর, নারীর প্রজন্মযাত্রা’ নামে আলোকচিত্র প্রদশর্নী। ২৭ মে থেকে ২ জুন প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকার শিল্পাঙ্গন গ্যালারিতে চলছে এই প্রদর্শনী। ছবিগুলো তুলেছেন অনন্যা রুবাইয়াত।
একান্তরের ব্যাপারে মেয়ে নেটওয়ার্কের প্রধান এবং একান্তরের অন্যতম উদ্যোক্তা তৃষিয়া নাশতারান বলেন, ‘অনেক মায়েরই নিজস্ব জগৎ বলতে কিছু নেই। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে প্রজন্মগত ব্যবধানের কারণে মায়েদের সঙ্গে আমাদের ভাবনাতেও কিছু দূরত্ব তৈরি হয়, যা তাঁদের আরও একা করে দেয়। এই ভাবনা থেকেই একান্তরের সূত্রপাত। একবছর আগে অনন্যা রুবাইয়াত দুই প্রজন্মের একই আদলে ছবি তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল মেয়ে নেটওয়ার্কেই। অনন্যাকে জিজ্ঞেস করলাম মা-মেয়ের আড্ডা উপলক্ষে এবার ছবি তুলে প্রদর্শনীর আয়োজন করবে কি না? অনন্যা সানন্দে রাজি হয়ে গেল। ছবির মধ্য দিয়েই দুই প্রজন্মের মিলগুলো তুলে ধরা, আর আলোচনার মধ্য দিয়ে ব্যবধানগুলো বুঝতে চেষ্টা করা, দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রায় দুই ডজন ছবি নিয়ে প্রদর্শনী সাজিয়েছেন অনন্যা রুবাইয়াত। আর অর্থায়নে সহায়তা করেছেন মেয়ে নেটওয়ার্কের সদস্যরা। প্রদর্শনীতে গিয়ে প্রায় সবারই একটি ছবিতে চোখ আটকে যায়। ছবিটি মা-মেয়ের নয়। বউ-শাশুড়ির। শাশুড়ি নূর আকতার বেগমের ছবির আদলে সেজে, প্রায়ই একইভাবে শাড়ি পরে ছবি তুলেছেন বউ ফোয়ারা ফেরদৌস। শাশুড়ি নূর আকতার বেগমকে কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। মেয়ে আর বউতে কোনো পার্থক্য করি না।’ অনন্যা রুবাইয়াত বলেন, ‘একদিন মায়ের ছবি গোছাতে গোছাতে দেখলাম আমাদের আধুনিক ক্যামেরা দিয়ে দিনে এক হাজার ছবি তুললেও তাঁদের পুরোনো ছবির মতো ছবি হয় না। এরপর আমি একটু নিরীক্ষা করতে চাইলাম এটা নিয়ে। মেয়ে নেটওয়ার্কের কয়েকজনকে জানালাম। তাঁদের কেউ কেউ মডেল হতে আগ্রহ দেখালেন। সেখান থেকেই শুরু।’
প্রদর্শনীতে ঘুরতে আসা আরেক মা শাহিদা খানম বলেন, ‘আমার আর আমার মেয়ের কোনো ছবি নেই এখানে। কিন্তু অন্যদের ছবি আর মায়েদের জন্য এই আয়োজন দেখে খুব ভালো লাগছে। প্রতিটি ছবি ভীষণ সুন্দর ও জীবন্ত। মেয়েরা সত্যিই তাঁর মাকে ধারণ করেছে। বিষয়টি প্রশংসনীয়।’