‘মা হও, বুঝতে পারবে’

পেটের মধ্যে সন্তান একটু একটু করে বড় হচ্ছে আর মা হালিমা বেগমের হচ্ছে নতুন নতুন অভিজ্ঞতা
ছবি: আবু নাসের

তবে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর দীর্ঘ নয় মাসের পথচলাটা সহজ ছিল না। সময়টা যেমন সুখের ছিল, তেমনি কষ্টেরও। অনেক চড়াই-উতরাই পার করতে হয়েছে। যখন-তখন অসুস্থ হয়ে পড়া, খাবারে নানা রকম বিধিনিষেধ। মুখরোচক অনেক খাবারই বাদ দিতে হয়েছে খুব ইচ্ছা থাকার পরও। নানান রকম ভাবনাচিন্তায় জর্জরিত হয়ে পড়তাম।

অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় সময় কাটতো এই ভলো এই মন্দ

আমাদের বাবুটা ঠিকমতো বেড়ে উঠছে তো? কত সপ্তাহে ওর আকার আসবে, কত সপ্তাহে কতটুকু বাড়ছে, কবে নাড়াচাড়া করবে—এমন হাজারো চিন্তা থাকত দিনরাত।

আলট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে প্রথম যেদিন সন্তানের আকার দেখলাম, আত্মা প্রশান্ত হয়ে গেল। ভালোবাসা আরও বেড়ে গেল। প্রথম যখন ওর নড়াচড়া অনুভব করলাম, মনে হলো এ যেন এক নতুন আমি। পুরোই বদলে যেতে লাগল আমার পৃথিবী। সব সময় কথা বলতাম অনাগত সন্তানের সঙ্গে। মাঝেমধ্যে সে নড়াচড়া করে মায়ের কথায় সাড়া দিত।

আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে দেখা মিললো সন্তানের

হঠাৎ করে পেটের মধ্যে লাথি মারত, ধাক্কা দিত। কখনো ভাবতে পারিনি মা হওয়া এতটা সুখের। আবার হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অকারণে হাসতাম, ছোট্ট ছোট্ট কথায়ও কান্নাকাটি করতাম, অযথা রেগে যেতাম। এ সময়ে আমার ভেতরে যে মানসিক ও শারীরিক পরিবর্তন এসেছিল, সেটা দারুণভাবে সামলে নিয়েছিল নাছের। মা হওয়ার পুরোটা সময় আমাকে সঙ্গ দিয়েছে, আমার যত্ন নিয়েছে। বিশেষ এ সময়ে স্বামীকে যেন নতুন করে চিনলাম। দুজনের মিলে অপেক্ষা করেছি কবে সন্তানের মুখ দেখব।

নয় মাসেই সেই জার্নিতে স্বামী পাশে ছিলেন ছায়ার মত

অবশেষে সেই সুন্দর মুহূর্ত যখন এল, সব কষ্ট ভুলে গেলাম। ছোট্ট মানুষটাকে দেখে চোখ ভরে গেল। সন্তানের জন্মের পর মনে হলো জীবনের সেরা উপহার পেয়েছি। মনে হয়েছে আর কিছুই চাওয়া পাওয়ার নেই।

হাসপাতালে সন্তানের সঙ্গে দুজনে

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সবার আগে আমার নিজের মায়ের একটি কথা মনে পড়ল, তিনি সব সময় বলতেন, ‘মা হও, বুঝতে পারবে।’ এখন বুঝি, মা আমাদের জন্য কতই-না কষ্ট করেছেন। এখন মনে হচ্ছে, মা হওয়া আসলেই এত সহজ না। অনেক ধৈর্য অনেক ত্যাগের বিনিময়েই মা হওয়া যায়। পৃথিবীর সব মাকে তাই আজ আমার সালাম, সব মাকে শ্রদ্ধা।

লেখক: নৃত্য ও অভিনয়শিল্পী