
শুরু হয়ে গেছে পবিত্র রমজান মাস। সারা বছরের তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে তারতম্য দেখা যায় এ সময়ে। আর তপ্ত রোদের এই আবহাওয়ায়, রোজা রেখে রোজ রোজ বাজারের থলি হাতে কেনাকাটা ঝামেলার ব্যাপার। সে ক্ষেত্রে রমজান মাসের শুরুতেই একসঙ্গে সেরে নিতে পারেন সারা মাসের বাজার। বিশেষ করে পচনশীল নয় এমন সব দ্রব্য আগ বাড়িয়ে নিশ্চিন্তে কিনে রাখা যায়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে, মাসের বাজেট বা বাজার করার আগে তাই দেখে নিন নানা পণ্যের দাম। ঢাকার কারওয়ান বাজার ঘুরে পাওয়া তথ্যে জেনে নিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বর্তমান দরদাম।
বাজার তালিকায় ইফতারের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে প্রতি কেজি মুড়ি পাবেন ৭০-১১০ টাকা, ছোলা ৭৫-৮৫ টাকা, বুট ৬৫-৭০ টাকা, খেজুর ২০০ থেকে ২০০০ টাকা, চিড়া ৬০-৮০ টাকা।
চাল ৪৮-৬০ টাকা প্রতি কেজি। পোলাওর চাল ৯০ টাকা প্রতি কেজি। ডালের মধ্যে প্রতি কেজি মসুর ডাল ৭০-১১০ টাকা, খেসারি ৭০ টাকা, মুগ ডাল ১০০-১২০ টাকা, বুটের ডাল ৯৩-৯৫ টাকা, মাষকলাই ১০০ টাকা। বেসন পাবেন ৫০-৫৫ টাকায় প্রতি কেজি। চিনি ৬৭-৭০ টাকা, আখের গুড় ১৩০-১৫০ টাকা, আখের গুড় (লিকুইড বা তরল) ৬০-৮০ টাকা এবং খেজুর গুড় পাবেন ১০০ টাকা প্রতি কেজি।
সবজির বাজারে শসা প্রতি কেজি ২০-২৫ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, বেগুন ৩০-৩৫ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা। আলু ২০ টাকা। পেঁয়াজ (বিদেশি) ২৩-২৫ টাকা, পেঁয়াজ (দেশি) দেশি ২৮-৩০ টাকা, রসুন (বিদেশি) ৬০-৮০ টাকা, রসুন (দেশি) ১০০-১১০ টাকা প্রতি কেজি।

তেলের মধ্যে পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের দাম ৪৯০-৫১০ টাকা আর খোলা ১০০ টাকা প্রতি লিটার। পাঁচ লিটারের ধানের কুঁড়া থেকে তৈরি ভোজ্যতেল (রাইস ব্রান অয়েল) ৪৮০-৫১০ টাকা। অপর দিকে প্রতি লিটার সূর্যমুখী তেল মিলবে ১১০-১৮০ টাকায়, পাম তেল পাবেন ৬৭-৭৫ টাকায়। লবণ ২৫-৩৮ টাকা, বিট লবণ ৮০ টাকা প্রতি কেজি।
মসলাপাতির মধ্যে কেজিপ্রতি মরিচগুঁড়া ১৮০ টাকা, হলুদগুঁড়া ২০০ টাকা, শুকনো মরিচ ১৫০ টাকা, আদা ৮০-১০০ টাকা, জিরা ৩৮০ টাকা, ধনেগুঁড়া ২২০ টাকা, গোলমরিচ ৮০০-৯৫০ টাকা, এলাচি ১২০০-১৭০০ টাকা, লবঙ্গ ১২০০-১৪৫০ টাকা ও দারুচিনি ২৮০-২৯০ টাকা, তেজপাতা ১৫০ টাকা ও জয়ফল ১ হাজার টাকা।
মাসকাবারি বাজার সম্পর্কে রাজধানীর সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রীনাত ফওজিয়া বলেন, ‘রমজান মাসে আমাদের খাবারের রুটিনটা পাল্টে যায়। ইফতারি, রাতের খাবার আর সাহ্রি। পরিবারের সবার রুচি ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে লক্ষ্য থাকে প্রতিবেলার খাবারেই যেন বৈচিত্র্য আসে। আর সেই কারণেই আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদির জোগাড়যন্ত্রও করতে হয়। মাসের শুরুতে মাসকাবারি বাজার এ ক্ষেত্রে অনেকটাই সহায়ক হয়।’
পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারে যে পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য লাগতে পারে
চাল ১২-১৫ কেজি, মসুর ডাল ৫ কেজি, মুগ ডাল ২ কেজি, তেল ৮-১০ লিটার, আলু ১০ কেজি, ছোলা ৩-৫ কেজি, পেঁয়াজ ১২-১৫ কেজি, রসুন ১ কেজি, আদা ২ কেজি, চিনি ৮-১০ কেজি. বেসন ৩ কেজি, ঘি ৫০০ মিলিলিটার, এ ছাড়া আগে থেকে কিনে রাখতে পারেন মাছ-মাংস। প্রয়োজন অনুসারে নিতে পারেন আটা, ময়দা, চিড়া, মুড়ি ও গুড়। মসলার মধ্যে নিতে পারেন মরিচ, হলুদ, ধনেগুঁড়া, জিরা, তেজপাতা, দারুচিনি, লবঙ্গ ইত্যাদি।