মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে প্রধান নির্বাহী

মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এই পেশায় ভােলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ অনেক। দক্ষতা দিয়ে আপনিও পেঁৗছাতে পারেন প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে উঁচু স্তরে। কৃতজ্ঞতা: এসকেএফ বাংলাদেশ লিমিটেড। ছবি: জাহিদুল করিম
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এই পেশায় ভােলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ অনেক। দক্ষতা দিয়ে আপনিও পেঁৗছাতে পারেন প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে উঁচু স্তরে। কৃতজ্ঞতা: এসকেএফ বাংলাদেশ লিমিটেড। ছবি: জাহিদুল করিম

মো. রফিকুল ইসলাম মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে শুরু করে হয়েছিলেন আরএকে ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী। এম মহিবুজ্ জামানও এমআর হিসেবে শুরু করে বর্তমানে এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা

মো. রফিকুল ইসলাম। ৩৭ বছর আগে একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ (এমআর) হিসেবে শুরু করেছিলেন কর্মজীবন। ২০১১ সালে আরএকে ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে চাকরিজীবনের ইতি টানেন।

এম মহিবুজ্ জামানও একজন সফল মানুষ। ১৯৮০ সালে বেক্সিমকো ফার্মার অধীনে একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে শুরু করেছিলেন কর্মজীবন। বর্তমানে এসিআই ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) হিসেবে কর্মরত আছেন।

দেশে ওষুধ কোম্পানিগুলোর প্রসার হচ্ছে দিন দিন। কোম্পানিগুলো নিয়মিত নতুন নতুন ওষুধ বাজারে নিয়ে আসছে। আর আগের ওষুধ তো আছেই। সেই ওষুধগুলোর পরিচিত চিকিৎসকদের কাছে তুলে ধরার দায়িত্ব মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের।

এটি একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। যাঁরা এ পেশায় যেতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারেন এ দুই ব্যক্তি। দুজনই নিজ নিজ পেশায় সফল। একেবারে নিচুতলা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছেন।

এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে গ্লাক্সো, ওয়েথ ইন্টারন্যাশনাল, একমি ও আরএকের মতো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলোয় কাজ করেছেন রফিকুল ইসলাম। অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বললেন, ‘এ পেশায় ভালো করতে হলে অবশ্যই দক্ষতা প্রয়োজন। তবে সেই সঙ্গে কাজের প্রতি নিষ্ঠা, প্রতিশ্রুতি ও সততা থাকতে হবে।’

মো. রফিকুল ইসলাম,এম মহিবুজ্ জামান
মো. রফিকুল ইসলাম,এম মহিবুজ্ জামান

বেক্সিমকো, এসকেএফ ও এসিআইতে কাজ করা এম মহিবুজ্ জামান মনে করেন, দক্ষতা ও যোগ্যতা অবশ্যই প্রয়োজন। এর সঙ্গে কাজটাকে উপভোগ করাও প্রয়োজন। কাজ যদি উপভোগ করা হয়, তাহলে কাজে আরও বেশি দক্ষতা আসবে। মহিবুজ্ জামান বলেন, ‘কাজের মধ্যে আনন্দ থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় জিনিস কাজের মধ্যে নিজের আগ্রহটা খুঁজে নেওয়া।’
মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিটিভ বা মেডিকেল প্রমোশন অফিসারের কাজটি হলো মার্কেটিং বা বিপণনের। কোন কোম্পানি কী ওষুধ বানাচ্ছে, এর গুণাবলি কী, কোন রোগের জন্য কোন ওষুধ কাজ করবে সেসব চিকিৎসকদের কাছে তুলে ধরা।
যেহেতু কাজই হচ্ছে নিজের পণ্যের সঙ্গে অন্যকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, সেহেতু পণ্য সম্পর্কে সঠিক এবং পরিপূর্ণ জ্ঞান অবশ্যই প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। এ জন্য প্রতিটি ওষুধ বা পণ্য সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে হবে। তাই যাঁরা এ পেশায় আসতে চান, তাঁদের সারাক্ষণ শেখার মধ্যেই থাকতে হবে। নিজে যেটা জানছেন, তা সঠিকভাবে অন্যদের জানাতে হবে। তাই এ পেশায় যোগাযোগের দক্ষতা সফলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও আবিশ্যক চাবিকাঠি বলে মনে করেন রফিকুল ও মহিবুজ্।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যত দক্ষই হই না কেন, আমার সঙ্গে যদি অন্য কেউ না মেশে বা আমি যদি কারও সঙ্গে মিশতে না পারি, তাহলে মার্কেটিংয়ে ভালো করা যাবে না।’ মহিবুজ্ জামান বলেন, ‘এ পেশাতে যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি জানান, যোগাযোগটা হতে পারে দুভাবে—এক. মুখের কথায় এবং দুই. শারীরিক ভাষা। সুন্দর কথার মাধ্যমে পণ্যের পরিচয় তুলে ধরতে হবে। আবার শরীরের ভাষা দিয়ে শ্রোতাকে কথা শুনতে আগ্রহী করে তুলতে হবে।
দীর্ঘ চাকরিজীবনে প্রায় ৬৭টি দেশ ভ্রমণ করেছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বর্তমানে বিপণন পরামর্শকের কাজ করেন এবং বিভিন্ন কোম্পানিতে যঁারা বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে আছেন এবং কাজ করতে ইচ্ছুক, তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত সম্পর্কটা আমি বাড়িয়েছি। আমি কথা বলতে পছন্দ করি। প্রতিদিন অন্তত একজন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হই। এ পেশায় উন্নতির জন্য এটি খুব বেশি প্রয়োজন।’
বর্তমানে তরুণদের এ পেশায় আসতে আরও আগ্রহী করতে ওষুধ কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব আছে বলে মনে করেন রফিকুল ও মহিবুজ্। রফিকুল বলেন, ‘অনুশীলন ও পণ্য সম্পর্কে জ্ঞান এ পেশায় অত্যন্ত দরকারি জিনিস। একটা ছেলের যদি সারাক্ষণ চাকরির ভয় থাকে, তাহলে সে পড়ালেখা করবে কীভাবে!’
চিকিৎসকেরাও ব্যস্ততার কারণে এমআরদের সময় দিতে চান না বলে রফিকুল মন্তব্য করেন। মুহিবুজের মতে, সঠিক সময় এবং সঠিক পথটা জানতে হবে চিকিৎকদের কাছে যাওয়ার জন্য। তিনি বলেন, ‘কারও যদি অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে সে যেন মনে করে একটি ভালো কাজের জন্য অপেক্ষা করছে। প্রত্যেককে বিশ্বাস করতে হবে, এটি একটি মহৎ পেশা।’