যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী দীঘিনালার পাঁচ সড়ক

গত কয়েক মাসে তিনবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার পাঁচটি অভ্যন্তরীণ সড়ক। এসব সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। কোনো কোনো সড়কের দুই পাশই ভেঙে গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকার লোকজন।
সাম্প্রতিক সময়ে পরপর তিনবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব সড়ক। এগুলোর মধ্যে বোয়ালখালী-জামতলী সড়কটি খালের ভাঙনের কবলে পড়েছে। ইতিমধ্যে সড়কের একটি অংশ খালে বিলীনও হয়ে গেছে। এসব সড়ক দিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এএলজিইডি) কর্মকর্তারা জানান, সড়কগুলো সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো হলো কবাখালী-তারাবুনীয়া সড়ক, কাঁঠালতলী-ঘাটপাড় সড়ক, বোয়ালখালী-জামতলী সড়ক, অনাথ আশ্রম সড়ক ও বাঘাইছড়ি মুখ-গোবিন্দ কারবারিপাড়া সড়ক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কবাখালী-তারাবুনীয়া এলাকার ১১ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে যে দুই কিলোমিটারে পিচঢালাই করা আছে, সে অংশটি পুরোপুরি ভেঙে গেছে। সড়কের ওই অংশ এখন যান চলাচলের অনুপযোগী। কঁাঠালতলী-ঘাটপাড় সড়কের ৫৩০ মিটার এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। এই সড়কেও এখন যান চলাচল করছে না। বোয়ালখালী-জামতলী ১ দশমিক ৯ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দ ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। অনাথ আশ্রম সড়কের ৮৭০ মিটার পিচঢালাই সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ভেঙে গেছে বাঘাইছড়িমুখ-গোবিন্দ কারবারিপাড়া সড়কের এক কিলোমিটার এলাকা। এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, সড়কগুলো সর্বশেষ সংস্কার হয়েছিল সাত বছর আগে। বর্তমানে এগুলো সংস্কারের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু বরাদ্দ না পাওয়ায় সড়কগুলো সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।
কবাখালী-তারাবুনীয়া সড়কে চলাচলকারী গাড়ির চালক সাহাবুদ্দিন ও মো. জয়নাল বলেন, এ সড়ক দিয়ে গাড়ি চালালে প্রতিদিন গ্যারেজে যেতে হয়। গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। আর ঝুঁকিও রয়েছে।
হাচিনসনপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবপ্রিয় বড়ুয়া বলেন, ‘সড়কের যে নাজুক অবস্থা তা বলার মতো নয়। আমার বিদ্যালয়ে কয়েক শ শিক্ষার্থী এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে।’
কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বিশ্ব কল্যাণ চাকমা বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রায় ১০ হাজার লোক যাতায়াত করে। সড়কটি দিয়ে এখন মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
কাঁঠালতলী শ্মশান এলাকা থেকে বোয়ালখালী পুরাতন বাজার পর্যন্ত সড়কের সম্পূর্ণই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটি দিয়ে চালকেরা এখন যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছেন। এ সড়কের অটোরিকশাচালক পেয়ারুল ইসলাম, দ্বিন ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আবুল খায়ের বলেন, ‘আমরা ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে আর গাড়ি চালাচ্ছি না।’
দীঘিনালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা বলেন, ‘পাঁচটি সড়কের নাজুক অবস্থার কথা আমাকে অনেকেই বলেছে। আমি সড়কগুলো সরেজমিনেও দেখেছি। এগুলো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক সংস্কারের প্রস্তাব তোলা হবে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভার কার্যবিবরণীতে।’
এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. ওসমান গনি বলেন, ‘সড়কগুলো সংস্কার করা খুবই প্রয়োজন। আমরা পাঁচটি সড়কের প্রাক্কলন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। সড়ক সংস্কারে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ হবে। বরাদ্দ না পাওয়ায় সড়কগুলো সংস্কার করা সম্ভব হয়নি।’