রাঙামাটিতে মৌসুমি ফলের জমজমাট বিকিকিনি

দূর–দূরান্ত থেকে কাঁঠাল ও নানা মৌসুমি ফলভর্তি নৌকা ভিড়েছে ঘাটে। রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকার সমতা বাজার ঘাট থেকে ছবিটি মঙ্গলবার বিকেলে তোলা l সুপ্রিয় চাকমা
দূর–দূরান্ত থেকে কাঁঠাল ও নানা মৌসুমি ফলভর্তি নৌকা ভিড়েছে ঘাটে। রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকার সমতা বাজার ঘাট থেকে ছবিটি মঙ্গলবার বিকেলে তোলা l সুপ্রিয় চাকমা

রাঙামাটিতে মৌসুমি ফলের ব্যবসা জমে উঠেছে। বাগানে ও হাটবাজারের সর্বত্রই এখন আনারস, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপে, জাম্বুরা, বেলসহ নানা মৌসুমি ফল চোখে পড়ছে। বেড়েছে মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও। এ বছর ফলের দামও উঠেছে। লাভের মুখ দেখায় খুশি ফল চাষিরা।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রমণী কান্তি চাকমা বলেন, এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বৃষ্টি হওয়ায় আম্রপালি আমের ফলনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে কাঁঠাল, আনারস, লিচুসহ অন্যান্য মৌসুমি ফল উৎপাদনের উপযোগী আবহাওয়া ছিল।
রাঙামাটি কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর ২ হাজার ৯৫৫ হেক্টরে আম, ৩ হাজার ৮৬৩ হেক্টরে কাঁঠাল, ১ হাজার ৪৯৫ হেক্টরে লিচু, ১৩ হাজার ৭৫০ হেক্টরে কলা, ১ হাজার ৯৯২ হেক্টরে আনারস, ১ হাজার ২০০ হেক্টরে জাম্বুরা, ৭৬০ হেক্টরে কমলা ও ১৩৫ হেক্টরে তরমুজের চাষ হয়েছে।
চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর মৌসুমি ফলের দাম বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে। অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে গাছ বা বাগান থেকে আনারস কাঁঠাল কিনছেন। আবার অনেক চাষি নিজেরা বাজারে নিয়ে এসে উৎপাদিত ফল বিক্রি করছেন।
মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী চট্টগ্রামের জহির উদ্দিন ও ঢাকার বিমল তরফদারের ধারণা রাঙামাটি জেলায় বছরে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার মৌসুমি ফলের ব্যবসা হয়। এ সময়টাই সবচেয়ে বেশি মৌসুমি ফল পাওয়া যায় বলে তাঁরা জানান। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর বিভিন্ন মৌসুমি ফল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও ব্যবসায় কী পরিমাণ লেনদেন হয় তার হিসাব নেই ওই সংস্থার কাছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজ এখনো বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে তা প্রায় শেষ পর্যায়ে। আনারস ও পেঁপের এখন ভরা সময়। কলা সারা বছর পাওয়া গেলেও এ সময়ে পুষ্ট থাকে। কাঁঠাল ও লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে। আম পাকতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তবে কাঁচা আম হাটের দিনে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বেলসহ নানা মৌসুমি ফলও বাজারে পাওয়া যায়।
সরেজমিনে কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ফলের দাম আকারভেদে ভিন্ন। রাঙামাটি শহরের কলেজ গেট এলাকায় নিজ বাগানের আনারস বিক্রি করছেন ধনঞ্জয় চাকমা। প্রতিটি আনারসের দাম আকারভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকা। তিনি বলেন, এ বছর রোদ বেশি থাকায় আনারস আগাম পাকতে শুরু করেছে। বাজারে কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ টাকায়। বেল ১০ থেকে ২৫ টাকা এবং পেঁপে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের বড়াদাম মানকিছড়ি মুখ এলাকার কিরণ বিকাশ চাকমার (৫২) বাগানে লিচু পাকতে শুরু করেছে। গত রোববার প্রথম আলোকে জানান, বাগানে ১৫০টি গাছ রয়েছে। লিচু মুকুল অবস্থায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী মো. মোসলেউদ্দিনের কাছে পুরো বাগান দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। বাগানে পাঁচ লাখের মতো লিচু আছে বলে তিনি জানান। অপরদিকে বাজারে আসা প্রতি ১০০ লিচু খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে প্রতিদিন রাঙামাটি শহরের ট্রাক টার্মিনাল ঘাট ও বনরূপা সমতা ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন নৌযানে করে মৌসুমি ফল আনা হচ্ছে। এসব ফল ট্রাকে করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া রাঙামাটি খাগড়াছড়ি সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক পথে নিয়ে যাওয়া হয় মৌসুমি ফল।
ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় কথা হয় চট্টগ্রামের মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, এ বছর কয়েকজনের কাছ থেকে আনারসের বাগান কিনেছেন। প্রতিটি আনারসের দাম পড়বে গড়ে ১০ টাকা করে। সেগুলো ট্রলারে করে ট্রাক টার্মিনাল ঘাটে এনে চট্টগ্রাম নিয়ে যান। ফল বেচে লাভ ভালো হচ্ছে বলে তিনি জানান।