শব্দনোঙরের আবৃত্তি মেলা

নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্ত মঞ্চে শব্দনোঙরের আবৃত্তি মেলায় মারমা সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনা l ছবি: সংগৃহীত
নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্ত মঞ্চে শব্দনোঙরের আবৃত্তি মেলায় মারমা সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনা l ছবি: সংগৃহীত

নগরের জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা, প্রেম, ভালোবাসা ও দ্রোহের পঙ্ক্তিমালা নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো আবৃত্তি সংগঠন শব্দনোঙরের কাজী সব্যসাচী আবৃত্তি মেলা। তিন দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয় ২২ ফেব্রুয়ারি। পর্দা নামে ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়।
উদ্বোধনী আয়োজনেই জমে যায় অনুষ্ঠান। সূর্য ডোবার আগ মুহূর্তে ঢোলবাদন, আতশবাজি ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় জমজমাট হয়ে ওঠে শিল্পকলা একাডেমির অনিরুদ্ধ মুক্তমঞ্চ। মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী আরিফ। সংগঠনের সভাপতি হাসান জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। অতিথি ছিলেন ভারতের কলকাতার নাট্যাভিনেতা সুদিন অধিকারী, ভাষাবিজ্ঞানী মাহবুবুল হক, বাচিক শিল্পী রণজিৎ রক্ষিত, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও নজরুলগবেষক মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দিলরুবা খানম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আবৃত্তি মেলা কমিটির আহ্বায়ক জাহেদুল আলম। এবারের শব্দনোঙর কাজী সব্যসাচী সম্মাননা দেওয়া হয় শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম ও বাচিক শিল্পী রণজিৎ রক্ষিতকে। ভাষা ও সাহিত্য সম্মাননা পান ভাষাবিজ্ঞানী মাহবুবুল হক।
আসরের শুরুতে উদ্বোধনী আবৃত্তির সঙ্গে নৃত্যে অংশ নেন ধ্রুপদি বড়ুয়া ও মাহবুবুল্লাহ রাফি। এরপর ‘ভাষার লড়াই’ ও ‘আমরা যদি না জাগি মা’ শিরোনামে বৃন্দ আবৃত্তিতে অংশ নেন শব্দনোঙরের শিল্পীরা। বৃন্দের পর একক আবৃত্তি করেন সংগঠনের সদস্য সঞ্জয় সুন্দর, ঈপ্সিতা জাহান, আবদুর রহিম, নিবেদিতা পাল, সিফাত সরওয়ার, সোহেল সরদার, জাহেদুল আলম ও আবদুল্লাহ আল মারুফ। আবৃত্তির পর আবারও নাচ। পরিবেশন করেন সুরঙ্গন বিদ্যাপীঠের শিল্পীরা। এরপর শ্রুতি নাটক। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত দম্বল ও ইকেবানা শ্রুতিনাটক নিয়ে মঞ্চে আসেন ভারতের বাচিক শিল্পী সুদিন অধিকারী, রুমা গুহনিয়োগী ও শুভাশীষ গুহনিয়োগী। তাঁদের পরিবেশনা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। এরপর ছিল দ্বৈত আবৃত্তি ও মারমা সাংস্কৃতিক দলের নাচ। তাঁদের পরিবেশনার পর মঞ্চ মাতান চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গানের খ্যাতনামা শিল্পী সনজিত আচার্য্য ও কল্যাণী ঘোষ। গানের পর দর্শকদের আবারও আবৃত্তিতে ফেরায় মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদ। সবশেষে এককে মুগ্ধতা ছড়ান কাজী আরিফ, ফয়জুল্লাহ সাঈদ, অঞ্চল চৌধুরী, মিলি চৌধুরী, মসরুর হোসেন, দেবাশীষ রুদ্র ও লুবাবা ফেরদৌসী।
দ্বিতীয় দিনে ছিল শ্রুতিনাটক এবং গানের সঙ্গে আবৃত্তি, একক, দ্বৈত ও বৃন্দ আবৃত্তি। এ ছাড়া ছিল জাগরণ সংগীত দলের পরিবেশনা ও পঞ্চকবির গান। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। অতিথি ছিলেন নাট্যাভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ও শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম। কথামালার পর শব্দসৈনিক আশরাফুল আলমের জীবনী পাঠ করেন সারাবান তানিয়া।
এরপর একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিল্পী রেজিনাওয়ালী লীনা, খান মাজহারুল হক, কাজী মাহতাব, শরীফ আহমেদ, জয় দেব সাহা, আহসান উল্লাহ, মনিরুল ইসলাম ও নাসিমা খান। একক আবৃত্তির পর ছিল শ্রুতিনাটক ও গানের সঙ্গে আবৃত্তি। পরে ‘প্রমিত উচ্চারণের গুরুত্ব’ শিরোনামে গম্ভীরা পরিবেশন করে সংগঠনের শিল্পীরা। এরপর পঞ্চকবির গান পরিবেশন করেন আবদুর রহিম, শীলা চৌধুরী, মুনমুন চৌধুরী, চন্দ্রিমা ভৌমিক, তাপস কুমার বড়ুয়া ও পর্ণা মুৎসুদ্দি। এবার দলীয় পরিবেশনা। মঞ্চ মাতিয়ে যায় ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দল ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাস। সবশেেষ নিরূপ মিত্রের রচনায় দূরভাষিণী শ্রুতিনাটক পরিবেশন করেন ভারতের কলকাতার শিল্পীরা।