শুধু পাঠক নয়, লেখকও তৈরি করছে ঢাবি সাহিত্য সংসদ
ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের পেজের কভার ছবিতে চোখ আটকে গেল। লেখা আছে জীবনানন্দ দাশের দুজন কবিতার সেই বিখ্যাত পঙ্ক্তি, ‘প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়।’ সংগঠনের ফেসবুক পেজজুড়ে বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাতজনদের এমন বহু উদ্ধৃতি চোখে পড়বে। ২০১৭ সালের ৩ মার্চ কজন উদ্যমী তরুণ সাহিত্যপ্রেমীদের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে এই সংগঠন।
অনলাইনে এই সংগঠন বেশ সরব। প্রায় প্রতিদিনই একাধিক কবিতা, ছোট গল্প, গুণীজনের বাণী, উপন্যাসের চুম্বক অংশ, আবৃত্তি ও সাহিত্যভিত্তিক চলচ্চিত্রের ভিডিও, সাহিত্যিকদের দুষ্প্রাপ্য ছবিও দেখা যায় সেখানে। কবি-সাহিত্যিকদের জন্মদিন এবং মৃত্যুদিনে তাঁদের ছবিসহ পরিচিতি, উল্লেখযোগ্য সাহিত্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত লেখেন সংগঠনের সদস্যরা।
অফলাইনেও আছে তাঁদের নানা কার্যক্রম। প্রায়ই সাহিত্যিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘সাহিত্য আড্ডা’র আয়োজন করেন তাঁরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আগ্রহী অনেকেই এতে অংশ নেন। এখন পর্যন্ত ৫০টিরও বেশি সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের লেখালেখির চর্চাতেও সমানভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ। ২০১৭ সালে সংগঠনের প্রথম বছরেই বের হয় কাব্য সংকলন—‘জন্মাতে চাই প্রাক্তন সময়ের গর্ভে’। পরের বছর প্রকাশ পায় ‘আকাশমুখী রৌদ্রের ঘ্রাণ’। ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো ‘প্রাকৃত পুরাণ’ নামে গল্প সংকলন প্রকাশ করেন তাঁরা। ২০১৯ সালে প্রথম সাহিত্য পত্রিকা ‘অনুরণন’ প্রকাশিত হয়, পরে করোনাকালে যা ‘গঙ্গাঋদ্ধি’ নামে অনলাইন সংস্করণ আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২২ সালের বইমেলায় লিটল ম্যাগ প্যাভিলিয়নে ‘ডাহুক’ নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদের নিজস্ব স্টলও থাকছে। ডাহুক মূলত সংগঠনটির একটি ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ফয়সাল আহমেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা। তিনি বলেন, ‘আগামী বছর আমাদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বড় পরিসরে একটি সাহিত্য সম্মেলন করার ইচ্ছে আছে। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংসদ পুরস্কার প্রবর্তনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।একুশে বইমেলায় একটি কাব্য এবং একটি গল্প-সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি বিশেষ কাব্য সংকলন প্রকাশের কাজও চলছে।’