সবজি চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ফটিকছড়ির কৃষকেরা

শীতকালীন সবজি আগাম বাজারে তুলতে পারলেই বেশি লাভ, আর একটু দেরি হলেই বেচতে হয় পানির দরে। এ কারণে ফটিকছড়ি উপজেলার কৃষকেরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। লক্ষ্য, ভরা মৌসুমের আগেই সবজির বাজার ধরা।
উপজেলার কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ হবে। তবে বেসরকারিভাবে লক্ষ্যমাত্রা আরও বেশি। উপজেলার কাঞ্চননগর শাকসবজি চাষের প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে মুলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, ঢ্যঁাড়শ, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক ও পেঁয়াজের চাষ হয়।
উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা শীতের সবজির চারা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ সবজির চারা খেতে লাগাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ খেত আগাছামুক্ত করতে নিড়ানি দিচ্ছেন। এ সময় চৌমুহনী এলাকার চাষি মো. এনামুল হকের (৪৫) সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, তাঁর ৬০ শতক জমি রয়েছে। পুরো জমিতেই তিনি বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন শাকসবজি চাষ করছেন। শ্রমিকের মজুরি বেশি, তাই নিজের ছেলেদের নিয়ে খেতে নেমে পড়েছেন বিভিন্ন কাজে।
কাঞ্চনপুর গ্রামের চাষি মো. এয়াকুব আলী (৪০) জানান, তিনি এবার ২৬ শতাংশ জমিতে ফুলকপির চাষ করছেন। শীতের আগে শীতকালীন সবজি বাজারে তোলা হলে তার চাহিদা বেশি থাকে। ফলে সেগুলোর দামও বেশি পাওয়া যায়। তিনি আশা করছেন, শীত আসার আগেই তিনি শাকসবজি বাজারে তুলতে পারবেন।
উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শিবু রাম কৃষ্ণ দে প্রথম আলোকে জানান, এসব এলাকার চাষিদের বিশেষ নজর থাকে শীতকালীন সবজির দিকে। এখন চাষিরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। কে কত ভালো আবাদ করতে পারেন, তার প্রতিযোগিতা চলছে। এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া সবজি চাষের বিশেষ উপযোগী রয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ প্রথম আলোকে জানান, ‘উপজেলায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষাবাদ হবে। প্রাকৃতিকভাবে পরিবেশ ভালো থাকলে এবার বাম্পার ফলনের আশা করছি। এ লক্ষ্যে আমরা স্থানীয়ভাবে কৃষকদের নানা রকম সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’