
কাছের কেউ, বন্ধু বা সহকর্মীর বিয়ে। একা তো উপহার দেওয়াই যায়। কিন্তু সবাই মিলে দিলে হয়তো দামি কোনো বা প্রয়োজনীয় উপহার দিতে পারবেন। আগে দেখা যেত সোনার গয়না বা দামি কোনো আসবাব সবাই মিলে দিত। এখন ইলেকট্রনিকস পণ্য থেকে শুরু করে মধুচন্দ্রিমার প্যাকেজও দলেবলে দিচ্ছে।
তবে এই উপহার দেওয়ার সময় সবার মতামত নিতে হবে। আগে জেনে নেওয়ার সুযোগ থাকলে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করে নিন, কোনো কিছু তাঁর লাগবে কি না। দলেবলে যে উপহারটি দেওয়া যায়, সেটি একা দেওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না।
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের গৃহ ব্যবস্থাপনা ও গৃহায়ণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রীনাত ফউজিয়া বলেন, বন্ধু বা সহকর্মীর জন্মদিন, তাঁদের সন্তানের জন্মদিন বা বিশেষ কোনো দিন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী উপহারের ধরন ভিন্ন হয়। উপহার সব সময় দামি কিছু দিতে হবে, তা নয়। শুরুতে বাজেট ঠিক করে নিন। আর প্রত্যেকের ভাগে কত টাকা করে পড়বে, আলোচনা করে ঠিক করতে হবে।
খুব কাছের কারও বিয়েতে একসঙ্গে বর-কনের জন্য দেশের ভেতর বা বাইরে মধুচন্দ্রিমার জন্য আসা-যাওয়ার টিকিটসহ থাকার বন্দোবস্ত করে দিতে পারেন। দিতে পারেন ঘর সাজানোর জিনিসপত্র। দলের জনপ্রতি চাঁদা বেশি হলে মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ওয়াশিং মেশিন বা ফ্রিজও দিতে পারেন। আর কাছের বন্ধু হলে তাঁকে খোলামেলা জিজ্ঞেস করে নিতে পারেন তার কোন জিনিস দরকার।
দেশীয় ফ্যাশন হাউস যাত্রার ডিজাইনার দলের পক্ষে উর্মিলা শুক্লা বলেন, সহকর্মী বা বন্ধুরা মিলে উপহার দেওয়ার সুবিধা অনেক। উপহার কিনতে গিয়ে বাজেটের কমবেশি হলেও ক্ষতি নেই। আবার তাকে একটা বড় অঙ্কের গিফট ভাউচারও দেওয়া যায়। এতে তার নিজের রুচি ও পছন্দে নিজের উপহার কিনে নেওয়ারও সুযোগ থাকে।
শুধু কি বিয়ে, কাছের কারও সন্তানের জন্মদিন বা বন্ধুর জন্মদিনে নিমন্ত্রণ। দলেবলে সেই শিশুকে একটা সুন্দর সাইকেল দেওয়া যেতে পারে। বন্ধুর হয়তো খুব পছন্দের কিছু তার নিজের জন্য কখনো কেনা হয়ে ওঠেনি। উপহারটি হতে পারে পছন্দের ব্র্যান্ডের কোনো ঘড়ি বা বিশেষ মডেলের মুঠোফোন। এ উপহারগুলো বন্ধু বা সহকর্মীর বিদায়ের দিনেও হতে পারে। দীর্ঘদিনের জন্য প্রবাসে যাচ্ছেন, এমন কারও ক্ষেত্রে এমন উপহার নির্বাচন করুন, যেন সে সেটি সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারে। কাজে লাগে এমন উপহারের সঙ্গে স্মৃতিতে জুড়ে থাকে এমন কিছু উপহারও যোগ করে দিতে ভুলবেন না। সেটি হতে পারে সবার সই করা শুভকামনাবাহী একটি কার্ড কিংবা ফ্রেমে বন্দী রঙিন মুহূর্ত।